kalerkantho


নতুন সরকারের কাছে ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা

ইকরামউজ্জমান

১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



নতুন সরকারের কাছে ক্রীড়াঙ্গনের প্রত্যাশা

দেশে নতুন সরকার এসেছে। বিগত ১০ বছরও তারা ক্ষমতায় ছিল। নতুন করে একটি সর্বদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করেছে। নতুন প্রজন্ম এবার একচ্ছত্রভাবে মহাজোটকে সমর্থন দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। গণতান্ত্রিক আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে বলেছেন, ‘আরো উন্নত সমৃদ্ধ দেশ উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের ভোট দিন, আমরা সমৃদ্ধি দেব, উন্নত জীবন দেব। দেশের মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছে প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর মন্ত্রিসভাও শপথ নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার অঙ্গীকার আছে। আছে বিভিন্ন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার। এ বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের ইশতেহারে যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, এখন সেগুলো বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করতে হবে। অতীতের ভুলগুলো শুধরে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। ভাবতে হবে তরুণদের নিয়ে। তারাই নতুন সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে পরিবর্তনের কথা ভেবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার কথা ভেবে। আর এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মহলের সহযোগিতার পাশাপাশি সরকারের ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট বলে মনে করি। গত ১০ বছরে অনেক কাজ করা উচিত ছিল, সম্ভব ছিল, কিন্তু করা হযনি।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন খেলায় সফলতা অর্জনের পাশাপাশি দেশে নতুন ক্রীড়াকাঠামো নির্মাণ ছাড়াও বিরাজমান বস্তুগত সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি। ক্রীড়াঙ্গনে তারুণ্যের শক্তি এবং তাদের সম্ভাবনার কথা ভাবা হয়েছে। বাস্তবধর্মী বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করে তার অর্থবহ ফলও মিলেছে। এ বিষয়ে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট মহল শুধু নয়, সাধারণ ক্রীড়ানুরাগী মহলেরও কোনো দ্বিমত নেই।

নতুন মন্ত্রিসভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মো. জাহিদ আহসান। তিনি বর্তমান সরকারের বিগত দুই মেয়াদে ১০ বছর যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে মো. জাহিদ আহসানের নিয়োগকে প্রত্যাশিত মনে করছি এর জন্য যে তিনি শুধু ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত নন, এই চত্বরে তাঁর প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন কার্যকলাপের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে। রোগীর রোগ সারানোর জন্য সঠিক পথ্য প্রয়োগে ডাক্তারের তো বিকল্প নেই।

ক্রীড়াঙ্গন চলমান ক্ষেত্র। এ ক্ষেত্রে উন্নতি এবং অবনতি খুবই দৃশ্যমান। বাইরের জগতের মানুষরাও এটা সহজেই বুঝতে পারে। বাস্তবতার আলোকে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রীড়াচর্চা এখন জাতি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ হলে সামগ্রিকভাবে ক্রীড়া সচেতনা বাড়ে। আর তাই ক্রীড়াঙ্গন ঘিরে মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়ানোর জন্য এখন কাজ করতে হবে। ক্রীড়াঙ্গনে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চা, সুশাসন, শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহির বিষয়টিকে মুখে না রেখে বাস্তবে প্রতিফলিত করতে পারলে এই চত্বরের রূপ আগামী পাঁচ বছরে অনেক বেশি পাল্টে যাবে। অতীতে কর্তৃত্ববাদিতা এবং স্বার্থ তাড়না ক্রীড়াঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পক্ষাঘাতদুষ্টতা সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং স্তাবকতা ক্রীড়াঙ্গনের চেতনাকে সব সময়ই দুর্বল করে।

ক্রীড়াঙ্গনের শক্তি, দুর্বলতা, সম্ভাবনা এবং হুমকি—এ বিষয়গুলো নির্ণয়ের জন্য গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। পুরো বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে সহজেই অনুমেয়। যেটি গুরুত্বপূর্ণ—পুরো বিষয়টিকে কিভাবে দেখা হবে। সে অনুযায়ী অগ্রাধিকার সেট করে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে চিন্তাশীল পরিকল্পনার মাধ্যমে (২১ বছর ধরে নতুন ক্রীড়ানীতি আলোর মুখ দেখেনি এটা শুধু দুঃখজনক নয়, ক্ষোভ এবং হতাশারও বিষয়)। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিবন্ধকতার দরজাগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুলে দিতে হবে। আর এর জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে অঙ্গীকারের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। বিশ্বাস করি, ক্রীড়াঙ্গনে পরিবর্তন আসবে। আসতেই হবে। এটাও জানি, পরিবর্তনবিরোধীরা বিরোধিতা করবেন। তবে ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ ঠিকই সুস্থ, সুন্দর, অগ্রসরমাণ এবং টেকসই পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব এবং বাস্তবধর্মী উদ্যোগ। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিষদ, দপ্তর এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ও সহযোগিতা। ক্রীড়াঙ্গনের প্রশাসনব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। বিভিন্ন কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ক্রীড়া প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো দরকার। ক্রীড়াঙ্গনে এখন যে সমস্যা এই সমস্যার সমাধান করতে হবে স্বপ্ন এবং দীর্ঘকালীন দৃষ্টিকোণ থেকে। পাশাপাশি সুশাসনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অকপটে কিছু কথা বলেছেন মো. জাহিদ আহসান। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের গুরুত্ব, অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়, ক্রীড়া বাজেটের স্বল্পতা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চত্বরের পরিবেশ, পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে তাঁর অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের চেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নিয়ে আমি বাইরে থেকে অনেক কথা শুনি। এটা আমি শুনতে চাই না। দুর্নাম শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এটাকে মডেল সংস্থা হিসেবে তুলে ধরতে চাই। (কালের কণ্ঠ, ৯ জানুয়ারি ২০১৯)। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘দুর্নীতি, অনিয়মকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিচ্ছি। কোনো অন্যায় করব না, অন্যায় করতেও দেব না, তিনবার সংসদ সদস্য ছিলাম। একটি কলমও আমাকে নিয়ে কেউ লেখার সুযোগ পায়নি। সেভাবেই চলার চেষ্টা করেছি।’ গুড লাক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক



মন্তব্য