kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

শিরকের পথ ধরে মানুষ শয়তানের বন্ধু হয়ে যায়

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



শিরকের পথ ধরে মানুষ শয়তানের বন্ধু হয়ে যায়

৪৫. [ইবরাহিম (আ.) বলেন] হে আমার পিতা, আমি তো আশঙ্কা করি যে পরম করুণাময়ের (আল্লাহর) শাস্তি আপনার ওপর নেমে আসবে। তখন আপনি শয়তানের বন্ধু হয়ে যাবেন। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৪৫)।

তাফসির : মূর্তিপূজা থেকে পিতাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ইবরাহিম (আ.) বিভিন্ন যুক্তি ও উপদেশ দিয়েছেন। আলোচ্য আয়াতেও সে বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, ইবরাহিম (আ.) তাঁর পিতাকে বলেছেন, মূর্তিপূজা ত্যাগ না করলে যেকোনো সময় আল্লাহর আজাব নেমে আসতে পারে। আর মূর্তিপূজার পথ ধরে মানুষ ধীরে ধীরে শয়তানের বন্ধু হয়ে যায়।

ইবরাহিম (আ.) মূর্তিপূজাকে প্রকারান্তরে শয়তানের পূজা বলে মনে করতেন। তাই মূর্তিপূজা করতে নিষেধ করেছেন। যারা তাদের বিবেক ও চিন্তাশক্তি কাজে না লাগিয়ে শয়তানের প্ররোচনায় মূর্তিপূজা করে, তারা আসলে শয়তানেরই পূজা করে।

শয়তান শব্দটি একটি পরিভাষা হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই সব ধর্মের মানুষের কাছে সুপরিচিত। এ শব্দ সর্বপ্রথম জিনদের আদি পিতার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে প্রথম মানুষ আদম (আ.)-এর সামনে সিজদাবনত হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আরবি ভাষায় শয়তান মানে সীমা লঙ্ঘনকারী, দাম্ভিক ও স্বৈরাচারী। এই বৈশিষ্ট্যের জিন ও মানুষ উভয়ের জন্যই শয়তান পরিভাষা ব্যবহৃত হয়। কোরআন মজিদে উভয়ের জন্য শয়তান পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। শয়তান কাদের অভিভাবক প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদের অন্ধকার থেকে বের করে আলোর পথে নিয়ে যান। আর যারা কুফরি করে, তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত (শয়তান ও খোদাদ্রোহী অপশক্তি)। এরা তাদের আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এরাই হলো জাহান্নামের অধিবাসী...।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৫৭)।

শয়তান মানুষের সামনে তাদের খারাপ কাজগুলো অত্যন্ত শোভন করে তুলে ধরে। সে এটা করে থাকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। এ বিষয়ে অন্য আয়াতে এসেছে, ‘যিনি প্রত্যেক মানুষের কাজকর্মের পর্যবেক্ষক, তিনি কি তাদের সমান, যাদের তারা (আল্লাহর সঙ্গে) অংশীদার সাব্যস্ত করে? অথচ তারা আল্লাহর বহু শরিক (অংশীদার) দাঁড় করেছে। বলে দাও, আল্লাহর অংশীদের পরিচয় দাও। অথবা তোমরা কী আল্লাহকে এমন কিছুর সংবাদ দিতে চাও, যা তিনি জানেন না। (অথচ কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নেই)। তা না হলে তোমরা বাহ্যিক (অসার) কথা বলছ? বরং যারা কাফির, তাদের ছলনা তাদের কাছে শোভন প্রতীয়মান হয় এবং তাদের সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। আর আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ৩৩)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য