kalerkantho


বিএনপি কি আবার নরক গুলজার করবে?

আবদুল মান্নান

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপি কি আবার নরক গুলজার করবে?

হঠাত্ করেই ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা’র  বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একধরনের উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজনা আর উৎকণ্ঠার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মামলার প্রধান আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সঙ্গে আছেন লন্ডনপ্রবাসী, আইনের দৃষ্টিতে পলাতক ও অন্য আরেকটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত আসামি তাঁর বড় ছেলে তারেক  রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়া একজন বড়মাপের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সেনাশাসক জেনারেল জিয়ার স্ত্রী। জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর সৃষ্ট রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন হয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ম্যাডাম আর দেশনেত্রী। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুবার ক্ষমতায় ছিলেন পূর্ণ মেয়াদে। একবার জনরোষের শিকার হয়ে শুরুতেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো রাজনৈতিক অর্জন নেই, তবে দাবি করতে পারেন তিনি দেশের অন্যতম বৃহত্ রাজনৈতিক দলের প্রধান। বড় দাগে বলা যায়, যাঁরা আওয়ামী লীগকে অপছন্দ করেন তিনি তাঁদের সমর্থন পান। ব্যতিক্রম আছে অবশ্য। তাঁর বড় কৃতিত্ব হচ্ছে আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত অনেক মিডিয়া হাউসেরও সমর্থন তাঁর প্রতি আছে। যে মামলার রায় নিয়ে এত উৎকণ্ঠা আর উত্তেজনা, তা সৃষ্টির পেছনে এসব মিডিয়ার ভূমিকাও কম নয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ কমবেশি কিছুটা হলেও অবহিত। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে বেগম জিয়া যখন প্রথম মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রী তখন তিনি সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় এতিম তহবিল নামে একটি চলতি হিসাব খোলেন। সেই হিসাবে বিভিন্ন সময়ে চার কোটি টাকার বেশি জমা হয়, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে দেশের বাইরে থেকে। পরে বেগম জিয়া তাঁর প্রয়াত স্বামীর নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করেন এবং সেই অর্থ এই ট্রাস্টে স্থানান্তর করেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবে ট্রাস্ট নামে কোনো অফিস খোলা হয়নি অথবা কোনো অর্থ এতিম বা দুস্থদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি কিন্তু এই তহবিল থেকে বেআইনিভাবে তারেক রহমানসহ ট্রাস্টি বোর্ডের অন্য একজন সদস্য জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমানের নামে স্থানান্তর করে তা তছরুপ করা হয়। ট্রাস্ট গঠনের সময় ঠিকানা দেখানো হয়েছিল   বেগম জিয়ার দখলে থাকা ঢাকা সেনানিবাসের ৬ নং  মঈনুল রোডের বাড়িটি, যা থেকে আদালতের রায়ে বেগম জিয়া উচ্ছেদ হয়েছেন। সেখানে এখন সেনা সদস্যদের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাস্ট ফান্ডের নিয়মিত অডিট হতে হয়, যা এই ফান্ডের ক্ষেত্রে কখনো হয়নি। আওয়ামী লীগ প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৯৯৪ সালের ১১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি সেই ট্রাস্টের নামে লিখে দিয়েছিলেন। এই ফান্ডে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা নিয়মিত অনুদান দেন। এই ফান্ড থেকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও একটি হাসপাতাল পরিচালিত হওয়া ছাড়াও শিক্ষার জন্য বৃত্তি ও দুস্থদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ট্রাস্ট হিসাব নিয়মিত অডিট হয়। এই ট্রাস্ট নিয়ে কখনো কোনো অভিযোগ ওঠেনি।

এক-এগারোর পর ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে সেনাশাসিত সরকার বেগম জিয়াকে প্রধান আসামি করে একটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে, যার দীর্ঘ ১০ বছর শুনানি শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। বাংলাদেশের তো নয়ই, অন্য কোনো দেশে এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো দুর্নীতি মামলা চলার নজির নেই। এই দীর্ঘ সময় লাগার অন্যতম কারণ নানা অজুহাতে আসামিপক্ষের সময়ক্ষেপণের আশ্রয় নেওয়া।

উপমহাদেশে রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো নতুন কিছু নয়। গান্ধী, নেহরু, নেতাজি সুভাষ বসু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অসংখ্যবার এ ধরনের মামলার সম্মুখীন হয়েছেন। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুকে দুর্নীতির মামলায়ও ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে কম করে হলেও ১৯ বার। আইনের আশ্রয় নিয়ে তা থেকে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। নেতাজি গৃহবন্দি থাকাবস্থায় পালিয়ে ইউরোপ পাড়ি দিয়েছিলেন। ইংরেজ আমলে চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী (সাকা চৌধুরীর বাবা) বিদ্যুত্ কম্পানির তামার তার চুরির অপরাধে দণ্ডিত হয়ে জরিমানা দিয়েছিলেন। ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আদালতের রায় মেনে নিয়ে জেলে গিয়েছিলেন। এমনকি এরশাদের মতো একজন স্বৈরশাসকও ক্ষমতা হারানোর পর জেলে গেছেন। বর্তমানে বেগম জিয়া ও তাঁর দলের মওদুদ আহমদ, মির্জা ফখরুল, রিজভী আহমেদ গং একটি দুর্নীতি মামলার রায়কে সামনে রেখে যেভাবে শিং মাছের মতো লাফালাফি করছেন, তেমনটি ওপরে উল্লিখিত কারো ক্ষেত্রে দেখা যায়নি; যদিও এরশাদ ছাড়া এদের রাজনৈতিক পরিচয় বেগম জিয়ার তুলনায় ছিল আকাশচুম্বী। খালেদা জিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা এই প্রথম নয়। যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশের আদালতে বেগম জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো বাংলাদেশে ব্যবসা দিতে বিদেশি কম্পানির কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া ও মানি লন্ডারিং মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। সিঙ্গাপুর থেকে আরাফাত রহমানের পাচার করা প্রায় ৩৯ কোটি টাকা বাংলাদেশকে সে দেশের সরকার ফেরত দিয়েছে। তারেক রহমানের নাকি মাত্র একটি ভাঙা সুটকেস ও কয়েকটি ছেঁড়া গেঞ্জি ছিল। সেই তারেক রহমান গত ৯ বছর ধরে লন্ডনের একটি বিলাসবহুল এলাকায় থাকেন এবং আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি ঘোষণা করেছে, বর্তমানে তারেক রহমানের সম্পদের মূল্য দেড় বিলিয়ন ডলার। পদ্মা সেতু বানাতে বাংলাদেশের তিন বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি খরচ হচ্ছে। ব্রিটেনের আয়কর বিভাগকে তারেক রহমান জানিয়েছেন তাঁর আয়ের উৎস জুয়া খেলা।

বর্তমানে দেশে কোটি টাকার যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হচ্ছে, জিয়া অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়া যদি দোষী সাব্যস্ত হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি দণ্ডিত হন তা হলে বেগম জিয়া বা তাঁর দলের কী হবে? এক-এগারোর পর যখন বেগম জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে গৃহবন্দি করা হয় তখন দুই দলের শীর্ষ নেতাদের দুই ধরনের আচরণ লক্ষ করা যায়। দেশের দুটি প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকারের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বেশ জোরে প্রচারণা চালাতে শুরু করল শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়াকে বাদ দিয়ে সংস্কার করে দুই দলকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাদের সঙ্গে সুর মেলালেন সমাজের বেশ কিছু সুধীজন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ঘোষণা করলেন, দলে সংস্কার হবে, তবে তা শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে নয়। আর বিএনপি এই প্রশ্নে আড়াআড়িভাবে দুভাগ হয়ে গেল। অসুস্থ সাইফুর রহমানকে পাঁজাকোলা করে এনে ঘোষণা করা হলো, আজ থেকে তিনি হচ্ছেন বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান। সঙ্গে ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা, মেজর হাফিজ, মান্নান ভূঁইয়া, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। উল্লিখিত পত্রিকা দুটি তাদের বেশ প্রমোট করা শুরু করল। আবারও প্রমাণ হলো বিএনপি যতই জনসমর্থনের দাবি করুক না কেন, তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দলের প্রতি অঙ্গীকারের অভাব আছে। তাঁরা রাজনীতি করেন স্রেফ ব্যক্তিগত স্বার্থে। ৮ তারিখের রায়ে বেগম জিয়ার সাজা হলে দলে যে একটা বড় ধরনের ভাঙন হবে না, তা নিশ্চিত নয়। সে কারণেই দলের কাউন্সিল অধিবেশনের দীর্ঘ সময়ের পর সম্প্রতি দলটি ঢাকার একটি বিলাসবহুল হোটেলে তাদের প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা করল। সেই সভার শুরুতে বেগম জিয়ার পলাতক পুত্র তারেক রহমানের একটি বক্তৃতা ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থিত নেতাদের দেখানো হয়। সেই সভায় খালেদা জিয়া আর তারেক রহমান ছাড়া প্রথম সারির কোনো নেতাকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি। বোঝা যাচ্ছে, দলে এখন তারেক রহমানের নিরঙ্কুশ অবস্থান বেশ মজবুত এবং বেগম জিয়ার নেতৃত্বকে নানাভাবে দুর্বল করে তারেক রহমানই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দখল করতে প্রস্তুত। আর তারেক রহমানের মতো একজন প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ যদি এ দলের নেতৃত্ব দেন, তা হলে দলের বারোটা বাজতে বেশি সময় লাগবে না। অবশ্য পাকিস্তানের আইএসআই তাঁকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে তা নিশ্চিত। তারেক আইএসআইয়ের কাছে বেশ আদৃত। অনেকের মতে, আইএসআইকে সন্তুষ্ট করতেই জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাকা চৌধুরীর জন্য শোক প্রস্তাব গৃহীত  হয়েছে। নির্বাহী কমিটির সভায় বেগম জিয়া ঘোষণা করেছেন, সরকার উত্খাতের আন্দোলন শুরু হলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসন বিএনপির সঙ্গে থাকবে। এটি একটি উসকানিমূলক রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের শামিল। এমন উসকানি তিনি ২০১৩ সালে পেট্রলবোমা যুদ্ধের সময়ও দিয়েছিলেন। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অপ্রত্যাশিত।

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন, বেগম জিয়ার যদি সত্যি সত্যি সাজা হয়, তা হলে দেশে কি আবার ২০১৩-১৪ সালের মতো পেট্রলবোমা সন্ত্রাস শুরু হবে? দলের কোনো কোনো নেতা ঘোষণা করেছেন, বেগম জিয়া জেলে গেলে বিএনপি সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে। এ দেশের রাজনীতির ইতিহাস বলে, সরকার পতনের সফল আন্দোলন করার ইতিহাস আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের নেই। এরশাদ পতনের আন্দোলন বিএনপি শুরু করেছিল ঠিকই কিন্তু সেই আন্দোলন তত দিন পর্যন্ত হালে পানি পায়নি, যত দিন আওয়ামী লীগ রাজপথে নামেনি। ২০১৩-১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে যা করেছে তা কোনো আন্দোলন ছিল না। ছিল নিরীহ মানুষ হত্যা আর জনগণের সম্পদ ধ্বংস করার তাণ্ডব। সেই তাণ্ডব পরিচালনা করার জন্য বেগম জিয়া গুলশানে তাঁর অফিসে একটি কমান্ড পোস্ট স্থাপন করেছিলেন এবং ঢাকা অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন। ৯০ দিন পর তিনি সেই কমান্ড পোস্ট থেকে বের হয়েছিলেন। তবে সেই অবরোধ তিনি যেহেতু কখনো প্রত্যাহার করেননি, সেহেতু ধরে নিতে হবে বেগম জিয়ার শেখ হাসিনার সরকার হটানোর আন্দোলন এখনো চলছে। বিএনপির বোঝা উচিত সন্ত্রাস আর অন্দোলন এক কথা নয়। জনগণ সঙ্গে থাকলে আন্দোলন সফল করতে যে সন্ত্রাস আর মানুষ হত্যার আশ্রয় নিতে হয় না, তা এ দেশের ছাত্রসমাজ উনসত্তরে আর বঙ্গবন্ধু একাত্তরের মার্চ মাসে প্রমাণ করেছেন।

বিএনপি ঘোষণা করেছে ৮ তারিখের রায়ে যদি বেগম জিয়া বেকসুর খালাস পান, তাহলে বুঝতে হবে ন্যায়বিচার হয়েছে আর দেশে আইনের শাসন আছে। আর তা না হলে বুঝতে হবে দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। একজন ব্যক্তির বিচারের ওপর কেন আইনের শাসনের পরীক্ষা নির্ভর করবে তা বোধগম্য নয়। বর্তমানে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি দুর্নীতি মামলা চলমান আছে, যা ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। যদি ৮ তারিখ বেগম জিয়া খালাস পান আর চলমান মামলাটিতে দণ্ডিত হন, তাহলে বিএনপির প্রতিক্রিয়া কী হবে তা জানতে অনেকে আগ্রহী।

বেগম জিয়ার মামলা, ৮ ফেব্রুয়ারির রায়কে ঘিরে বিএনপি এত সব বাগাড়ম্বরের একমাত্র কারণ দল হিসেবে বিএনপি এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। এ বছরের শেষে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি যদি সেই নির্বাচনে কোনো অজুহাতে অংশ না নেয়, তাহলে তার অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে। বেগম জিয়ার যদি যেকোনো একটি মামলায় দণ্ডিত হন, তাহলে দলের হাল কে ধরবেন? তারেক রহমানের  সেই সক্ষমতা আছে তা কেউই  তেমন একটা বিশ্বাস করে না। তাঁর মা ক্ষমতায় থাকতে তিনি আর তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গ দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন এর বেশি কিছু নয়। বেগম জিয়া অন্তত কিছু সময় এরশাদবিরোধী অন্দোলনে রাজপথের রাজনীতি করেছেন। বিএনপি যদি সুস্থ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, তাহলে তাদের উচিত হবে রাজনীতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আইনের আশ্রয় নিয়ে বেগম জিয়ার মামলার রায় মোকাবেলা করা, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে নয়। তা করলে ২০১৮ সালেই বিএনপি নামের দলটির মৃত্যু হতে পারে। সুস্থ চিন্তা করেন তেমন মানুষ বিএনপিতে এখনো কয়েকজন আছেন। দলে পরিস্থিতির  কিছুটা উন্নতি হতে পারে তাঁরা যদি জড়তা ঝেড়ে ফেলে বাস্তবতাকে দলের নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন। বেগম জিয়ার রায়কে ঘিরে কোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের।

 

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

 


মন্তব্য