kalerkantho


গেইম

বলিভিয়ায় বন্দুকবাজি!

সামীউর রহমান   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বলিভিয়ায় বন্দুকবাজি!

প্রথম কোনো মিলিটারি শ্যুটার গেইমের কাহিনি ফেলা হয়েছে বিশাল, বিপজ্জনক এবং প্রতিক্রিয়াশীল এক ভূখণ্ডে, যেখানে কথা বলে শুধুই বন্দুক। পদে পদে ওত পেতে আছে বিপদ। ঘোস্ট রেকন ওয়াইল্ডল্যান্ডস-এ যেখানে চারজনের একটি বিশেষায়িত যোদ্ধা বাহিনীর একজন হয়ে খেলতে হবে। ধ্বংস করতে হবে সান্তা ব্লাংকা ড্রাগ কার্টেলের সাম্রাজ্য।

ঘটনাস্থল বলিভিয়া, সময়টা ২০১৯ সাল। লা পাজে মার্কিন দূতাবাস বোমা হামলা করে উড়িয়ে দিয়েছে ড্রাগ কার্টেল সান্তা ব্লাংকা। তাতে মারা গেছে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির এজেন্ট রিকি। বছর ছয়েক ধরে আন্ডারকাভার হয়ে ড্রাগ কার্টেলের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল রিকি, সংগ্রহ করছিল অনেক গোপন তথ্য। দূতাবাসে হামলা, এজেন্টকে হত্যা—সব কিছু ভয়ংকরভাবে নাড়িয়ে দেয় মার্কিন সরকারকে। এনএসএ, সিআইএ, ডিইএ—সব সংস্থা মিলে সিদ্ধান্ত নেয়, ‘ঘোস্ট’দেরই পাঠানো হবে খুনে মাদক কারবারিদের শায়েস্তা করতে। কিন্তু মাদক বেচা লাভের অঙ্কে যে বলিভিয়ার গোটা সরকারকেই পকেটে পুরেছে সান্তা ব্লাংকা কার্টেল।

এই মাদকচক্রের তিন হোতা- এল সুয়েনো, বিউটি কুইন আর কার্ডিনাল। তাদের আঙুলেই সুতা বাঁধা বলিভিয়ান সামরিক বাহিনীর বিশেষ ইউনিট ইউনিডাডেরও। কার্টেলের টাকা খেয়ে চোখ বুজে তারাই নিরাপত্তা দেয় কার্টেলকে। ঘোস্টদের প্রতিপক্ষও রণসাজে তৈরি! এখন উপায়?

নোমাড, উইপার, হোল্ট আর মাইডাস—এই চার ‘ঘোস্ট’কে নিয়েই বলিভিয়া যাত্রা। নোমাড দলনেতা, উইপার হচ্ছে স্নাইপার, বিভারের কাজ ড্রোন আর যন্ত্রপাতি নিয়ে এবং মাইডাসের দক্ষতা যানবাহন চালানো ও মেরামতে। অনলাইন মাল্টি প্লেয়ারে পছন্দের চরিত্র নিয়ে যোগ দেওয়া আরো তিনজনের সঙ্গে দলবেঁধেও খেলা যাবে, একা একাও খেলা যাবে চারজনের একজন হয়ে। অস্ত্রভাণ্ডার খুবই সমৃদ্ধ। নানা রকম অটোমেটিক রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করা যাবে গেইমে। তবে খেলাটার মূল মজা মিশনের ধরন বাছাইয়ে। একই মিশন খেলা যাবে স্টেলথ মোডে অর্থাৎ চুপিসারে, শত্রুপক্ষকে অকস্মাৎ আক্রমণে চমকে দিয়ে। সেটাই খেলা যাবে একেবারে র‌্যাম্বো স্টাইলে, দুমদাম গুলি চালিয়ে। কিন্তু তাতে শত্রুপক্ষ সতর্ক হযে যাওয়ায় প্রতিরোধ হবে জোরালো। তাই মিশনের ধরন বুঝে বেছে নিতে হবে মোড।

গেইমটা বানাতে ৫০টা ক্যামেরায় বলিভিয়ার বিভিন্ন অংশ দিনের পর দিন ধরে শুট করেছে ইউবিসফট। গেইমের পরতে পরতে উঠে এসেছে বলিভিয়ান সংস্কৃতির নানা কিছু। ফুটবলপ্রেম, রোমান ক্যাথলিক গির্জা, পরিত্যক্ত খনি আর রেললাইন। প্রকৃতিতেও বৈচিত্র্য। মরুময় মালভূমি, বন্য উপত্যকা, হ্রদ, জলাভূমি, নোনা ভুঁইয়ের বিস্তীর্ণ উষর প্রান্তর কি নেই। বলা হচ্ছে গোটা বলিভিয়াটাই ডিজিটালি পুরে ফেলা হয়েছে এই গেইমে। আর এই বিশাল জায়গায় ঘোরাঘুরির জন্য ডিউন বাগি, মোটরবাইক, হেলিকপ্টার, স্পিডবোট কত কি! করা যাবে স্কাই ডাইভিং, প্যারাজাম্পিং, ফ্রি ফলের মতো রোমাঞ্চকর অনেক কিছুই।

 

বলিভিয়ায় নেমেই ঘোস্টদের খুঁজে বের করতে হবে সিআইএর এক এজেন্টকে। তার মারফত যোগাযোগ হবে কার্টেলের বিরুদ্ধে সোচ্চার একমাত্র বিপ্লবী গেরিলা দলকে। তাদের জন্য পাহারা দিয়ে আনতে হবে খাদ্যবাহী ট্রাক, শত্রুর দুর্ভেদ্য দুর্গ থেকে উদ্ধার করে আনতে হবে বন্দি নেতাকে। এভাবেই গড়ে উঠবে আস্থার বন্ধন আর তার পরই একদিন চরম আঘাত! মাদকের টাকার জিম্মাদার, মাদকের প্রহরী—এদের খতম করলেই পা পড়বে সাপের লেজে আর বেরিয়ে আসবে ‘হোয়াইট হ্যাট’। গেইমটির ডেভেলপার ও প্রকাশক দুটোই ইউবিসফট ব্যবহার করা হয়েছে অ্যানভিল নেক্সট গেইম ইঞ্জিন। খেলা যাবে উইন্ডোজ পিসি, এক্সবক্স ওয়ান ও প্লেস্টেশন ফোরে।

 

খেলতে যা লাগবে

উইন্ডোজ সেভেন এসপি ১, উইন্ডোজ ৮.১, উইন্ডোজ ১০ (শুধু ৬৪ বাইট)

ইন্টেল কোরআই ৫ ২৪০০ এস-২.৫ গিগাহার্জ এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ৬৬০/৭৫০ টিআই/৯৫০ টিআই বা তার বেশি

র‌্যাম ৬ গিগাবাইট

রেজল্যুশন ৭২০পি

বয়স ১৬+


মন্তব্য