kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ঈমান ত্যাগকারীর জন্য রয়েছে মহা শাস্তি

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ঈমান ত্যাগকারীর জন্য রয়েছে মহা শাস্তি

১০৬. কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে ও কুফরির জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার ওপর আল্লাহর আজাব পতিত হবে। আর তার জন্য রয়েছে মহা শাস্তি। তবে ওই ব্যক্তির জন্য নয়, যাকে কুফরি করতে বাধ্য করা হয়েছে, কিন্তু তার অন্তর ঈমানে অবিচল। [সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৬ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, যারা আল্লাহর আয়াতে বিশ্বাস করে না, তারা কথা ও কাজে তথা সর্বোতভাবে কাফির। এর বিপরীতে কিছু লোক আছে, যারা প্রকৃতপক্ষে কাফির নয়, কিন্তু পাহাড়সম নির্যাতন সহ্য করেও নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে কদাচিৎ কিছু কুফরিমূলক বাক্য তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে যায়। অথচ তাদের অন্তর ঈমানে অবিচল। এমন লোকদের প্রসঙ্গে আলোচ্য আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাফসিরবিদ ইবনে আব্বাস (আ.)-এর মতে, এ আয়াত বিশেষত আম্মার বিন ইয়াসের (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। (ইবনে কাসির)

আম্মার (রা.)-এর মা-বাবাকে কাফিররা তাঁর চোখের সামনে শহীদ করে দেয়। এ অবস্থায় যখন কাফিররা আম্মার (রা.)-কে অত্যাচার করতে আসে, তখন এমন কিছু কথা বলেন, যা কাফিররা পছন্দ করে। ফলে তারা তাঁকে শাস্তি থেকে মুক্তি দেয়। কিন্তু তাঁর অন্তর ছিল ঈমানে পরিপূর্ণ। এভাবে তিনি নিজের জীবন রক্ষা করেন।

এর অর্থ এই নয় যে প্রাণ বাঁচানোর জন্য কুফরিমূলক কথা বলা বাঞ্ছনীয়। বরং এটি নিছক ‘রুখসাত’ তথা সাময়িক অনুমতি ও সুবিধা দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। তার মানে, যদি অন্তরে ঈমানের ওপর অবিচল থেকে কেউ বাধ্য হয়ে এ ধরনের কথা বলে, তাহলে তাকে জবাবদিহির সম্মুখীন হতে হবে না। অন্যথায় ‘আজিমত’ বা দৃঢ় ঈমানের পরিচয় হলো প্রাণের বিনিময়ে হলেও সত্যের ঘোষণা দিয়ে যাওয়া। মহানবী (সা.)-এর যুগে উভয় ধরনের ঘটনা দেখা যায়। একদিকে খাব্বাব (রা.)-কে জ্বলন্ত অঙ্গারে শোয়ানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর শরীরের চর্বি গলে গলে আগুন নিভে যায়। কিন্তু এর পরও তিনি দৃঢ়ভাবে ঈমানের ওপর অবিচল ছিলেন। বেলাল (রা.)-কে লোহার বর্ম পরিয়ে কাঠফাটা রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। মরুময় আরবের উত্তপ্ত বালুকা প্রান্তরে শুইয়ে তার ওপর দিয়ে তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তিনি ‘আহাদ’ ‘আহাদ’ শব্দ উচ্চারণ করতে থাকেন। নবুয়তের মিথ্যা দাবিদার মুসাইলামার নির্দেশে হাবিব বিন জায়েদ বিন আসেম (রা.)-এর শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা হয়। সেই সঙ্গে মুসাইলামাকে নবী হিসেবে মেনে নিতে বলা হয়। কিন্তু প্রতিবারই তিনি তাকে মেনে নিতে অস্বীকার করেন। এভাবে ক্রমাগত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটা হতে হতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মূলকথা হলো, সব আলেম এ বিষয়ে একমত যে নির্যাতন ও জুলুম সহ্য করে ঈমানের ওপর অবিচল থাকা উত্তম। কুফরিমূলক বাধ্য উচ্চারণ করে বেঁচে থাকার চেয়ে ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ করার মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। (আততাফসিরুল মুনির : ১৪/৫৬৭)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য