kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভয়কে জয় করতে ভিআর!

অল্পেই ভয় পেয়ে যান অনেকেই। ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানা রকম ভয় ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে। জানাচ্ছেন আব্দুল্লাহ ইব্রাহীম জাওয়াদ

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ভয়কে জয় করতে ভিআর!

ভয় কাটানোর থিওরি

যদি আমেরিকার কথাই ধরি, প্রায় ২৫ মিলিয়ন আমেরিকার নাগরিক ফ্লায়িং ফোবিয়ায় আক্রান্ত, অর্থাৎ তারা প্লেনে উড়তে ভয় পায়। এ ছাড়া দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৯ শতাংশেরই মনে কোনো না কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ভীতি কাজ করে।

সুইডিশ সাইকোলজিস্ট ফিলিপ লিন্ডারের মতে, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) ব্যবহার করে মানুষের এ ধরনের অযৌক্তিক ভীতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তাঁর থিওরি অনুযায়ী, যদি আপনি ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে কোনো ভীতিকর অবস্থার সম্মুখীন হন, কিন্তু তার পরও ওই অবস্থায়ই কিছু সময় পার করে দিতে পারেন, তাহলে কিন্তু আপনার ভয় পাওয়ার মাত্রা অনেকখানি আপনি নিজেই কমিয়ে ফেলতে পারবেন। পরে বাস্তব জীবনে একই অবস্থায় পড়লে আপনি নিজেকে অনেকখানি সামলে নিতে পারবেন।

 

থিওরি থেকে বাস্তব

লিন্ডার থিওরির বাস্তব অবস্থা কী—তা জানতে বেশ কয়েকজনের ওপর ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে ভয়ংকর লোমশ মাকড়সা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। তখন দেখা যায়, প্রথমে তাঁরা একটু ভয় পেলেও খুব দ্রুতই ভয় কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। এরপর তাদের আরো বড় ও ভয়ংকর মাকড়সা দিয়ে ভয় দেখানো হলেও অংশগ্রহণকারীরা খুব স্বাভাবিক আচরণ করেন। তাঁরা নিজেরাই বলেন, যেমনটা ভয় পাব বলে ভেবেছিলেন, আসলে ততটা পাননি। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে লিন্ডারের এই পরীক্ষার খুবই ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে।

 

যে কারণে ভিআর

গবেষকদের মতে, যদি কেউ কোনো বিষয়ে ভয় কাটিয়ে উঠতে চান, তাহলে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে সেই ভয়ের মুখোমুখি হওয়া। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাস্তবে সে ভয়ের মুখোমুখি হওয়া কঠিন, কিন্তু ভিআর বা ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে এটা সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত। কারণ ভিআরে সব কিছু বাস্তবের মতোই সামনাসামনি মনে হবে, কিন্তু আসলে তা নয়।

গবেষকদের মতে, যদি লম্বা সময় নিয়ে ভয়ের মুখোমুখি হওয়া যায়, তাহলে ভয় কেটে যেতে বাধ্য। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘গ্র্যাজুয়াল এক্সপোজার’। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে এই গ্র্যাজুয়াল এক্সপোজারের লেভেল সহজেই খাপ খাওয়ানো যায়। যেমন পরীক্ষার সময় প্রথমে কয়েকজনকে কার্টুনের মাকড়সা দিয়ে ভয় দেখানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে আরো বড় আকারের মাকড়সা তাদের সামনে আনা হয়। এ কারণে ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে গ্র্যাজুয়াল এক্সপোজার পদ্ধতির প্রয়োগ সহজ ও কার্যকর।

একই রকম আরো একটি পরীক্ষা করা হয়, যার নাম ‘দ্য পাওয়ার অব সুইমিং’। সুইডিশ সুইমিং ফেডারেশনসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এর উদ্যোগ নেয়।

তবে সাঁতার নিয়ে এ ধরনের পরীক্ষা চালানোর পেছনে মূল কারণটা বেশ মজার। সুইডেন যদিও সমুদ্র ও অসংখ্য সুন্দর লেক দিয়ে ঘেরা, তবুও দেশটির প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি শিশু সাঁতার জানে না। পানিভীতিই এর মূল কারণ। ভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে আগেরবারের মতো এবারের পরীক্ষাটিও সফল হলো। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই অংশগ্রহণকারীরা ব্যাপারটি খুব উপভোগ করতে শুরু করলেন আর পানির প্রতি ভীতি অনেকটাই কেটে গেল।

 


মন্তব্য