kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

সুরা কাহফ পাঠ করার ফজিলত

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সুরা কাহফ পাঠ করার ফজিলত

১. সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং এতে তিনি কোনো বক্রতা রাখেননি। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ১ (দ্বিতীয় পর্ব)]

তাফসির : এটি সুরা কাহফের প্রথম আয়াত। সুরা কাহফে সতর্ক করা, বোঝানো ও শিক্ষা দেওয়া—এ তিনটি কাজই একত্রে করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে মক্কার কাফিরদের। তাদের বলা হয়েছে, বনি ইসরাঈল ও অন্য জাতিদের পরিণাম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। অন্যথায় তোমাদের ধ্বংস অনিবার্য।

মানুষের সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য ও কল্যাণ-অকল্যাণের ভিত্তি কী—তা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতিতে বোঝানো হয়েছে। তাওহিদ, পরকাল, নবুয়ত ও কোরআনের সত্যতার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। মক্কার কাফিরদের পক্ষ থেকে এই মৌলিক সত্যগুলোর ব্যাপারে যেসব সন্দেহ-সংশয় করা হয়েছিল, সেগুলো দূর করা হয়েছে।

শিক্ষা দেওয়ার পর্যায়ে নৈতিকতা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূলনীতি বর্ণনা করা হয়েছে।

এসব কথার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা ও সংকটের প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে সুদৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থানের ওপর টিকে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কাফিরদের জুলুম, নিপীড়ন, লাগাতার মিথ্যাচার ও মিথ্যা দোষারোপের বিপরীতে ধৈর্য ধারণ করতে বলা হয়েছে। এ সুরা পাঠের রয়েছে বিশেষ ফজিলত। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে (এবং তা পাঠ করবে) তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে।’ (সহিহ মুসলিম)

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার ঈমানের নূর এক জুমা থেকে অন্য জুমা পর্যন্ত বিচ্ছুরিত হতে থাকবে।’ (বায়হাকি, সুনানে সুগরা, হাদিস : ৬৩৫; বায়হাকি, সুনানে কুবরা, হাদিস : ৫৭৯২)

বারা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, এক দিন এক ব্যক্তি সুরা কাহফ পাঠ করছিল। হঠাৎ সে দেখল, তার পশু লাফাচ্ছে। সে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মেঘমালা বা ছায়ার মতো কিছু দেখতে পেল। লোকটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গিয়ে ঘটনাটি বলল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এটা হলো বিশেষ প্রশান্তি, যা কোরআনের সঙ্গে বা কোরআনের ওপর নাজিল হয়েছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৬২৫, মুসলিম, হাদিস : ১৮৯২)

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহফ পাঠ করল—যেভাবে তা নাজিল হয়েছে, এটি তার জন্য কিয়ামতের দিন মক্কা পর্যন্ত নূর হবে।’ (তারগিব, হাদিস : ১৪৭৩)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জুমার রাতে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা থেকে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে।’ (সহিহ তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস : ৭৩৬)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য