kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গেইম

অ্যাসাসিনস ক্রিড ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ

হৃদয় খান   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অ্যাসাসিনস ক্রিড ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ

‘অ্যাসাসিনস ক্রিড’ সিরিজের চতুর্থ পর্ব ‘ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ’।

সময়টা ১৭১৫ সাল।

জলদস্যুতার স্বর্ণযুগ। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিস্তৃত সমুদ্র আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য দ্বীপ এবার আপনার বিচরণক্ষেত্র। নিখুঁতভাবে উঠে এসেছে জলদস্যুদের নিষ্ঠুর জগৎ। খেলার প্রতি পদে এত বৈচিত্র্য আর মজা রয়েছে যে মনেই হবে না দুর্ধর্ষ দস্যরা সারাক্ষণ ঘাড়ের কাছে ওত পেতে আছে।

গেইমটির আবহে একেবারে নতুন কিছু সংযোজন আছে, যা  আগে অন্য কোনো গেইমে দেখা যায়নি! সমুদ্রের পরিধি এত ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময় যে মনে হবে সত্যিই বুঝি অথৈ সাগরে হারিয়ে গেছেন। পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে সাজানো হয়েছে চরিত্রগুলো, বিশেষ করে এ পর্বের নায়ক এডওয়ার্ড কনওয়েকে দেখে মনে হবে, দীর্ঘদিন পর যেন সিরিজের শুরুর দিককার নায়ক ‘এজিও’ আবার ফিরে এসেছে।

গেইমের নায়কদের মধ্যে সততা, মূল্যবোধ ইত্যাদি মানবীয় যেসব গুণাবলি দেখা যায়, এসব এডওয়ার্ডের নেই। আদতেই সে জলদস্যু। ভালোমন্দ বাছবিচারের সময় নেই। গুপ্তধন খুঁজে, জুয়া খেলে আর মদ খেয়েই কাটে তার দিন। নায়কের এই বুনো ও উড়নচণ্ডী স্বভাব গেইমপ্লেকে অন্য এক গতি দিয়েছে। এডওয়ার্ডের জাহাজ জ্যাকডের কথাও না বললেই নয়; তার সব অ্যাডভেঞ্চার আর দস্যিপনার সঙ্গী এই জাহাজ।

এডওয়ার্ডকে নিয়ে গেইমারের মূল লক্ষ্য ‘দ্য অবজারভেটরি’ নামের এক রহস্যময় জায়গা খুঁজে বের করা। এর নেপথ্যে আছে অ্যাসাসিনদের সঙ্গে টেম্পলারদের চিরাচরিত বিরোধ। বেশির ভাগ সময়ই দেখা যাবে প্রধান মিশন বাদ দিয়ে জ্যাকডকে নিয়ে পাল তুলে এ-দ্বীপ সে-দ্বীপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিংবা জাহাজ লুটপাট করছেন। এই উচ্ছৃঙ্খলতায় মধ্য দিয়েই পার করতে হবে প্রায় ৫০ ঘণ্টার গেইমপ্লে।

অ্যাসাসিনস ক্রিডের অন্য পর্বগুলো যাঁরা শেষ করেছেন, তাঁদের কাছে এই ৫০ ঘণ্টা কাটবে অনেকটাই হালকা, ফুরফুরে মেজাজে। কেননা এবারের কাহিনীতে আগের মতো মারপ্যাঁচ আর রাজনীতির কচকচানি নেই।

ব্ল্যাক ফ্ল্যাগকে সময়ের অন্যতম সেরা গ্রাফিকসের গেইম বলা যেতে পারে। ঝোড়ো সমুদ্রে জাহাজের দুলুনি, বাতাসের ঘূর্ণি, গোধূলির রক্তিম সূর্য ইত্যাদি কেবল উন্নত গ্রাফিকসের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হয়নি, প্রয়োগ করা হয়েছে অসাধারণ ক্যামেরা মুভমেন্টও। বলা যায়, গ্রাফিকসের কারণেই গেইমটির বিশাল জগৎ কখনো পুরনো বা একঘেয়ে লাগবে না। চমৎকার এই গেইমটি পিসি ছাড়াও খেলা যাবে এক্সবক্স ৩৬০, এক্সবক্স ওয়ান, প্লেস্টেশন ৩, উই ইউ এবং প্লেস্টেশন ফোরে।

 

খেলতে ন্যূনতম যা লাগবে

প্রসেসর : ইন্টেল কোর ২ কোয়াড কিউ৮৪০০ ২.৬ গিগাহার্জ

অপারেটিং সিস্টেম : উইন্ডোজ ভিসতা এসপি বা উইন্ডোজ সেভেন

র‌্যাম : ২ গিগাবাইট

গ্রাফিকস : এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ২৬০ কিংবা এএমডি রেডিয়ন এইচডি ৪৮৭০

হার্ডডিস্ক : ৩০ গিগাবাইট খালি জায়গা

 

যাঁরা খেলতে পারবেন

১৬ বছর +

 


মন্তব্য