kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে পড়ানো হয় কম’

দেশের ব্যাংক, বীমা, ইনস্যুরেন্সসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনলাইন লেনদেন নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা নিয়ে কাজ করে ‘সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ’। দেশে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা নিয়ে সংগঠনটির সভাপতি তপন কান্তি সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরান হোসেন মিলন

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে পড়ানো হয় কম’

দেশে ডিজিটাল লেনদেন নিরাপত্তাব্যবস্থা কেমন?

কয়েক দিন আগেই ইয়াহুর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন বড় ঘটনা নেই।

এ ধরনের বৈশ্বিক পরিসর বিবেচনা করলে বাংলাদেশের ‘পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম’-এর নিরাপত্তা মানসম্পন্ন। মোবাইল লেনদেনের নিরাপত্তাও বেশ ভালো।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার পর বাংলাদেশে অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ঘাটতির আলোচনা সামনে এসেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনলাইন নিরাপত্তাসংক্রান্ত পদে বিদেশিদের দেখা গেছে!

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের দেশের তথ্যের নিরাপত্তা তুলনা করলে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। দেশে যতটুকু না অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের ঘাটতি আছে, তার চেয়ে বড় ঘাটতি সচেতনতার। ফলে বিভিন্ন সময় এটিএম কার্ড নকল এবং গ্রাহকের তথ্য হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

বর্তমানে বিদেশি বিশেষজ্ঞ বেশি থাকলেও পাশাপাশি দেশি অনেক বিশেষজ্ঞও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং দিন দিন তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে। অল্প কয়েক বছরের মধ্যে দেশি বিশেষজ্ঞদেরই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে দেখতে পাব।

অনলাইনে বা কার্ডে কী পরিমাণ লেনদেন হয়?

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক আরটিজিএস, ইএফটিসহ প্রযুক্তিনির্ভর বেশ কিছু সেবা চালু করেছে। বর্তমানে ইএফটির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় আট লাখ লেনদেন হয়, টাকার অঙ্কে যা পাঁচ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার বেশি।

আমাদের দেশে ‘রিয়াল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট’ (আরটিজিএস) চালু হয়েছে গত বছরের ২৯ অক্টোবর। আগে দুই থেকে তিন দিন লাগলেও এ পদ্ধতিতে এক ব্যাংকের চেক অন্য ব্যাংকে সঙ্গে সঙ্গে ক্লিয়ার হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকের ৯ হাজার শাখার মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শাখা এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

পাশাপাশি সাত হাজার ২০০টি এটিএম বুথের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় চার লাখ বারের মতো লেনদেন হয়, যা টাকার অঙ্কে প্রায় ২৮০ কোটি। বর্তমানে ‘পিওএস মেশিন’ আছে প্রায় ৩২ হাজার, যার মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইসের সঙ্গে যুক্ত। পিওএসের মাধ্যমে দৈনিক ৩৬ হাজারের বেশি লেনদেনে টাকার পরিমাণ থাকে প্রায় ৩০ কোটি।

আশির দশকের শেষ দিকে দেশে প্রথম কার্ডের প্রচলন হয়। ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন শুরু হয় ১৯৯৭ সালে। বর্তমানে বাংলাদেশে কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৮৫ লাখ। কার্ডের মাধ্যমে দৈনিক তিন লাখ ৮০ হাজার বারে ৩০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

 

‘সিটিও ফোরাম’ তো ব্যাংক ছাড়াও অন্যান্য খাতের সঙ্গেও কাজ করছে?

অনলাইনে লেনদেনের তথ্য ও লেনদেন—উভয়ই যেন সুরক্ষিত থাকে সে লক্ষ্যেই ‘সিটিও ফোরাম’ ব্যাংক ছাড়াও টেলিকম, সরকারি-বেসরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তিতে কর্মরত সব শ্রেণির কর্মকর্তা সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। এসব ছাড়াও আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছি।

 

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কতটুকু শেখানো হয় এবং সেটা কি যথেষ্ট? সিটিও ফোরাম এ বিষয়গুলো নিয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে কতটা?

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে পড়ানো হয় খুব কম। যে কোর্সগুলো পড়ানো হয় তা-ও খুব প্রাথমিক পর্যায়ের। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের অনলাইন লেনদেন এবং সাইবার নিরাপত্তায় সচেতন করে তুলতে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করার কাজটি শুরু করছে সিটিও ফোরাম।

 

অক্টোবর তো সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতার মাস। সিটিও ফোরাম এই মাসে কী উদ্যোগ নিচ্ছে?

সিটিও ফোরাম কাজ করে মূলত সচেতনতা তৈরিতে। ফোরাম এ মাসে সাইবার সচেতনামূলক দুটি সেমিনার ও দুটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করছে।


মন্তব্য