kalerkantho


বিপণনে ইনবাউন্ড

ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় পণ্য ও সেবার বিপণন ও প্রচারণায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। প্রচলিত মাধ্যমের জায়গা দখল করছে নিত্যনতুন উপায়। এমনই এক সুবিধা ইনবাউন্ড নিয়ে লিখেছেন তানভির রেজওয়ান

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মোবাইল ফোন কেনা থেকে শুরু করে কোথায় খেতে যাবেন, কোন পার্লার ভালো সাজায় কিংবা হালের ফ্যাশন কী—জানতে আমরা এখন ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল সাইটে চোখ রাখছি।

পরিবর্তিত এই অভ্যাসের কারণে বিপণন ও প্রচারণায় এসেছে আমূল পরিবর্তন।

ক্রেতা বা ভোক্তাদের নজর কাড়তে পণ্য ও সেবা প্রচারণায় এত দিন সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন পোর্টাল, বিলবোর্ড, ব্যানার-পোস্টার ভরসা থাকলেও এখন সরাসরি কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করাই প্রধান লক্ষ্য। তাই ইন্টারনেটে পণ্যের ইতিবাচক প্রচারণা ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনের দিকে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্রেতা বা ভোক্তা কোনো পণ্যের তথ্য জানতে গুগলে সার্চ দিলে শত শত পাতা চলে আসে। এগুলোর মধ্যে প্রথম পাতার তথ্য দেখেই সিদ্ধান্ত নেন বেশির ভাগ ক্রেতা। তাই পণ্য নির্মাতারাও সার্চ ইঞ্জিনে প্রথম পাতায় থাকার প্রতিযোগিতা করে। সার্চে নিজেদের পণ্যের তথ্য শুরুর দিকের পাতায় রাখতে সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিংই ভরসা। এর জন্য করতে হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি এখন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের মতো ‘ইনবাউন্ড মার্কেটিং’ ব্যবস্থা। ক্রেতাকে সঠিক তথ্য দিয়ে তাঁর কাঙ্ক্ষিত উপায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করাই ইনবাউন্ড মার্কেটিংয়ের মূল সূত্র। প্রথাগত বিপণনে যেমন ক্রেতাকে বারবার একই বিজ্ঞাপন না চাইলেও দেখিয়ে বিরক্ত করা হয়; ঠিক তার উল্টোটাই  করা হয় ইনবাউন্ড মার্কেটিংয়ে।

কোন বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন, সার্চ দিয়ে দরকারি পোস্টও পেলেন। পোস্টে দরকারি তথ্যের পাশাপাশি এ ধরনের আরো কিছু তথ্য জুড়ে দেওয়া হলো। যেমন—কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি পণ্যের তথ্যের পাশাপাশি আরো কিছু পণ্যের তথ্য পোস্টের সঙ্গে লিংক বা অন্য কোনোভাবে জুড়ে দেওয়া হলো। এটা ইনবাউন্ড।

আবার আপনি কোনো সাইটে ব্রাউজ করছেন, হুট করে একটি পপআপ বিজ্ঞাপন স্ক্রিনে এলো। অর্থাৎ আপনি এটা নিজে থেকে চাননি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপনটি দেখাল। এটা আউটবাউন্ড।

 

ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড বিপণন যেভাবে কাজ করছে

আউটবাউন্ড বিপণনে দর্শক-শ্রোতা না চাইলেও বিজ্ঞাপন দেখতে হয়। সহজ উদাহরণ দিয়ে বললে, কেউ হয়তো ফ্ল্যাট কিনবেন না, অথচ তাঁকে ফ্ল্যাটের বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। টিভি, সংবাদপত্র, বেতার, টেলিমার্কেটিং, বিলবোর্ডে, এমনকি ই-মেইলেও অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্য পৌঁছে। ইনবাউন্ড বিপণনে সেবা দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে শুরু থেকেই সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হয়। তাই পণ্য ও সেবা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া ও পাওয়া যায়। একটা পণ্য ক্রয়ের জন্য সম্ভাব্য ক্রেতার যখন যে ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয় তা তাঁকে তাঁর মতো করে সরবরাহ করাই ইনবাউন্ড মার্কেটিংয়ের সফলতার রহস্য। আর ক্রেতাকে সন্তুষ্ট করতে পারলে যত বড় প্রতিযোগীই আসুক না কেন, প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কখনোই খুব বেশি কষ্টকর নয়।

 

গুগল সার্চে সর্বোচ্চ সুবিধা

ইনবাউন্ড বিপণনে গুগল সার্চই আসল আশ্রয়। তবে গড়পড়তা সার্চের বদলে ‘অ্যাডভান্সড সার্চ’ না দিলে কার্যকর ফল পাওয়া যায় না। যেমন—আপেল সম্পর্কে কিছু জানতে চাচ্ছেন, সে ক্ষেত্রে শুধু আপেল না লিখে সার্চ বক্সে ‘আপেল’ লিখলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। আরো নির্দিষ্ট করে যদি কালের কণ্ঠ’র অনলাইনে আপেল সম্পর্কে প্রকাশিত কোনো তথ্য জানতে চান সে ক্ষেত্রে ‘আপেল’: http://www.kalerkantho.com লিখলে আরো সুনির্দিষ্ট ফল পাওয়া যাবে। আবার মাশরাফির ইনজুরি সম্পর্কে যদি জানতে চান, সে ক্ষেত্রে শুধু ‘মাশরাফি’ না লিখে ‘মাশরাফি-ইনজুরি’ লিখে সার্চ দিলে নির্দিষ্ট ফল পাওয়া যাবে। আরো নির্দিষ্ট ফল পাওয়া যায়। যেমন—internet marketing সম্পর্কে কোনো পাওয়ার পয়েন্ট ফাইল খুঁজতে চাইলে ‘internet marketing’filetype:pptx লিখে সার্চ দিলে ইন্টারনেট মার্কেটিং বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট ফাইল পাওয়া যাবে।


মন্তব্য