kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

পরকালে পুনরুত্থান অনিবার্য

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পরকালে পুনরুত্থান অনিবার্য

৯৮. এটা (জাহান্নাম) তাদের কর্মফল। কারণ তারা আমার নিদর্শন অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল, ‘অস্থিতে পরিণত হয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হলেও কি আমরা নতুন সৃষ্টি রূপে পুনরুত্থিত হব?’

৯৯. ওরা কি দেখে না যে আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি এগুলোর অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম? তিনি তাদের জন্য নির্দিষ্ট কাল স্থির করেছেন, যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তথাপি সীমা লঙ্ঘনকারীরা কুফরি করা ছাড়া ক্ষান্ত হলো না। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯৮-৯৯)

তাফসির : আগের আয়াতে অবিশ্বাসীদের পরিণতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য দুই আয়াতে কিয়ামত সম্পর্কে অতি পুরনো একটি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। কাফিররা মনে করে, মানুষ মরে মাটিতে মিশে যাওয়ার পর তাদের আবার জীবিত করার ক্ষমতা আল্লাহর নেই। অথচ জীবন-মরণ সবই আল্লাহর হাতে। আল্লাহর ক্ষমতা সব ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। ধ্বংসপ্রাপ্ত কোনো বস্তু আবার আগের অবস্থায় সৃষ্টি করা তাঁর জন্য খুবই সহজ। কিন্তু অবিশ্বাসীরা কোনো ধরনের চিন্তা ও যুক্তি ছাড়া পরকালকে অস্বীকার করে। অথচ আসমানি সব ধর্মগ্রন্থে পরকালের অস্তিত্ব ও পরকালের হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে হুঁশিয়ারি রয়েছে। ইসলাম ধর্মের অন্যতম বিশ্বাস হলো পরকালের জবাবদিহি ও হিসাব-নিকাশ। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে এ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের হিসাব-নিকাশ অতি নিকটে। অথচ তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে আছে।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ১)

পরকালে পুনরুত্থান কোনো অযৌক্তিক ব্যাপার নয়। এ জীবনও একমাত্র জীবন নয়। মানুষ একসময় রুহজগতে ছিল। সেখান থেকে মায়ের গর্ভের জগতে এসেছে। মায়ের গর্ভ থেকে পার্থিব জগতে এসেছে। এভাবে মানুষের জীবন-জগৎ পরিবর্তন হওয়া তার পরকালীন জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে সহায়তা করে। মৃত রক্তবিন্দু থেকে যে জীবন্ত মানুষের সৃষ্টি, সে মৃত মানুষকে আবার জীবিত করার ক্ষমতা আল্লাহর রয়েছে।

তা ছাড়া মানবজাতির ভালো-মন্দ সব কাজের একটি নির্মোহ, পরিপূর্ণ বিচার হওয়া দরকার। এটি ইহকালে সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ—দুনিয়ায় বহু খুনের আসামিকে মাত্র একবারই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়। অথচ তার প্রতিটি খুনের সাজাই মৃত্যুদণ্ড। পরকালেই তার এই পূর্ণ বিচার সম্ভব। কেননা সেই জীবন অনন্তকালের। সেখানে একই ব্যক্তির জন্য বারবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সহজ। সুতরাং পরকালের জবাবদিহি সত্য। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমার কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই কাজ।’ (সুরা : গাশিয়াহ, আয়াত : ২৫-২৬)

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয়ে জবাব না দেওয়া পর্যন্ত কোনো মানবসন্তান তার প্রতিপালকের সামনে পা বাড়াতে পারবে না। এক. জীবন কিভাবে অতিবাহিত করেছ? দুই. যৌবন কিভাবে নিঃশেষ করেছ? তিন. ধনসম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছ? চার. কোন পথে সম্পদ ব্যয় করেছ? পাঁচ. অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছ?’ (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ২৪১৬)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য