kalerkantho

ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে

জেমস জর্ডান

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রথাগত ধারণা অনুযায়ী ভেনিজুয়েলার নির্বাচিত সরকারকে হটাতে বিরোধীদের জোটবদ্ধ করার জন্য বৈদেশিক সমন্বয়-কৌশল অবলম্বন করা দরকার, অন্তর্ঘাতমূলক অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সামরিক বাহিনীতে অনুপ্রবেশ ঘটানো দরকার এবং বিরোধীদের সরকার পতনের আন্দোলনে প্ররোচিত করা দরকার। সবই হচ্ছে কিন্তু সাফল্য নেই। তাই মাদুরো সরকারের শত্রুরা হতাশ। তাহলে কী হবে? সরাসরি বিদেশি আগ্রাসন? যদি হয়, তাহলে কেমন হবে পরিস্থিতি?

অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা ভেনিজুয়েলার সরকারবিরোধী পক্ষ প্রকাশ্যেই বলে। মার্কিন কর্মকর্তারা বেশ কয়েকবার সে দেশের সামরিক বাহিনী ও বণিকদের ক্ষমতা দখল করতে বলেছে। কিন্তু ভেনিজুয়েলা নয়, লাতিন আমেরিকার জন্য হুমকি হচ্ছে চরম দক্ষিণপন্থী তিন সরকার—যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন, কলম্বিয়ার দুকে সরকার ও ব্রাজিলের বলসোনারো সরকার।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিষয়ে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটেছে। এসব বিষয়কে ভেনিজুয়েলায় সরাসরি সামরিক অভিযানের প্রতিবন্ধক ভাবা হতো। এক. মধ্যপ্রাচ্যে ও মধ্য এশিয়ায় মার্কিন সেনা নিয়োজিত থাকায় ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের বিষয়টি আমলযোগ্য ছিল না। দুই. কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবের অভিযান প্রস্তাব ছিল অবাস্তব। তখন ফার্ক গেরিলা বাহিনী ভেনিজুয়েলাকে রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। ফলে উরিবে অভিযান চালালে কলম্বিয়াই বড় সংকটে পড়ত। ফার্ক এখন প্রথাগত রাজনৈতিক দল, তারা আর সশস্ত্র নয়। তিন. ট্রাম্প সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন। ওই সব সেনাকে অন্যত্র মোতায়েন করা সম্ভব হবে।

এসবের অর্থ কী? ভেনিজুয়েলায় বিদেশি সামরিক অভিযান আসন্ন? না। আবার এ কথাও বলা যায় না যে আগ্রাসন আসন্ন নয় অথবা এমন কোনো পরিস্থিতি নেই, যার সুবাদে অন্য ধরনের অভিযান চালানো যাবে না। মার্কিন সাম্রাজ্য ও তার লাতিন সহযোগীরা ভেনিজুয়েলাকে টার্গেট করেছে। তারা চায় ওই অঞ্চলে সমাজতন্ত্রী ও গণমুখী রাজনীতির চির অবসান হোক।

কিছুদিন আগেও ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানের ফলে যা ঘটবে, তা সামাল দেওয়ার সামর্থ্য ওয়াল স্ট্রিট বা প্রথাগত রক্ষণশীল রাজনীতিকদের ছিল না। বছরখানেক আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ভেনিজুয়েলায় অভিযান চালাতে চান তিনি। তখন ওয়াশিংটনের কেউ ভাবেনি, এটা ভালো কোনো ধারণা। এখন ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী কিছু লোক এ ধারণার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

কলম্বিয়ার পরিস্থিতি অস্পষ্ট। একদিকে প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে তাঁর গুরু উরিবের সামরিক অভিযানের ধারণার বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন; বলেছেন, এটা কাঙ্ক্ষিত সমাধান নয়। অন্যদিকে পম্পেওর ঘোষণার পরই গুয়াইদোকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

কলম্বিয়ার ফার্ক গেরিলা বাহিনীর ২০ হাজার সদস্য এখনো সশস্ত্র থাকলে ভেনিজুয়েলা তাদের সহায়ক বাহিনী হিসেবে পেত। ফার্ক এখন নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এই অবকাশে কলম্বিয়ার ডানপন্থী আধাসামরিক গ্রুপগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। এদের সঙ্গে কলম্বিয়ার পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। মাদুরো বলেছেন, ভেনিজুয়েলীয় ও কলম্বীয় ভাড়াটে সেনারা ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন চালানোর চেষ্টায় আছে। কলম্বিয়ার সীমান্ত এলাকায় হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চায় তারা। ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর অজুহাত তৈরি করা তাদের উদ্দেশ্য।

ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান সহজ হবে না। শুধু সামরিক বাহিনী তা প্রতিহত করবে না, ১৬ লাখ মিলিশিয়াও প্রস্তুত, অভ্যুত্থান চেষ্টাকারী ও আগ্রাসনকারীদের মোকাবেলা করার জন্য। শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় ফার্কের অনেক সাবেক সদস্য অন্য গেরিলাদের সঙ্গে মিলে নতুন প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টায় আছে। কলম্বিয়ার আরেকটি গেরিলা বাহিনী ইএলএনের কয়েক হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে। ভেনিজুয়েলায় অভিযান শুরু হলে ইএলএন কি প্রো-বলিভারিয়ান ফোর্স হয়ে উঠবে? কলম্বিয়ার প্রথাগত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিও বেশ সংহত। তারা রাস্তায় নামলে কলম্বিয়া অচল হয়ে যাবে। ভেনিজুয়েলার পাশে রাশিয়া, চীন ও কিউবাও রয়েছে। মেক্সিকোর নতুন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল ওব্রাদর ভেনিজুয়েলার স্থিতিনাশক কোনো উদ্যোগে সমর্থন দেবেন না।

এমন পরিস্থিতিতে ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান হবে কি না অথবা বিদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত অভ্যুত্থান ঘটবে কি না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু ব্যর্থ হতে হতে মার্কিন সাম্রাজ্যের ধৈর্য নিঃশেষিত প্রায়। তারা নিজেদের সংযত রাখতে পারবে কি? সরাসরি সামরিক অভিযানের বিষয়টি এই পরিপ্রেক্ষিতেই ভাবতে হবে।

লেখক : অ্যালায়েন্স ফর গ্লোবাল জাস্টিসের কর্মকর্তা

সূত্র : গ্লোবাল রিসার্চ অনলাইন

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক

 

মন্তব্য