kalerkantho


গেইম

লড়াই এবার ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে

সামীউর রহমান

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



লড়াই এবার ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে

কার্ল ফেয়ারবার্নকে মনে আছে কি? মার্কিন ওএসএস এজেন্ট কিন্তু অনেক দিনের পুরনো চরিত্র! ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘটনাবলির ওপর ভিত্তি করে স্নাইপার শুটিংভিত্তিক গেইম ‘স্নাইপার এলিট’-এর। মার্কিন ওএসএস বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কার্ল ফেয়ারবার্নের প্রথম মিশন ছিল ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ ভাগে এসে সোভিয়েতদের হাতে যেন জার্মানদের পারমাণবিক গবেষণার ফল চলে না যায়, সেটা নিশ্চিত করা। ঘটনাস্থল ছিল বার্লিন। দ্বিতীয় পর্বে জার্মানদের ভি টু রকেট প্রযুক্তি যেন রুশদের হাতে না যায় সে জন্য নািস বাহিনী ও রুশ সেনাদল—সবাইকেই প্রতিপক্ষ বানাতে হয় কার্লকে। তৃতীয় পর্বে কার্লকে দেখা যায় আফ্রিকার রণাঙ্গনে, যেখানে প্রতিপক্ষের দুর্ধর্ষ সুপার ট্যাংক বানানোর পরিকল্পনা রুখে দেওয়ার কাজে নামতে হয় তাকে। চতুর্থ পর্বে কার্লের মিশন ইতালিতে। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ইতালির বিপ্লবী বাহিনীকে সাহায্য করাই এখানে কার্লের কাজ।

আগের গেইমগুলোর মতোই স্নাইপার এলিট ফোরে কার্লের প্রধান অস্ত্র টেলিস্কোপিক সাইটসহ একটি স্নাইপার রাইফেল। তবে পিস্তল, সাবমেশিনগান, ছোরাও চালাতে পারে কার্ল। যদিও শত্রুর আওতার বাইরে থেকে সন্দেহ না জাগিয়ে সাইলেন্সার লাগানো স্নাইপার রাইফেল দিয়েই কার্যসিদ্ধি এখানে মূল উদ্দেশ্য। আশপাশের জোরালো কোনো আওয়াজ চাপা দিতে পারে গুলির শব্দ, সেটা মাথায় রেখেও কৌশল বাছতে হবে গেইমারকে।

তৃতীয় পর্ব থেকেই কার্লকে নড়ানো-চড়ানোর অনেক সুবিধা বেড়েছে গেইমে। এখন কার্ল দড়ি বাওয়া কিংবা পাহাড়ি খাদের কিনারা বেয়ে ঝুলে যাওয়ারও ওস্তাদ। এভাবেই প্রচলিত রাস্তা এড়িয়ে, সঙ্গোপনে শত্রুর চোখকে ফাঁকি দিয়ে নিজেকে মিশিয়ে নিতে হবে পরিবেশের সঙ্গে। তারপর যতটা সম্ভব আত্মগোপনে থেকেই হত্যা করতে হবে শত্রুসেনা।

গেইমের মূল আকর্ষণ এক্স-রে ক্যামেরা। মর্টাল কমব্যাট গেইম যাঁরা খেলেছেন, তাঁরা হয়তো বিষয়টির সঙ্গে খানিকটা পরিচিত। দূরপাল্লার শটে শত্রু নিধন করলেই চালু হয়ে যাবে এক্স-রে ক্যামেরা। বাতাস কেটে উড়ে যাচ্ছে গুলি, শত্রুর খুলি ভেদ করে ঢুকে বেরিয়ে যাচ্ছে মগজ আর রক্ত নিয়ে কিংবা ফুটো করে দিচ্ছে হৃপিণ্ড, ফুসফুস...এমন সব গা ছমছমে দৃশ্যই দেখাবে এক্স-রে ক্যামেরা। দূর পাহাড়ে দুরবিন নিয়ে পর্যবেক্ষণে কোনো শত্রু, সেই আলোর প্রতিফলন দেখে বুলেট নিশানা করার পর যদি ঠিকঠাক হয়, তাহলে দেখা যাবে সেই দুরবিনের কাচ ভেঙে শত্রুর মাথার খুলি ফুটো করে বেরিয়ে যাচ্ছে বুলেট! এ ছাড়া শত্রুদের হত্যা করার জন্য পাতা যাবে বুবি ট্র্যাপ, নিহত শত্রুর মরদেহ দিয়ে পাতা যাবে এই মরণফাঁদ। কায়দা করে গুলি করে গাড়ির পেট্রল ট্যাংক ফাটিয়ে দিতে পারলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেরে ফেলা যাবে এক দফায় বেশ কয়েকজনকে। এভাবেই শত্রু ঘায়েল করতে হবে কার্ল ফেয়ারবার্নকে। শত্রুর অফিসারদের শুরুতেই মেরে ফেললে দ্রুত আত্মসমর্পণ করবে সৈনিকরা। তাদের শেষে মারলে বাড়বে পয়েন্ট। এখন কিভাবে কী হবে, সেটা ঠিক করতে হবে গেইমারকেই। স্নাইপার এলিট ফোরের দুনিয়াটা তৃতীয় পর্বের চেয়ে বহুগুণে বড়। শত্রুসেনারাও আরো অনেক চালাক। কাউকে অনুপস্থিত দেখলেই তার খোঁজ পড়বে। তাই সতর্কতার মাত্রা দিতে হবে বাড়িয়ে। কারণ অবস্থান ফাঁস হয়ে গেলেই যে নরক গুলজার! শত্রু তখন হামলে পড়বে ট্যাংক কামান মর্টার নিয়ে! এসব বাঁচিয়ে খেলেই ইতালিয়ান বিপ্লবীদের মুক্ত করতে হবে ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে। স্যান্ডবক্স স্টাইল ওপেন ওয়ার্ল্ড গেইম বলেই গেইমপ্লেটাও ওপেন অ্যান্ডেড। অর্থাৎ গেইমারের কর্মকাণ্ডই ঠিক করবে চূড়ান্ত পরিণতি।

স্নাইপার এলিট ফোর তৈরি ও প্রকাশ করেছে রেবেলিওন স্টুডিওস। মেটাক্রিটিক, আইজিএন, গেইমস্পটে ৮ রেটিং পাওয়া স্নাইপার এলিট ফোর খেলা যাবে উইন্ডোজ পিসি, এক্সবক্স ওয়ান ও প্লে স্টেশন ফোরে। মাল্টিপ্লেয়ারে খেলা যাবে কো-অপ মিশন এবং কম্পিটেটিভ মাল্টিপ্লেয়ারও।

 

পিসিতে খেলতে হলে লাগবে

ওএস-উইন্ডোজ সেভেন (৬৪ বিট)/ উইন্ডোজ ৮.১/ উইন্ডোজ ১০

প্রসেসর-ইন্টেল কোর আই থ্রি ২১০০ /সমমানের এমডি প্রসেসর

গ্রাফিকস কার্ড : এএমডি র‌্যাডিওন এইচডি ৭৮৭০ (২ জিবি)/এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ৬৬০ (২ জিবি)

র‌্যাম-৪ গিগা

বয়স

১৮+


মন্তব্য