kalerkantho


অমর একুশে ও আমার ভাবনা

লে. জে. মাহবুবুর রহমান (অব.)

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



অমর একুশে ও আমার ভাবনা

অমর একুশে মাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। মায়ের ভাষা মাতৃভাষাকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে। গোটা বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। বাংলার সন্তান হয়ে এর চেয়ে বড় গর্ব আর কী হতে পারে? ৬৭ বছর আগে ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে বুকের রক্ত দিয়েছিলেন। ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। ভাষার অধিকারের প্রশ্নে বিশ্ব এমন আগে কখনো দেখেনি। বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষা হয়েছে। বাঙালিকে রাষ্ট্রীয় চেতনায় জাগরিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নির্মাণ করেছে। বাংলার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

বাংলাদেশ নামের আমাদের আজকের এ ভূখণ্ডের রয়েছে মহান সভ্যতা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি। চীনারা দাবি করে, তাদের আছে পাঁচ হাজার বছরের লিখিত ইতিহাস। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাসও তাদের মতে অতি প্রাচীন, দুই পাশাপাশি সভ্যতার যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল তিন হাজার বছরেরও আগে পূর্বাঞ্চলের রেশম পথ ধরে। বাংলায় রেনেসাঁ এসেছে বারবার। অনেক মহাজ্ঞানী, মহাজন, সাধক, শিল্পী এখানে জন্মগ্রহণ করেন, যাঁদের কীর্তি ও অবদান ভারতবর্ষের সীমানা ছাড়িয়ে সমৃদ্ধ করেছে বিশ্বসভ্যতাকে। সুদূর অতীতে প্রাচীন বাংলা সভ্যতা ছড়িয়েছে চীন, নেপাল, ব্রহ্মদেশ, শ্যাম ও সিংহলে। বিস্তৃতি ঘটিয়েছে সুমাত্রা, জাভাসহ সুদূর ইন্দোনেশিয়ায়। এ জনপদেই মহামতি গৌতমবুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছেন। হেঁটে হেঁটে ভারতজুড়ে প্রচার করেছেন অহিংসার অমিয় বাণী। তিনি বলেছেন, ‘অহিংসা পরম ধর্ম, সর্ব জীবে দয়া করো।’ সমকালীন দুজন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অমর্ত্য সেন বাংলাদেশে জন্মেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার কবি। তাঁর সব সাহিত্যকর্ম ও কাব্যগ্রন্থ বাংলাকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষায় রচিত।

এই বাংলাই পাল রাজারা চার শতাধিক বছর শাসন করেছেন। প্রথম পাল রাজা গোপাল গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে সবার সম্মতিতে নৃপতি নির্বাচিত হন। পাশ্চাত্যে গ্রিস ছাড়া বিশ্ব ইতিহাসে এমন কখনো হয়নি। পাল রাজারা বাংলাদেশের ঐতিহ্য, কৃষ্টি, মানবতাবাদ, অহিংসা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন শান্তি, সম্প্রীতি, ভালোবাসা, ক্ষমা ও মানবতার কথা বলে। সে ছিল বিশ্বসভ্যতায় বাংলাদেশের এক সুবর্ণ যুগ। এ ভূখণ্ডে একসময় পবিত্র ইসলাম ধর্ম বিস্তার লাভ করে। ইসলাম প্রচারকরা অস্ত্রের বলে নয়, শান্তি ও মানবতার কথা প্রচার করে মানুষকে আকৃষ্ট করেছেন। তাঁদের কাছ থেকে মানুষ জেনেছে সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, ন্যায় ও সাম্যের কথা। সুফি-সাধক, পীর-আউলিয়ারা পবিত্র এই ধর্মের ক্ষমার মর্মবাণী তুলে ধরেছেন। সিলেটের হজরত শাহজালাল ও আজমির শরিফের খাজা মাঈনুদ্দিন চিশতি অহিংসা ও ক্ষমার কথাই বলেছেন। আমাদের এই ভূমিতেই সত্যের সন্ধান করেছেন শ্রীচৈতন্য দেব। তিনি ভালোবাসা ও ক্ষমার বাণী প্রচার করেছেন। আমরা এখানে শুনেছি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব ও স্বামী বিবেকানন্দের কথা। স্বামীজি মানবতার ব্রত নিয়ে গোটা ভারতবর্ষ পরিভ্রমণ করেছেন। সত্য ও সুন্দরের জয়গান করেছেন। তিনি বলেছেন, একমাত্র মানবতাই আমার ধর্ম। বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার সন্তান ফকির লালন শাহ, তিনি মানবতার সাধনা করেছেন। তাঁর গানে ও গীতিতে যে দর্শন রয়েছে তার মূল কথা মানবতার ওপর কিছু নেই। সবার ওপরে মানুষ সত্য তাহার ওপরে নাই। তিনি মানুষকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন।

আমি বেদনাহতচিত্তে এ কথাও বলতে চাই, যুগ যুগ ধরে শান্তি ও সম্প্রীতির লীলাভূমি বলে পরিচিত ছিল আমাদের যে ভূখণ্ড, তাতে বিঘ্নও ঘটেছে। ঘটেছে হানাহানি ও রক্তপাত। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাংলার মানুষই এটা হতে দেয়নি। তারা সহিংসতা, হানাহানি প্রতিহত করে অহিংস বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেছে। পাকিস্তানের প্রতিকূল সময়েও অশুভ শক্তি বিস্তার লাভ করতে পারেনি। একপর্যায়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে জাতিসত্তার বিকাশ ঘটে, স্বাধীনতার প্রশ্নে জাগরণ সৃষ্টি হয়। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করে স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ—সবাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। চরম আত্মত্যাগ করে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল অসাম্প্রদায়িকতা। দেশবাসী চেয়েছে সত্যিকারের গণতন্ত্র। চেয়েছে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আজও গঠন করা যায়নি। আরো দুঃখের কথা, পাকিস্তান আমলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এতটা বিনষ্ট হয়নি। আমরা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছি, রক্তাক্ত প্রান্তরে একসঙ্গে শত্রুর মোকাবেলা করেছি, ধর্মের কারণে আমাদের বিশ্বাস-আস্থায় ছেদ পড়েনি। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে। একদলীয় শাসন চালু হয়েছে। সামরিক শাসন এসেছে। স্বৈরশাসনের বিস্তার ঘটেছে। আবার এ কথাও ঠিক, বহুদলীয় গণতন্ত্রও চলেছে বেশ সময় ধরে। কিন্তু সত্যিকারের গণতন্ত্র, শোষণ-বঞ্চনাহীন এক সমাজ, সবার সমান বিকাশের সমান সুযোগ এখনো অর্জন করা যায়নি।

অসাম্প্রদায়িকতা অহিংসা আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্য। এই চেতনা আবিষ্কার করি কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখায় ও কবিতায়। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আইকন। তিনি বলেছেন, ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন্ জন?...বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’।’ নজরুল আমাদের জাতীয় কবি। নজরুলের সাহিত্যকর্মজুড়ে মানবতা ও সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তির প্রতিফলন। আর এটাই তো ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আরেক মহান বাঙালি অগ্নিপুরুষ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র ভারত স্বাধীন করার ব্রত নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।’ সশস্ত্র আজাদ হিন্দ ফৌজ তিনি গঠন করেছেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন। তাঁর আজাদ হিন্দ বাহিনী বার্মা (মিয়ানমার) থেকে অভিযান চালিয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে ইমফল কহিমাসহ বিস্তৃত অঞ্চল মুক্ত করে। নেতাজির বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ছিলেন ক্যাপ্টেন শাহনেওয়াজ।

বাংলার এ জনপদ আবহমানকাল ধরে ইতিহাসে এক সামাজিক সম্প্রীতির সুখী-সমৃদ্ধ দেশ। পদ্মা, যমুনা, তিস্তা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, সুরমা বিধৌত বঙ্গোপসাগরের বিশাল উপকূলজুড়ে বাংলার এ বদ্বীপ ঈশ্বর নির্মিত এক অনবদ্য পুণ্যভূমি। হাজার বছর ধরে বাংলার সংস্কৃতি শান্তির, সম্প্রীতির। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী সবার মাতৃভূমি। সবার দেশ বাংলাদেশ। হাজার বছর ধরে বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিত হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অপূর্ব লীলাভূমি বলে। ধর্মীয় চেতনা এখানে মানুষকে উদার করেছে। মহানুভব করেছে। দয়াবান ও ক্ষমাশীল করেছে। করেছে পরমতসহিষ্ণু। সব ধর্মই প্রেম-প্রীতি আর ভালোবাসার কথা বলেছে, মানবতার দীক্ষা দিয়েছে। শুনিয়েছে, ‘শোনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।’ শিক্ষা দিয়েছে নরের মধ্যে নারায়ণ, নররূপে নারায়ণ। ইসলাম বলেছে, নরহত্যা মহাপাপ, শিখিয়েছে প্রতিশোধ নয়, ক্ষমা করো। ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ। বলেছে, প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে আহার করা হারাম। বাংলাদেশের হাজার বছরের সমাজ ও সংস্কৃতি এ দর্শন, এ বিশ্বাস এবং এ ঐতিহ্যের ভিত্তির ওপরই গড়ে ওঠা। এটাই জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার মন ও মনন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যুগ যুগ ধরে বাংলার জাতীয় বৈশিষ্ট্য। বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপ দেখেছিলেন। কবিতা লিখেছিলেন, ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।’ রূপসী বাংলা আজ বিবর্ণ, উষর, ধূসর। সবুজে সবুজ, ছায়া ঢাকা, পাখি ডাকা, শান্তির নীড় এই বাংলা আজ নষ্ট নীড়। রবীন্দ্রনাথের অনেক ভালোবাসার সোনার বাংলা এখন এক হতশ্রী বাংলা।

বাংলাদেশ আজ অশান্ত। শান্তি বিঘ্নিত। চারদিকে অস্থিরতা, উত্তেজনা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গি ও উগ্রবাদের উন্মাদনা। সামাজিক সংঘাত, ধর্ম ও জাতি-গোষ্ঠীগত ঘৃণা, সহিংসতা, হানাহানি। সন্ত্রাসবাদের বল্গাহীন বিস্তার। শান্তি-সম্প্রীতি সুদূরপরাহত। স্থিতিশীলতা বিপজ্জনকভাবে বাধাগ্রস্ত। নীতি ও মূল্যবোধের প্রচণ্ড শূন্যতা। হিংসায় উন্মত্ত বাংলাদেশ। আমরা উদ্বিগ্নতার সঙ্গে লক্ষ করছি, এক কদর্য ও সাম্প্রদায়িকতার নগ্ন উত্থান এখানে ঘটে চলেছে। প্রত্যক্ষ করছি, আবহমানকালের বাংলার ঐতিহ্যে বিশাল ফাটল। প্রতিদিন মিডিয়ায় দেখছি ভিন্নমতের, ভিন্ন আদর্শের, ভিন্ন পথের অনুসারীরা গণহারে হত্যা হচ্ছে। হিন্দু পুরোহিত, বৌদ্ধ ভিক্ষু, খ্রিস্টান ধর্মযাজক, শিয়া ইমাম, সুফি সাধক, বাউল, গায়ক নির্যাতিত হচ্ছে। নৃশংসভাবে মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। মন্দির, গির্জা, উপাসনালয় আগুনে ভস্মীভূত হচ্ছে। বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে, রক্তপাত ঘটছে, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। দেব-দেবীর প্রতিমা, যিশুর মূর্তি, বৌদ্ধের প্রতিকৃতি ক্ষতবিক্ষত, চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হচ্ছে। আরো দেখি অবুঝ-নিষ্পাপ শিশুরা হত্যা হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে, প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। পৈশাচিক উন্মাদনায় ধর্ষিত হচ্ছে নারী, শিশুকন্যা, বৃদ্ধারাও। আর ধর্ষণ শেষে হত্যা হচ্ছে নিশ্চিত ও অবধারিতভাবে। এর কোনো ব্যত্যয় নেই। হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে, স্ফীত হচ্ছে। সংক্রামক রোগের মতো এর ভয়াবহতা, এর ব্যাপকতা গোটা জাতিকে শঙ্কিত করে তুলেছে। হত্যাকাণ্ড এক মহা হত্যাযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। মানুষের হিংসা, বিদ্বেষ, অর্থগৃধ্নুতা, সীমাহীন লালসা, পারস্পরিক ঘৃণা পশুত্বের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। পশুরাই আজ অনেক মানবিক। মানুষ পাশবিক। হিংসার বিষবাষ্পে সমাজ বিষাক্ত। উদগ্র লোভ-লালসায় মানুষ উন্মত্ত। চতুর্দিকে শুধু হানাহানি, রক্ত আর রক্তপাত। ঘৃণা ঘৃণার জন্ম দেয়, হিংসা হিংসার, ভায়োলেন্স ভায়োলেন্সের, সন্ত্রাস সন্ত্রাসের।

আমি আমার কিছু অনুভূতি, উপলব্ধি, চিন্তাচেতনার কথা তুলে ধরলাম। সাম্প্রতিককালে এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনাগুলো আমাকে খুব ভাবায়, উদ্বিগ্ন করে। ভীষণ আশাবাদী মানুষ আমি। নিরাশায় কখনো ভুগি না। আমি পজিটিভ থিংকিং নিয়ে বিশ্বাস করি। আমি স্বপ্ন দেখি। অনেক বড় স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে আমি ভালোবাসি। বুঝি, এখন সময়টা বাংলাদেশের দুঃসময়। হয়তো তা একটু দীর্ঘ হচ্ছে। কিন্তু তা কখনো চিরস্থায়ী নয়। হতে পারে না। এর অবসান অবশ্যম্ভাবী। মহাসাগর পাড়ি দেওয়া মহা বিহঙ্গের.../ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া/মহা আশঙ্কা জপিছে মৌন মন্তরে/দিক-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা.../ তবু বিহঙ্গ, বিহঙ্গ মোর এখনি, অন্ধ, বন্ধ করো না পাখা।

না। আমি পাখা বন্ধ করিনি। পাখা বন্ধ করব না। সাইবেরিয়ার কঠিন তুষারঝড় পেছনে ফেলে ঊর্ধ্ব আকাশে ডানা মেলে আমি উড়ে চলেছি। মহাসাগর পার হয়ে উত্তরমণ্ডলের বাংলার উষ্ণ গন্তব্যে আমি পৌঁছবই পৌঁছব।

লেখক: সাবেক সেনাপ্রধান



মন্তব্য