kalerkantho


স্মরণ

সাধারণ প্রোগ্রামার থেকে ই-মেইলের জনক

মো. শামীম রহমান   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাধারণ প্রোগ্রামার থেকে ই-মেইলের জনক

‘@’—এই একটি প্রতীক যোগাযোগব্যবস্থায় এনে দেয় নতুন গতি। প্রতীকটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন টমলিনসন। তাই তাঁকে বলা হয় আধুনিক ই-মেইলের জনক। যোগাযোগব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা এই উদ্ভাবক মারা গেছেন ৫ মার্চ।

১৯৭১ সালে ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট ঠিকানায় প্রথমবারের মতো ই-মেইল পাঠাতে সক্ষম হন টমলিনসন। এর আগেও অবশ্য ই-মেইল চালু ছিল। তবে তা পাঠাতে হতো একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা সবাইকে।

টমলিনসন ছিলেন একজন সাধারণ প্রোগ্রামার। ১৯৭১ সালে কাজ করতেন টেনেক্স নামের একটি প্রোগ্রামার দলে। দলটি সে সময় টাইম শেয়ারিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছিল। টেনেক্সের নেটওয়ার্ক কন্ট্রোল প্রটোকলে (এনপিসি) কাজের সুযোগ পান তিনি। ‘এসএনডিএমএসজি’ নামে স্থানীয় আন্তমেইল আদান-প্রদান ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হয় তাঁকে। এসএনডিএমএসজিতে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কম্পোজ, অ্যাড্রেস ও বার্তা অন্য মেইল বক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল।

এখানে দক্ষতার পরিচয় দেন টমলিনসন। প্রকল্পটিতে যুক্ত করেন নিজস্ব কিছু ধারণা। যেমন—ব্যবহারকারীরা মেইলে ফাইল যুক্ত করে পাঠাতে পারলেও যুক্ত করা ফাইল দেখতে বা সম্পাদনা করতে পারতেন না।

বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করলেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই অভাবনীয় ফলাফল এলো। এসএনডিএমএসজি নেটওয়ার্কের মধ্য থেকেই লোকাল মেইল আদান-প্রদান করা যাচ্ছে। মানে ই-মেইল শুধু আর নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা মানুষদের মধ্যেই ব্যবহার করা যাবে না; চাইলে নির্দিষ্ট একজন মানুষের কাছেও তা পাঠানো যাবে। তবে এটি দিয়ে শুধু বার্তা পাঠানো ও গ্রহণ করা যেত। নতুন কোনো ফাইল যুক্ত করা যেত না।

দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ল টমলিনসনের কপালে। স্থানীয় ই-মেইল পাঠানোর সর্বশেষ ধাপে এসে বিফল হওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি তিনি। তাই হতাশ না হয়ে গবেষণা চালিয়ে গেলেন।

সিদ্ধান্ত নিলেন এবার সিপিনেটের কোডটিই এসএনডিএমএসজি নেটওয়ার্কে প্রবেশ করাবেন। এই কোডটি স্থানীয় মেইলগুলোকে নেটওয়ার্ক মেইল থেকে আলাদা করে ফেলতে সক্ষম হয়। ফলে স্থানীয় মেইল আদান-প্রদানে আর কোনো বাধা থাকল না।

পাশাপাশি থাকা দুটি কম্পিউটারের মধ্যে প্রথম বার্তাটি আদান-প্রদান করা হয়। এই বার্তা আদান-প্রদানের কাজটি করা হয়েছিল আরফানেট কম্পিউটার ব্যবহার করে। ধারণা করা হয়, সর্বপ্রথম ই-মেইল বার্তা হলো ‘QWERTYUIOP’। বার্তাটি পাঠানো হয় ১৯৭১ সালের শেষের দিকে।

বার্তা পাঠানোর জন্য ‘@’ প্রতীকটি ব্যবহার করের টমলিনসন। এটি মূলত ইউনিট প্রাইজকে নির্দেশ করে ব্যবহার করা হয়। (যেমন—১০টি আইটেম @ ১.৯৫ ডলার। )

উদ্ভাবনের ৪৫ বছর পেরিয়ে ই-মেইল আধুনিক মানবসভ্যতার অপরিহার্য উপাদানে পরিণত হয়েছে। গুগলের জিমেইল, ইয়াহুর মেইল, মাইক্রোসফটের হট মেইলসহ বিশ্বব্যাপী অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আজ ই-মেইল সেবাটি প্রদান করছে। কালের বিবর্তনে ই-মেইলে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন ফিচার, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে কল্পনাতীত সহজ করে তুলেছে। টমলিনসনের এই আবিষ্কার তাঁকে আরো শত-সহস্র বছর বাঁচিয়ে রাখবে এই পৃথিবীতে।


মন্তব্য