kalerkantho


গেইম

ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল

সামীউর রহমান   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০



ভবিষ্যতের যুদ্ধকৌশল

কেমন হবে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর যুদ্ধকৌশল আর মারণাস্ত্র? ‘কল অব ডিউটি : অ্যাডভান্সড ওয়ারফেয়ার’ যেন তারই ইঙ্গিত। ২০৫৪ সালে সিউলে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হয় ইউএস মেরিন কোরের সৈনিক জ্যাক মিচেল, উইল আয়রনস আর সার্জেন্ট করম্যাকের একটি দল। যুদ্ধে উইল মারা যায়। বিস্ফোরণে উড়ে যায় মিচেলের একটি হাত। উইলের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মিচেলকে অদ্ভুত এক প্রস্তাব দেয় উইলের বাবা। তাকে অত্যাধুনিক কৃত্রিম একটা হাত লাগিয়ে দেওয়া হবে, যেটা স্বাভাবিক হাতের মতোই নাড়াতে পারবে মিচেল। বিনিময়ে তাকে যোগ দিতে হবে অ্যাটলাস করপোরেশনে।

এই অ্যাটলাস করপোরেশন হচ্ছে বিশ্বের ১ নম্বর ব্যক্তিমালিকানার সামরিক সংস্থা, সোজা কথায় বেসরকারি এক সেনাবাহিনী। এ রকম সময়ে কেভিএ নামের একটি বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর নেতা জোসেফ ‘হেইডিস’-এর নেতৃত্বে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় সন্ত্রাসী হামলা। নিরাপত্তার জন্য অনেকেই দ্বারস্থ হয় অ্যাটলাস করপোরেশনের। তারপর নানা ঘটনা পরিক্রমায় বের হয়, বিশ্বজুড়ে নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতে অ্যাটলাসই গোপনে মদদ দিয়েছিল কেভিএকে। এমন গোপন কিছু তথ্য নিয়ে পালায় মিচেল, যোগ দেয় সেন্টিনেল নামের সৈনিকদের একটি গোপন সংগঠনে। ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে অ্যাটলাসের পরিকল্পনা। জৈব ও গণবিধ্বংসী অস্ত্রসহ অনেক কিছুই গোপন পরীক্ষাগারে বানাচ্ছে তারা। পরীক্ষা চালাচ্ছে বন্দিদের ওপর, তাদের রূপান্তর করা হচ্ছে নিষ্ঠুর জোম্বিতে। এই অশুভ শক্তির বিপক্ষেই মিচেল হয়ে লড়তে হবে গেইমারকে। লড়াইয়ে মিচেল পাশে পাবে করম্যাক, ইলোনা ও নক্সকেও।

উইন্ডোজ পিসি, প্লেস্টেশন থ্রি ও ফোর এবং এক্সবক্স ও এক্সবক্স ওয়ান—এসব প্ল্যাটফর্মেই খেলা যাবে ‘কল অব ডিউটি : অ্যাডভান্সড ওয়ারফেয়ার’। ফার্স্ট পারসন শ্যুটিং গেইম হলেও কল অব ডিউটি সিরিজের অন্য গেইমগুলোর চেয়ে এর প্রযুক্তিতে খানিকটা উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে। আগের পর্বগুলোতে গেইমারের হাতের বন্দুকটা কাঁধে বা হাতে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখানো হলেও এখন অনেকটা ত্রিমাত্রিক হলোগ্রাফিক ছবির মতো শুধু হাতে ধরা বন্দুকের অংশটাই দেখা যাবে।

অস্ত্রের চেহারায়ও ভবিষ্যতের ছোঁয়া। ম্যাগাজিনে কয় রাউন্ড গুলি আছে, লক্ষ্যবস্তু কত দূরে—এসবও দেখা যাবে অস্ত্রের ডিসপ্লে প্যানেলে। লেজার পয়েন্টার আর নাইট ভিশন তো থাকবেই! দৃশ্যপট কখনো নাইজেরিয়া, কখনো নিউ বাগদাদ (যুদ্ধবিধ্বস্ত বাগদাদকে নতুন করে গড়ে তোলা), কখনো ব্যাংকক আর কখনো নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর।

প্রচলিত সব অস্ত্র তো আছেই, ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে দেখাবে উন্নত সব প্রযুক্তির ছোঁয়া আছে অস্ত্র থেকে বাহন—সব কিছুতেই।

‘কল অব ডিউটি : অ্যাডভান্সড ওয়ারফেয়ার’ গেইমারকে দেবে টান টান হলিউডি সায়েন্স ফিকশন অ্যাকশন সিনেমার মজা। ‘ট্রান্সফরমারস’ সিনেমায় যে প্রযুক্তিতে চিত্র ধারণ করা হয়েছে, সেই প্রযুক্তিতেই হলিউডের ট্রয় বেকার, কেভিন স্পেসি, জন ম্যালকোভিচ, বিল প্যাক্সটনের মতো তারকাদের ‘ডিজিটাল উপস্থিতি’ যোগ করা হয়েছে গেইমে। সিঙ্গল প্লেয়ারের পাশাপাশি অনলাইনে মাল্টিপ্লেয়ারেও খেলা যাবে গেইমটি।

ইলেকট্রনিক গেইম ম্যাগাজিন একে দিয়েছে ১০-এ ৯। গোল্ডেন জয়স্টিক, ইথ্রি বেস্ট গ্রাফিকস অ্যাওয়ার্ড, ব্রিটিশ একাডেমি গেইম অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কারই পেয়েছে গেইমটি।

 

কম্পিউটারে খেলতে লাগবে

সিপিইউ : ইন্টেল কোরআই ৫ ২৫০০ কে ৩.৩০ গিগাহার্জ

র‌্যাম : ৮ গিগাবাইট

ভিডিও কার্ড এনভিডিয়া জিইফোর্স জিটিএক্স ৭৬০ (৪ গিগাবাইট)

হার্ডডিস্কে ফাঁকা জায়গা : ৫৫ গিগাবাইট

 

যাদের উপযোগী

১৫ বছর+


মন্তব্য