kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

কোরআন সম্পর্কে মক্কার কাফিরদের জঘন্য অপবাদ

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কোরআন সম্পর্কে মক্কার কাফিরদের জঘন্য অপবাদ

১০৩. আমি (আল্লাহ) তো জানি যে সত্যি তারা (কাফিররা) বলে, তাকে [মহানবী (সা.)] তো শিক্ষা দেয় একজন মানুষ। তারা যার কথা আরোপ করে, সে তো আরবিভাষী নয়, অথচ কোরআনের ভাষা বিশুদ্ধ আরবি। [সুরা : নাহল, আয়াত : ১০৩ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে পবিত্র কোরআনের ওপর অবিশ্বাসীদের অপবাদ আরোপের কথা বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে তাদের আরেকটি অপবাদের অপনোদন করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, কোনো কোনো কাফির কোরআন অস্বীকার করে। তারা বলে, ‘কোরআন মানবরচিত গ্রন্থ।’ মক্কার এক খ্রিস্টান দাসের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মাঝেমধ্যে দেখা হতো। এতে মক্কার কাফিররা বলাবলি শুরু করে যে মহানবী (সা.)-কে এই দাস কোরআন শিক্ষা দেয় (নাউজুবিল্লাহ)।

আল্লামা ওহাবা জুহাইলি (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ‘ওই দাসের নাম জাবর। কেউ কেউ বলেছেন বালাম, আর কারো কারো মতে ইয়াইশ। সে ছিল হাজরামি গোত্রের গোলাম। তার মনিবের নাম ফাকেহ বিন মুগিরা বা আমের বিন আল হাজরামি কিংবা উতবা বিন রবিয়া।’ (আততাফসিরুল মুনির : ১৪/৫৫৬)

ইমাম কুরতুবি (রহ.) লিখেছেন, ‘এসব নাম ও ঘটনা কাল্পনিক। কেননা ছেলেটি দ্বিন ইসলাম শেখার জন্য মাঝেমধ্যে মহানবী (সা.)-এর দরবারে আসত।’

আল্লামা জুহাইলি (রহ.) আরো লিখেছেন, ‘ছেলেটি ছিল খ্রিস্টান। পরে সে মুসলমান হয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন ঘটনা শুনে মক্কার মুশরিকরা এ ধরনের রটনা রটায়। অথচ সে ছিল অনারবি।’

সম্ভবত ছেলেটি জ্ঞানগর্ভ কথা বলতে পারত। হয়তো তাওরাত ও ইনজিলের কোনো কোনো ঘটনাও তার জানা ছিল। কিন্তু তার ইসলাম গ্রহণ প্রমাণ করে যে সে নিজেই ইসলামের বাণী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।

কাফিরদের অভিযোগের জবাবে এ আয়াতে বলা হয়েছে, কাফিররা যাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষক বলে দাবি করেছিল, সে ছিল অনারবি। সে বিশুদ্ধ আরবি জানত না। তাই তার পক্ষে এমন কোরআন রচনা সম্ভব নয়। অথচ কোরআনের সাহিত্যমান, বর্ণনাশৈলী ও জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য মানবীয় ভাষাসাহিত্যের অনেক ঊর্ধ্বে। কোরআনের ভাষাগত মান এতই শক্তিশালী যে মক্কার কাফিররা কোরআনকে ‘রাসুলের জাদু’ বলে উল্লেখ করত। তাই যখন রাসুল (সা.) কোরআন তিলাওয়াত করতেন তখন তারা মানুষকে কোরআন শুনতে নিষেধ করত, যাতে তারা মুগ্ধ হয়ে মুসলমান না হয়ে যায়।

তা ছাড়া মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মানুষের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, যদি কারো পক্ষে সম্ভব হয়, সে যেন কোরআনের সুরাগুলোর মতো একটি সুরা রচনা করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি। গোটা আরব জাতি সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করেও যেখানে একটি সুরা রচনা করতে পারেনি, সেখানে একজন অনারবি দাস কিভাবে কোরআন রচনা করবে?

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য