kalerkantho


হরেক রকম স্পিকার

কম্পিউটারে গেইম খেলা, মুভি দেখা, গান শোনাসহ অনেক কাজে সাউন্ড সিস্টেম বা স্পিকার লাগে। চলতি সময়ে স্পিকারে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। বদলে যাচ্ছে ধরনও। কোন কাজের জন্য কেমন স্পিকার দরকার, দাম ও ধরন কেমন ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন তুসিন আহম্মেদ

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



হরেক রকম স্পিকার

ছবি: তারেক আজিজ নিশক

এক অথবা একাধিক যন্ত্র ও ফিল্টারের সমন্বয়ে স্পিকার তৈরি হয়। উফার ও সাব-উফারসহ ২: ১, ৪: ১, ৫: ১ বা ৭: ১ হিসেবে স্পিকার বিক্রি করা হয়।

বাজারে সাধারণের পাশাপাশি ব্লুটুথ, পোর্টেবল, ওয়্যারলেস বিভিন্ন সুবিধার স্পিকার আছে।

 

কেনার সময় জানতে হবে

ফোন বা ল্যাপটপ কেনার সময় আমরা কনফিগারেশন দেখে কিনি। কিন্তু স্পিকার কেনার সময় কনফিগারেশনের বিষয়টা নজর এড়িয়ে যায়। পরে ব্যবহার করতে গিয়ে হতাশ হতে হয়। স্পিকারের কনফিগারেশনসহ অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে জানাশোনা না থাকায় এমন হয়।

তবে স্পিকারের মোড়কের গায়েও কিন্তু বিভিন্ন সুবিধার কথা (স্পেসিফিকেশন) যেমন ওয়াট, ফ্রিকোয়েন্সি, সিগন্যাল রেশিও, ইনপুট-আউটপুট পাওয়ার, আরএমএস, রেশিও কোনটা কত তা উল্লেখ থাকে। এর মধ্যে ফ্রিকোয়েন্সি অনুপাতের হিসাবটা হার্জে দেওয়া হয়। হার্জ বেশি হলে স্পিকারে শব্দ বেশি হয়। আর কোন স্পিকার কী পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করে তা বোঝা যায় ওয়াট দেখে।

 

কারিগরি দিক

আরএমএস-আউটপুট ওয়াট : আউটপুট শক্তি মাপা হয় ওয়াটের সাহায্যে। বেশির ভাগ স্পিকারে আরএমএসের পরিমাণ লেখা থাকে। ৪: ১ স্পিকারে সাধারণত Subwoofer 5.25'' 4ohms 18 watts RMS লেখা থাকে। এখানে সাব-উফার স্পিকারটির মাপ ৫.২৫ ইঞ্চি এবং এটি ১৮ ওয়াট শক্তিসম্পন্ন। সাব-উফার সাধারণত নিম্নমানের শব্দ শোনায়।

আবার স্পিকারের বক্সে যদি Satellite 5'' 4ohms 10 watts RMS লেখা থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে স্পিকারটির স্যাটেলাইট ড্রাইভের মাপ ৪ ইঞ্চি এবং এটি ১০ ওয়াট শক্তিসম্পন্ন। স্যাটেলাইট স্পিকারগুলো মাঝারি থেকে উচ্চমানের শব্দ শোনাতে পারে।   সাউন্ড ফ্রিকোয়েন্সি দেওয়ার জন্য ব্যবহূত হয়।

এস/এন রেশিও : এস/এন রেশিও দিয়ে বোঝানো হয় স্পিকারটিতে উৎপন্ন শব্দ এবং পারিপার্শ্বিক অন্যান্য শব্দের ব্যবধান। সাধারণত এস/এন রেশিওর মান ৬৫ ডিবির ওপরে থাকলে ভালো। কেনার সময় বিষয়টা দেখে কেনা উচিত।

 

কার জন্য কেমন স্পিকার

কম শব্দে শুনতে চাইলে ২: ১ স্পিকার সিস্টেম কিনতে পারেন। মাঝারি মানের শব্দের জন্য ৪: ১ স্পিকার আদর্শ। আর খুব জোরে শুনতে হলে লাগবে ৫: ১ কিংবা ৭: ১ স্পিকার।

ল্যাপটপের জন্য ছোট স্পিকার মানানসই। ব্লুটুথ স্পিকার হলে আরো ভালো—তারের ঝামেলা নেই। ল্যাপটপের ব্যাগে পুরে সঙ্গে রাখা যায়।

অনুষ্ঠান আয়োজনে ‘রিচার্জেবল পোর্টেবল অ্যান্ড পিএ’ স্পিকার নিতে পারেন। এগুলোতে মাইক্রোফোন ব্যবহারের সুবিধা আছে। এফঅ্যান্ডডি ও ডিজিটাল-এক্স বাংলাদেশের বাজারে এ ধরনের স্পিকার বিক্রি করে। দাম পাঁচ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে।

 

দরদাম

বাজারে মাইক্রোল্যাব, ক্রিয়েটিভ, লজিটেক, অ্যাল্টেক ল্যান্সিং, এফঅ্যান্ডডি, ডিজিটাল এক্স, এক্সট্রিম, সনি ইত্যাদি ব্র্যান্ডের স্পিকার পাওয়া যায়।

মাইক্রোল্যাব : এম১০০ ২: ১ মডেলের স্পিকারটি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ টাকায়। একই মডেলের নতুন সংস্করণ এম১০০ ইউ ২: ১-এর দাম দুই হাজার ৩০০ টাকা। স্পিকারটির আউটপুট পাওয়ার ১০ ওয়াট আরএমএস, এস/এন রেশিও ৭৫ ডিবি। রয়েছে ইউএসবি টাইপ-এ এসডি কার্ড রিডার সুবিধা।

এম১০৬বিটি, এম১০৮, এম১০৯ এবং এম১১০ মডেলের স্পিকারের দাম যথাক্রমে দুই হাজার ৫০০, এক হাজার ৪০০, দুই হাজার এবং দুই হাজার ৫০০ টাকা। পোর্টেবল সুবিধাযুক্ত বি১৬ এবং বি৫১ স্পিকারের দাম ৬৯৯ এবং ৯০০ টাকা। ব্লুটুথ সুবিধাযুক্ত টি১০ ২: ১ কিনতে খরচ একটু বেশি—সাত হাজার টাকা। মাইক্রোল্যাবের ৫: ১ হোম থিয়েটার স্পিকারও আছে। দাম সাড়ে ১২ হাজার।

এফঅ্যান্ডডি : এই ব্র্যান্ডের স্পিকারের দাম এক হাজার ৫০০ থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। এ১১০ ২: ১ স্পিকারটি বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকায়। ব্লুটুথ সুবিধাযুক্ত এই মডেলটির উন্নত সংস্করণ এ১১১এক্সর দাম তিন হাজার টাকা। এ৫২০ইউ, এ৫২১ এবং এ৫২১এক্স মডেলের স্পিকার তিনটির দাম যথাক্রমে তিন হাজার ৮০০, তিন হাজার ৯০০ এবং তিন হাজার ৯৫০ টাকা।

উচ্চমানের শব্দ সুবিধা দিতে রিমোট কন্ট্রোলসহ এফঅ্যান্ডডির এফ৬০০০ইউ ৫: ১ মডেলের স্পিকারটি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৯ হাজার টাকায়।

অ্যাল্টেক ল্যান্সিং : ভিএস২৬২১ মডেলের ২: ১ স্পিকার বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ২০০ টাকায়। আর ভিএস৪৬২১ ২: ১-এর দাম পাঁচ হাজার ২০০ টাকা।

ক্রিয়েটিভ : এসবিএস এ৩৫, এসবিএস এ৫০ এবং এসবিএস এ৬০ মডেলের দাম যথাক্রমে ৮৫০, ৯০০ এবং এক হাজার টাকা। আর এসবিএস ই২৮০০ ২: ১ এবং টি৩১৫০ ২: ১ স্পিকারের দাম যথাক্রমে তিন হাজার ৫০০ এবং সাড়ে চার হাজার টাকা।

লজিটেক : জেড১২০ ইউএসবি মিনি স্পিকার বিক্রি হচ্ছে ৯৯০ টাকায়। জেড৬২৩ ২: ১ মডেলের দাম ১৫ হাজার টাকা। জেড৫০৬ ৫: ১ এবং জেড২১৩ ২: ১-এর দাম যথাক্রমে ৯ হাজার ৫০০ ও দুই হাজার টাকা। খুব ভালো মানের স্পিকার জেড৯০৬ ৫: ১ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকায়।

ডিজিটাল এক্স : এম৭৮১ বিটির দাম দুই হাজার ৫০০ টাকা। আর ই২৭৮ইউ পাওয়া যাচ্ছে দুই হাজার ৩০০ টাকায়।

এ ছাড়া এফঅ্যান্ডডি ও ডিজিটাল-এক্স ‘রিচার্জেবল পোর্টেবল অ্যান্ড পিএ’ স্পিকার বিক্রি করে। দাম পাঁচ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকার মধ্যে।

 

এখন চলছে ব্লুটুথ স্পিকার

ব্লুটুথ স্পিকার এখন ‘হট কেক’। নানা রঙের, সুবিধার, নকশার ও আকারের দৃষ্টিনন্দন ডিভাইসটি উপহার হিসেবেও খুব চলছে।

বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের পানিরোধক ব্লুটুথ স্পিকার রয়েছে। ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে এ ধরনের স্পিকারের চাহিদা রয়েছে। ভ্রমণবিষয়ক ফেইসবুক গ্রুপ বেড়াই বাংলাদেশের প্রশাসক (অ্যাডমিন) রাজু মংলা বলেন, ঘুরতে গেলে সুন্দর পরিবেশে প্রচ্ছন্ন ও পরিবেশের সঙ্গে মানানসই গান শুনতে ইচ্ছা করে। সে ক্ষেত্রে ব্লুটুথ স্পিকার থাকলে সবাই মিলে গান ও প্রকৃতি উপভোগ করা যায়। দেশের বাজারে পানিরোধক সুবিধার শাওমি, রিমেক্স, সনি, লজিটেকসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ব্লুটুথ স্পিকার পাওয়া যায়। অখ্যাত অনেক ব্র্যান্ডও আছে। তবে ব্লুটুথ স্পিকার ব্র্যান্ড দেখে কেনা উচিত। বাজারে থাকা বিভিন্ন চায়নিজ নন-ব্র্যান্ডের স্পিকারের মান ভালো হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চার্জ বা ব্যাটারি সংক্রান্ত ঝামেলা হয়।

ব্লুটুথ স্পিকারের দরদাম : লজিটেক এক্স৫০ ও এক্স১০০-এর দাম যথাক্রমে দুই হাজার ১০০ এবং দুই হাজার ৮০০ টাকা। এফঅ্যান্ডডি ডাব্লিউ৩-এর দাম চার হাজার ৫০০ টাকা। সনি এসআরএস-এক্স৫ ব্লুটুথ স্পিকারের দাম ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। সাড়ে তিন হাজার টাকা দামের রাপ্পো এ২০০ মডেলের ব্লুটুথ স্পিকারটি সাদা, সবুজ, লাল ও কালো এই চার রঙে পাওয়া যাচ্ছে। রিমেক্স এম৭ মডেলের দাম তিন হাজার ৭০০ টাকা। শাওমির মিনি ও এমআই স্কয়ার ব্লুটুথ স্পিকার বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে এক হাজার ২০০ এবং এক হাজার ৫০০ টাকায়। এ ছাড়া জেবিএলের ফিপ্ল৩ পোর্টেবল স্পিকার বিক্রি হচ্ছে ৯ হাজার ৫০০ টাকায়।

 

কোথায় পাওয়া যাবে

কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বিক্রির দোকানে স্পিকার পাওয়া যায়। ঢাকার আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবন, এলিফ্যান্ট রোডের মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে মিলবে স্পিকার। অনলাইনেও কেনা যাবে স্পিকার। অর্ডার করলে বাসায়ও পৌঁছে দেওয়া হয়। পাওয়া যাবে পিকাবুডটকম (https://goo.gl/NFc2Dm), মাল্টিমিডিয়া কিংডমের ওয়েবসাইটে (https://goo.gl/wNjggZ), দারাজডটকম (https://goo.gl/BgAEDm) এবং আজকেরডিলডটকমে (https://goo.gl/L3zK5C)।

 

কিছু টিপস

ধঅন্যান্য গ্যাজেটের মতো স্পিকারের প্রধান শত্রু ধুলাবালি। স্পিকারে যেন ধুলাবালি না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতিদিন একবার হলেও স্পিকারটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন কাপড় ভেজা না থাকে।

ধস্পিকার খোলামেলা ঘরে রাখলে ভালো শব্দ পাওয়া যায়। প্রতিধ্বনি হয় এমন ঘরে স্পিকার না রাখাই ভালো। রুমে কার্পেট থাকলে প্রতিধ্বনি কম হয়।

ধরিমোট কন্ট্রোল বা অন্য ফাংশনের জন্য স্পিকারের পেছনে বেশি টাকা খরচ না করে ব্র্যান্ড ও ভালো সাউন্ডের স্পিকার কেনা উচিত।

ধকেনার সময় অবশ্যই সাউন্ড চেক করে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে এমন দোকান থেকে কেনা উচিত যেখানে বাইরের শব্দ কম ঢোকে।


মন্তব্য