kalerkantho


এয়ার কোয়ালিটি মনিটর জানাবে বায়ুদূষণের পরিমাণ

বাতাসে দূষণের মাত্রা মাপার প্রযুক্তি তৈরি করেছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলম্বটেকবিডি। সাশ্রয়ী ডিভাউসটির কার্যকারিতা সম্পর্কে জানাচ্ছেন নাদিম মজিদ

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এয়ার কোয়ালিটি মনিটর জানাবে বায়ুদূষণের পরিমাণ

ব্যাংকে চাকরি করেন আবদুল কাদের। ভুগছেন স্থূলতায়।

ডাক্তারের পরামর্শ—প্রতিদিন ঘণ্টাখানেক হাঁটতে হবে। আশপাশে পার্ক নেই বলে বাধ্য হয়ে রাস্তা ধরেই শুরু করলেন হাঁটাহাঁটি। কয়েক দিন পরই দেখা দিল নতুন উপসর্গ—শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা। বুঝলেন ঢাকার দূষিত বাতাসে হাঁটারও জো নেই!

আবদুল কাদেরের মতো লাখো ঢাকাবাসী চলছে বায়ু, শব্দ, পানি ইত্যাদি দূষণকে সঙ্গী করে। তবে দূষণের মাত্রা সব সময়, সব জায়গায় এক নয়। এই মাত্রা বোঝা সম্ভব হবে দেশি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলম্বটেকবিডির তৈরি ‘এয়ার কোয়ালিটি মনিটর’ দেখে। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে যন্ত্রটি।

 

যেভাবে কাজ করে

ডিভাইসটি চালু করলে প্রথমে সেন্সরের সাহায্যে স্থানীয় বাতাসের ২৪ ঘণ্টার তথ্য সংরক্ষণ করবে। সংরক্ষিত তথ্য থেকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেখানকার বাতাসের মান সম্পর্কে একটি ধারণা নেবে।

এর পর থেকে প্রতি সেকেন্ডে তাত্ক্ষণিক অবস্থা জানান দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স মান অনুসারে ০ থেকে ৫০০ এর মধ্যে নম্বর এবং বাতাসের পরিশুদ্ধতা জানানো হয়। মান ০-৫০ এর মধ্যে থাকলে ‘ভালো’, ৫১-১০০ এর মধ্যে ‘মাঝারি’, ১০১-১৫০ এর মধ্যে ‘বিশেষ শ্রেণির জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১-২০০ এর মধ্যে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ -৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-৫০০ এর মধ্যে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে ডাটা উপস্থাপন করা হয়। এয়ার কোয়ালিটি মনিটর যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড মেনে তথ্য দেবে।

 

নেপথ্যে

অ্যাপলম্বটেকবিডির প্রধান নির্বাহী সাইফ সাইফুল্লাহ জানান, ‘আমরা ২০১২ সাল থেকে ইন্টারনেট অব থিংস নিয়ে কাজ করছি। যেকোনো ইলেকট্রিক সামগ্রীকে ইন্টারনেট দ্বারা নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি। আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা করছি। তারই একটি এয়ার কোয়ালিটি মনিটর। দেশের বিশেষ করে ঢাকার মানুষকে বায়ুদূষণ সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে যন্ত্রটি। এতে হয়তো বায়ুদূষণ কমবে না, তবে মানুষ পরিস্থিতি বুঝে করণীয় ঠিক করতে পারবে। ’

 

ব্যবহার

কোনো স্থানে দূষণের মাত্রা জেনে অবকাঠামো নির্মাণ, বসবাস পরিকল্পনা করা যাবে। শিল্প-কারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের পরিবেশ স্ট্যান্ডার্ড বোঝানোর জন্য এ মনিটর ব্যবহার করতে পারবে।

 

সাশ্রয়ী

সাইফুল্লাহ জানান, উন্নত দেশে এয়ার কোয়ালিটি মনিটর উদ্ভাবন হয়েছে আগেই। তবে বাংলাদেশে এয়ার কোয়ালিটি মনিটর তৈরির ঘটনা এই প্রথম।

বিদেশে তৈরি যন্ত্রগুলো আমদানি করতে হয় বলে সেগুলোর দাম থাকে সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেশে তৈরি বলে এটি কম দামে পাওয়া যাবে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু না হওয়ায় এখনো এর বাজারমূল্য চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে দাম পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই থাকবে এটা নিশ্চিত।


মন্তব্য