গেইমে নারী চরিত্র-332209 | টেকবিশ্ব | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


গেইমে নারী চরিত্র

নারী চরিত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে অনেক জনপ্রিয় গেইম। বন্দুক-পিস্তল বয়ে বেড়ানো এই চরিত্রগুলোর প্রেমে পড়া গেইমারের সংখ্যাও কম নয়! নারী দিবস সামনে রেখে এমনই কিছু বিখ্যাত চরিত্র নিয়ে লিখেছেন হৃদয় খান

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গেইমে নারী চরিত্র

প্রিন্সেস জেলডা

কাল্পনিক হায়রুল রাজ্যের রূপসী রাজকন্যা জেলডাকে সব সময় কিডন্যাপ করে নিয়ে যায় গ্যাননডর্ফ। আর তাকে বাঁচাতে বরাবরই উপস্থিত লিঙ্ক। ‘দ্য লিজেন্ড অব জেলডা’ গেইম সিরিজে ১৯৮৬ সাল থেকে এভাবেই বারবার কিডন্যাপ হচ্ছে এবং ফিরে আসছে প্রিন্সেস জেলডা। জেলডার বৈশিষ্ট্য গেইমের কাহিনীজুড়ে তার নিষ্পাপ, সরল উপস্থিতি। শয়তানকে ফাঁকি মেরে পালিয়ে আসার মতো সরু বুদ্ধিরও তার অভাব নেই। রূপকথার এ রাজকন্যার রূপেরও তুলনা নেই, ফলে জেলডার প্রেমে মজেছে এ পর্যন্ত অনেক গেইমারই।

 

অ্যালমা ওয়েইড

নায়িকা হিসেবে বেশির ভাগ গেইমে মূল নারী চরিত্রগুলো স্থান পেলেও অ্যালমা ওয়েইড এদিক দিয়ে ব্যতিক্রম। ‘ফিয়ার’ সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্র এবং মূল খলনায়ক হিসেবে সে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। অন্যান্য গেইমের নারী চরিত্রের মতো সুন্দরী কোনো তরুণী নয় সে; বরং অলৌকিক ক্ষমতাধর এক নারী। শিশুকাল থেকেই তাকে নিয়ে চলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তার অস্বাভাবিক ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর লোভে তাকে আটকে রাখা হয় দিনের পর দিন। কিন্তু একসময় অ্যালমা তার পরিপূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে বের হয়ে আসে বন্দিশালা থেকে, শুরু হয় প্রতিশোধের পালা। গেইমজুড়ে চরিত্রটির অপার্থিব উপস্থিতি, ভিন্ন ধরনের স্বাদ দেবে আপনাকে। শুধু ভয়ই নয়, অ্যালমার জন্য বেশ দুঃখও বোধ করবেন। অনেকেই চরিত্রটিকে দেখে থাকে নারীর প্রতিবাদী সত্তারূপে।

 

ফেইথ কনার্স

২০০৮ সালে ইলেকট্রনিক আর্টসের ‘মিররস এজ’-এর মূল চরিত্র হিসেবে বেশ সাড়া জাগিয়েছে ‘ফেইথ’। দড়াবাজিতে দক্ষ ফেইথ হচ্ছে ‘রানার’ নেটওয়ার্কের সদস্য। রানারদের কাজ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজকে দ্রুততর করা। প্রচণ্ড গতিতে দৌড়ানো, উঁচু পাঁচিল টপকানো এবং বাড়িঘরের ছাদ দিয়ে চলাফেরা করা তাই ফেইথের কাছে ছেলেখেলা। কোনো অস্ত্র নেই, অতিরিক্ত ক্ষমতা নেই, পা দুটোই তার সব। রাজনীতি করার অপরাধে ছোটবেলায়ই হত্যা করা হয় তার মা-বাবাকে। এরপর থেকেই ফেইথ বাস্তুহারা, রানারের কাজ করেই কাটে তার জীবন। বুদ্ধিমত্তা, কৌশল ও দড়াবাজির দিক দিয়ে এ চরিত্রটির তুলনা নেই।

 

মোনা স্যাক্স

‘ম্যাক্স পেইন’ সিরিজের জনপ্রিয় নায়িকা মোনা স্যাক্সের নির্মাতা স্যাম লেক। ২০০১ সালে সিরিজের প্রথম গেইমেই তার আগমন। মূল চরিত্র না হলেও ‘ম্যাক্স পেইন ২’ গেইমটির কিছু অংশ খেলতে হয় মোনার চরিত্রে। এ ছাড়া সিরিজের নায়ক ম্যাক্সের প্রেমিকা হিসেবে তার রহস্যময় উপস্থিতি গেইমজুড়ে। মোনা ভাড়াটে খুনি হলেও তার ব্যক্তিত্ব আপনাকে নাড়া দিতে বাধ্য। নিষ্ঠুরতা ও ভালোবাসা—দুটি বৈশিষ্ট্যই তার চরিত্রে উজ্জ্বল। বলা চলে চরিত্রটি ম্যাক্স পেইনের অন্যতম আকর্ষণ।

 

লারা ক্রফট

গেইমিং বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত নারী চরিত্র ‘লারা ক্রফট’। ১৯৯৬ সালে ‘টুম রাইডার’ সিরিজে তার আগমন। পেশায় ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ লারা অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ঘুরে বেড়ায় প্রাচীন, রহস্যময় স্থানগুলোতে। আগ্নেয়াস্ত্রে তার দক্ষতা দারুণ। সর্বশেষ ২০১০ সালের ‘লারা ক্রফট অ্যান্ড দ্য গার্ডিয়ান অব লাইট’ পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। রূপ, গুণ ও বুদ্ধি—এ তিনটি বৈশিষ্ট্যই যার মধ্যে আছে, সে সবার মন জয় করে নেবে এটাই স্বাভাবিক! চলচ্চিত্র, কমিকস ইত্যাদি ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হয়েছে চরিত্রটি। 

 

অ্যালিক্স ভ্যান্স

মূল চরিত্র না হয়েও যে অসংখ্য গেইমারের প্রিয় হওয়া যায়, তার উদাহরণ ‘হাফ-লাইফ ২’ সিরিজের নায়িকা অ্যালিক্স ভ্যান্স। অন্যান্য নারী চরিত্রের মতো দুর্ধর্ষ নয়, বরং শান্তশিষ্ট ও ধীশক্তিসম্পন্ন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় ঠিকই শত্রুর খুলি ফুটো করে দিতে জুড়ি নেই তার। একই সঙ্গে সে একজন দক্ষ হ্যাকার ও ইঞ্জিনিয়ার! চরিত্রটির মধ্যে তেমন কোনো অতিনাটকীয়তা কিংবা অলৌকিক ক্ষমতা নেই। এই বাস্তবধর্মিতাই চরিত্রটিকে ব্যতিক্রমী করেছে। পুরো গেইমে মূল চরিত্র গর্ডন ফ্রিম্যানের সহযোগী হিসেবে কাজ করে ভ্যান্স। অ্যালিয়েনদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

 

জেইড

২০০৩ সালের সাড়া জাগানো গেইম ‘বিয়ন্ড গুড অ্যান্ড এভিল’-এর  মূল চরিত্র ‘জেইড’। পেশায় ফটোসাংবাদিক। দুষ্ট অ্যালিয়েনদের হাত থেকে শিশুদের বাঁচাতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সে তত্পর। ইউবিসফট ডেভেলপার মাইকেল অ্যানসেল চরিত্রটি তৈরি করে তার স্ত্রীর আদলে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত সবুজ অঙ্গসজ্জা জেইডকে দিয়েছে স্বকীয় ব্যক্তিত্ব। সাহস ও বুদ্ধির জোরে সে টপকে যায় প্রতিটি বাধা। পরনের সবুজ জামা, সবুজ অলংকার রীতিমতো আইকনে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য