kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অ্যাডসেন্সের এ টু জেড

অনলাইনে বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ‘গুগল অ্যাডসেন্স’। অনলাইন বিজ্ঞাপন মাধ্যমগুলোর মধ্যে পেমেন্ট ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে এখন পর্যন্ত অ্যাডসেন্সই এক নম্বরে। অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে কিভাবে আয় করা যাবে তা জানাচ্ছেন তারেক হাবিব

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অ্যাডসেন্সের এ টু জেড

মডেল : জলি প্রধান, ছবি : তারেক আজিজ নিশক

অ্যাডসেন্স পেতে

অ্যাডসেন্সে আয় শুরু করার আগে অ্যাকাউন্ট তো খুলতে হবে! বর্তমানে অ্যাডসেন্স খোলা যতটা সহজ, অ্যাকাউন্ট টিকিয়ে রাখা তার চেয়ে কঠিন। সাধারণত ইংরেজি বা অ্যাডসেন্স অনুমোদিত ভাষার কনটেন্টের সাইটের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।

বাংলা ভাষার সাইটেও অ্যাডসেন্স বিজ্ঞাপনের কোড ব্যবহার করা যায়। তবে তার আগে ইংরেজি ভাষায় চালু থাকা সাইটের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট থাকবে নির্দিষ্ট কোনো ইংরেজি কনটেন্টের সাইটের নামে। আর এই অ্যাকাউন্টের বিজ্ঞাপন কোডগুলো বাংলা বা যেকোনো ভাষার সাইটে ব্যবহার করা যাবে। আর সাইটের ডোমেইন ডটকম, ডটনেট ইত্যাদি থাকলে ভালো হয়। ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগ (example.wordpress.com) খুলে তা দিয়ে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট খুললে অনুমোদন না পাওয়ারই আশঙ্কা বেশি।

সব ঠিক থাকলে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে www.google.com/adSense সাইট থেকে।

           

কখন আবেদন

সাইট চালু করে অ্যাডসেন্সে আবেদন করলেই অ্যাকাউন্ট পাওয়া যাবে না। ইংরেজি ভাষায় মানসম্মত সাইট চালু করে এর ভিজিটর সংখ্যা বাড়াতে হবে। সাইটটির বয়স কয়েক মাস হলে এবং নিয়মিত ভালোসংখ্যক ভিজিটর পেলেই আবেদন করা উচিত। আবেদনের পর অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ সাইটটি দেখে জুতসই মনে করলে অ্যাড ব্যবহারের প্রাথমিক অনুমতি দেয়। এরপর পর্যবেক্ষণে রাখে। যদি আবেদনকারী নিজেই নিজের বিজ্ঞাপনে ক্লিক দেয় বা এ ধরনের কিছু করে, গুগলের নজরে এলে অ্যাকাউন্টটি তাত্ক্ষণিক ব্যান (বন্ধ) করে দেওয়া হয়।

আরো জানা যাবে এই লিংকে— https://support.google.com/adsense/answer/9724?hl=en

 

অপটিমাইজেশন

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় বাড়ানোর কৌশল হলো ‘অ্যাডসেন্স অপটিমাইজেশন’। এটি করার অনেক উপায় অছে, যার মধ্য প্রথমেই আসে হাই কস্ট পার ক্লিক (সিপিসি)। ভালো অ্যাডসেন্স ক্লক থ্রো রেট (সিটিআর) ছাড়া ভালো আয় সম্ভব নয়। তবে এ দুটির মধ্যে সিপিসিকে বেশি গুরুত্ব দিলে লাভবান হওয়া যাবে। আপনার ব্লগে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনে হাজারো ইম্প্রেশন থাকলেও একটি ভালো ‘সিপিসি’র ব্লগ সিটিআর থেকেও বেশি আয় এনে দেয়।

 

যে বিষয়ে লিখবেন

আপনাকে এমন বিষয় নিয়ে লিখতে হবে, যা পাঠকের মনের খোরাক যোগায়। তাই পাঠক ইন্টারনেটে কোন ধরনের বিষয় বেশি খোঁজে (সার্চ করে) তা লেখার আগে জেনে নিতে হবে। জানতে হবে তার সমাধানও। এতে পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ভালো মানের লেখা (কনটেন্ট) সার্চ ইঞ্জিনেও প্রাধান্য পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ব্যবহারকারীদের আগ্রহ আছে, এমন বিষয় নির্বাচন করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। কারণ এ দুই দেশ থেকে সার্চ হলে গুগল বেশি মূল্য দেয়। এতে আয়ের অঙ্ক বেড়ে যায়।

 

পেইজ র‍্যাংক

পেইজ র্যাংকের মাধ্যমে বোঝা যায়, সাইটে কি পরিমাণ তথ্য হাইপারলিংক করা আছে। একটি পেইজ ইন্টারনেটে কত গুরুত্বর্পূণ তা পেইজ র্যাংক দ্বারা নির্ধারণ করে গুগল। যখন একটি পেইজ দ্বিতীয় একটি পেইজের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন দ্বিতীয় পেইজের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা বোঝায়। গুগল যে সাইটের যত লিংক ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে পাবে তাকে তত বেশি গুরুত্ব দেবে। গুগল ১ থেকে ১০-এর মধ্যে  পেইজ র্যাংক নির্ধারণ করে। আপনার সাইটের র্যাংক যদি ৫ বা এর ওপরে হয়, তাহলে গুগল আপনাকে হাই সিপিসির বিজ্ঞাপন  দেবে। এতে আয় স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

 

অ্যাড রিভিউ

গুগল অ্যাডসেন্সে আপনি ‘অ্যাড রিভিউ  সেন্টার’ নামে একটি বিভাগ পাবেন। এখান থেকে দেখে নিতে পারেন কোন ধরনের বিজ্ঞাপন থেকে কী পরিমাণ আয় আসছে। যদি দেখেন, কোনো বিভাগ থেকে আপনার আয় কম হচ্ছে, তাহলে সেটি ব্লক (বন্ধ) করে দিতে পারেন।

তবে এ ক্ষেত্রে আপনার সাইটের মূল প্রতিপাদ্য ব্লক করা ঠিক নয়। যেমন—আপনার সাইটের বিষয় যদি ‘টেকনোলজি’ হয়, তাহলে ‘ডেটিং’, ‘পলিটিক্স’, ‘রিলিজিয়ন’ ইত্যাদি বিভাগ ব্লক করতে পারেন। এতে আপনার সাইটের সিপিসি ও অ্যাডসেন্স আয় বাড়বে।

 

অ্যাড ফিল্টার

অ্যাড রিভিউ সেন্টারের মতো গুগল অ্যাডসেন্সে ‘কম্পিটিটিভ অ্যাড ফিল্টার’ নামে আরেকটি বিভাগ রয়েছে। কোন বিজ্ঞাপন আপনার সাইটের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ মনে হলে তা এ ‘কম্পিটিটিভ অ্যাড ফিল্টার’-এর মাধ্যমে ব্লক করা যাবে। অর্থাৎ আপনার সাইটের বিষয় যদি ‘টেকনোলজি’ হয় এবং একই বিষয়ে যদি অন্য সাইট আপনার এখানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে তা বন্ধ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আপনি কোনো ডোমেইনের একটি নির্দিষ্ট পেইজ ব্লক করতে পারবেন। এভাবেও আপনার সিপিসি বাড়াতে পারেন।

 

অ্যাড প্লেসমেন্ট

ওয়েবসাইটে কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন বসাবেন সেটি জরুরি বিষয়। কারণ বিজ্ঞাপনের লোকেশনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অ্যাডসেন্সের আয় নির্ভর করে। প্রশ্ন আসতে পারে, কোথায় বিজ্ঞাপন বসালে সর্বোচ্চ সিপিসি পাওয়া যায়। উত্তর হচ্ছে, আপনার ব্লগ পোস্টের মধ্যে একটি ও পোস্টের বাইরে একটি বিজ্ঞাপন বসান। এ ক্ষেত্রে পোস্টের টাইটেলের ঠিক নিচে ৩৩৬ বাই ২৮০ পিক্সেলের বিজ্ঞাপন বসাতে পারেন। আরেকটি ৪৩০ বাই ৬০ পিক্সেলের বিজ্ঞাপন পোস্টের  ভেতরে বসান। যদি এরও বেশি বিজ্ঞাপন বসাতে চান, তাহলে ব্লগের ডান পাশের সাইডবারে একটি বিজ্ঞাপন বসাতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, বেশি বিজ্ঞাপনে পাঠকরা বিরক্ত হতে পারেন। তাই সাইটের বিষয়-সংশ্লিষ্ট ও সীমিতসংখ্যক বিজ্ঞাপন বসানোই ভালো।

 

প্ল্যাটফর্ম

আপনার ব্লগটি ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, মোবাইলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ডিভাইসে পড়া হতে পারে। যদিও এই প্ল্যাটফর্মের ওপর অ্যাডসেন্সের সিপিসি ততটা প্রভাবিত হয় না, তবে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভিজিটর আছে এমন প্ল্যাটফর্মকে টার্গেট করতে হবে। সাধারণত ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ থেকেই ওয়েবসাইটে বেশি ভিজিটর আসে। তার পরও অন্য প্ল্যাটফর্মের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে ডাব্লিউপি টাচের মতো বিভিন্ন প্লাগ-ইন ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো আপনার ওয়েবসাইটকে মোবাইল ফ্রেন্ডলি করে তুলবে। ফলে মোবাইল স্ক্রিনের অ্যাডও প্রদর্শন করাতে পারবেন। অনেক প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্য করেও ‘অ্যাড ওয়ার্ড’ বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এতে পরোক্ষভাবে আপনার অ্যাডসেন্স আয় বাড়বে।

 

গুগল অ্যাডসেন্সে তরুণরাই কাজ করছে বেশি।

 


মন্তব্য