kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


গেইম

পোকারাজ্যের দুই দশক!

সামীউর রহমান   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পোকারাজ্যের দুই দশক!

ছোটবেলায় কত রকম শখই না থাকে মানুষের। কেউ জমায় খেলনা গাড়ি, কেউ সংগ্রহ করে ডাকটিকিট, কেউ বা বানায় কাগজের খেলনা। টোকিওতে নিশান গাড়ির বিক্রয় কর্মকর্তার ছেলে সাতোশি তাজিরির শখটা ছিল অদ্ভুত, পোকা জমানো। শহরের যে অংশটায় তারা থাকত, সেদিকটায় শহুরে হাওয়া তখনো জেঁকে বসেনি, গ্রাম গ্রাম ভাব। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এদিক সেদিক ঘুরলেই চোখে পড়ত নানা রকম পোকা। বুটিদার গুবরেপোকা, শিংওয়ালা ঘাসফড়িং কত কী! অন্য শিশুরা তাকে বলত পোকার ডাক্তার। অবশ্য বড় হয়ে কীটতত্ত্ববিদই হতে চেয়েছিলেন তাজিরি। না হয়ে ভিডিও গেইমের নকশাকার হয়ে গেলেন পাকেচক্রে। কিশোর বয়সে ভিডিও গেইম খেলার নেশাটা এতটাই পেয়ে বসে যে সেই দুনিয়া থেকে বের হয়ে আসা হয়নি। দুটো ভালোবাসা মিলিয়েই তাজিরি বানিয়েছেন ‘পোকেমন’। কমিকস, অ্যানিমেশন, ভিডিও গেইম সবকিছু মিলিয়ে তাঁর এই সৃষ্টির ব্র্যান্ডভ্যালু বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। গত মাসেই পোকেমন দুই দশক পূর্ণ করে পা রেখেছে তৃতীয় দশকে। তবে আবেদন এতটুকুও কমেনি; বরং দিন দিন বাড়ছেই। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আয়। কল্পনার এক জগৎ, যেখানে আছে অদ্ভুত দর্শন সব প্রাণী, যাদের বলা হয় পকেট মনস্টার বা সংক্ষেপে ‘পোকেমন’। তাদের সংগ্রহ করে যারা, তাদের বলা হয় পোকেমন ট্রেনার। পোকেমন ধরার জন্য আছে বিশেষ পোকেবল। বুনো পোকেমন ধরে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, অন্য পোকেমন ট্রেনারদের পোকেমনের সঙ্গে তাদের লড়াই এবং সবচেয়ে বড় লক্ষ্য পোকেমন লিগ জেতা। এই হচ্ছে পোকেমনের দুনিয়ার সারবত্তা। ছোটবেলায় পোকা ধরে যে আনন্দ পেতেন তাজিরি, সে আনন্দটাই ভিডিও গেইমের মাধ্যমে দিতে চেয়েছিলেন পরবর্তী প্রজন্মকেও। কারণ নগরায়ণের চাপে টোকিওতে তখন কংক্রিটের নিচে হারিয়ে যাচ্ছে মাটি, ধূসর সিমেন্ট গ্রাস করে নিচ্ছে সবুজ প্রকৃতিকে।

তাজিরির মাথায় পোকেমন নিয়ে গেইম বানানোর ভাবনাটা আসে ১৯৮৯ কি ১৯৯০ সালে। তখন সবে নিনতেনদোর হ্যান্ডহেল্ড গেইমিং ডিভাইস গেইমবয় বেরিয়েছে। নিনতেনদো কম্পানিকে গোটা ধারণাটা বোঝাতে না পারলেও মারিও ও জেলডা গেইম ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কাজ করার সুবাদে তাজিরির কাজ সম্পর্কে ভালোই জানাশোনা ছিল তাদের। প্রকল্পটা শুরু করেন তাজিরি, ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে লেগে যায় বছর ছয়েক। কয়েকজন কাজ ছেড়ে চলে যান, তাজিরি নিজেও বেতন নেওয়া বন্ধ করে দেন। ওদিকে নিনতেনদোও  হারাতে থাকে বাজার, আটারি ও সনি তখন প্লেস্টেশন এবং লিনক্স নিয়ে বাজারে আসছে। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে বাজারে আসে পোকেমনের গেইম। ‘রেড’ আর ‘ব্লু’ দুটো সংস্করণে আসা গেইমটি ছিল গেইমবয়ের জন্য। এভাবেই শুরু হয় এক মাল্টি বিলিয়ন ডলার ফ্র্যাঞ্চাইজির। এখন পর্যন্ত পোকেমন নিয়ে তৈরি হয়েছে অগুনতি টিভি সিরিজ, এনিমেশন, গেইম, স্পিন অব গেইম, কার্ড গেইম...যার ইয়ত্তা নেই। গিনেস বুক অব রেকর্ডসে জায়গা পেয়েছে পোকেমন, এত বেশি আর কোনো গেইম যে বিকোয়নি। সর্বকালের সেরা গেইমের হল অব ফেইমেও আছে পোকেমনের নাম। বেসবল ক্যাপ মাথায়, জিন্স পরা যে বালকটিকে দেখা যায় পোকেমনের গেইমে, এনিমেশনে...সেই তো সাতোশি! নিজের ছোটবেলার গল্পটাই তো তিনি বলে যাচ্ছেন পোকেমনের দুনিয়াতে।


মন্তব্য