kalerkantho


খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিকার আইন

এ এম এম শওকত আলী

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিকার আইন

একটি দৈনিকে গত ১১ জানুয়ারি ‘খাদ্য কমিশন হচ্ছে’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এসংক্রান্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে মর্মে জানা যায়। খসড়া আইনে নাগরিকদের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ আইন প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়া আইনে খাদ্য উৎপাদন, মজুদ, আমদানি-রপ্তানি, পুষ্টিমান নির্ধারণসহ খাদ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্যের স্থিতিশীলতা সম্পর্কিত বিষয় রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণে এসব ক্ষেত্র চারটি ভাগে দেখানো যায়। এক. প্রাপ্যতা, দুই. উৎপাদন, তিন. নিরাপদ খাদ্য এবং চার. স্থিতিশীলতা। আন্তর্জাতিক এনজিও অকসক্যামের এক গবেষণা প্রকাশনায় (মে ২০১৫) দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জাতীয় খাদ্য আইন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ প্রকাশনায় আইন ১৮৬৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট সব আইনের তালিকা রয়েছে। এ থেকে যে বিষয়টি দৃশ্যমান তা হলো, খাদ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিষয়ে আইনের অভাব নেই। প্রশ্ন করা যায়, তাহলে আবার নতুন আইন কেন? আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে বলেছেন যে খসড়া আইনে একটি সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে খসড়া আইনের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন নাগরিকদের খাদ্য অধিকার ও সরকারের দায়দায়িত্ব, ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তার পরিকল্পনা, খাদ্যের গুণগত মান, খাদ্য নিরাপত্তায় নারী ও শিশু এবং পুষ্টিমান, জাতীয় মজুদ থেকে প্রতি পরিবারের প্রাপ্যতা অনুযায়ী সরকারের দায়দায়িত্ব এবং এ লক্ষ্যে খাদ্য কমিশন গঠন ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা। এ ছাড়া সরকারের দায়দায়িত্বের মধ্যে কয়েকটি বিষয় খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে সরকার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাদ্যশস্য ক্রয়, ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় কেন্দ্রে লভ্যাংশ নির্ধারণ, খাদ্য রপ্তানি-আমদানি, খাদ্য সংকট নিরসন, খাদ্যবিষয়ক গবেষণা স্থাপন, পুষ্টি পরিকল্পনা গ্রহণ, খাদ্য তথ্য ব্যবস্থা ও খাদ্য তথ্য ভাণ্ডার সৃষ্টি করা। খাদ্য কমিশন গঠনের যে প্রস্তাব খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। কমিশনকে ক্ষেত্র মতে দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবন ধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব মর্মে বলা আছে। তবে এ কথাও বলা আছে, মূলনীতি আদালতের মাধ্যমে বলবেযাগ্য হবে না। এ সত্ত্বেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব যুগেই খাদ্যসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সব যুগের সরকারই আইন প্রণয়ন ছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে। খাদ্য ও কর্মের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যয় সরকারি কোষাগার থেকেই করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে এসংক্রান্ত ব্যয়ের পরিমাণ প্রতিবছরই বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে সরকারিভাবে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৌসুমভিত্তিক ধান, চাল ও গম সংগ্রহের প্রথা। সংগৃহীত খাদ্যশস্য খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মসূচিতেই ব্যবহার করা হয়। এ প্রথার বিরুদ্ধে কিছু অর্থনীতিবিদের ভিন্নমত থাকলেও কোনো সরকারই তা বর্জন করেনি। কারণ সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য এ ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য এ কর্মসূচির প্রয়োজন রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বহুমাত্রিক। ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সব দেশেই কমবেশি বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নে লিপ্ত। এ সত্ত্বেও সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাংলাদেশে সন্তোষজনক নয় বলে কিছু সমীক্ষায় বলা হয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচক, ২০১৪ অনুযায়ী ১০৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮। বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৩৯.৮ শতাংশ মানুষ মনে করে, তারা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে (ওয়েলফেয়ার মনিটরিং সার্ভে, বিবিএস, ২০০৯)। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ কথা বলা যায় যে খাদ্য অধিকার বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত নয়। এর জন্য কোনো আইনি কাঠামো বাংলাদেশে নেই। এ পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং অন্যান্য দেশের জন্যও প্রযোজ্য। মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্বে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ভারত ব্যতিক্রম; কারণ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাদ্যের অধিকার এখন আইনি কাঠামোভুক্ত। এর প্রেক্ষাপট হলো ২০০১ সালে জনস্বার্থবিষয়ক এক রিট মামলায় সুপ্রিম কোর্ট খাদ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ সম্পর্কে বলা প্রয়োজন, ভারতীয় সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে খাদ্যের অধিকার স্বীকৃত, তবে তা আদালতের মাধ্যমে বলবেযাগ্য নয়। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের সংবিধানেও একই নীতির উল্লেখ রয়েছে। তবে উল্লিখিত রিট মামলার সিদ্ধান্তে ভিন্নমত প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ সংবিধানে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষণের জন্য বলা হয়েছে, আইনানুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে কোনো ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না। উল্লেখ্য, এ বিষয়টি ভারতীয় সংবিধানের অনুরূপ। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আলোচ্য রিট মামলায় এ বিধানের সম্প্রসারিত ব্যাখ্যা দিয়ে খাদ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকারের অংশ বলে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ খাদ্য ও পুষ্টি ব্যতীত সম্মানজনক জীবন যাপন করা অসম্ভব। বাংলাদেশে এসংক্রান্ত কোনো রিট মামলা হয়নি। এ সত্ত্বেও আইন কমিশন যে খাদ্যকে অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য খসড়া আইন চূড়ান্ত করেছে, তা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। ভারতে ২০০১ সালে জাতীয় পরামর্শক কাউন্সিল প্রাথমিকভাবে আইন প্রণয়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি বিলের খসড়া প্রণয়ন করে। ২০১১ সালে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত হয়। প্রথা অনুযায়ী বিলে প্রদত্ত সব বিধানই চূড়ান্ত আইনে গ্রহণ করা হয়নি। তবে চূড়ান্ত আইনের প্রধান বিধানগুলোর সঙ্গে আইন কমিশন প্রস্তাবিত চূড়ান্ত খসড়ার যথেষ্ট মিল রয়েছে। যেমন খাদ্য নিরাপত্তায় নারী ও শিশু, সরকারের দায়দায়িত্ব, খাদ্য কমিশন ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার ইত্যাদি। ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১১ ও বাংলাদেশের খসড়া আইনের মিল ও অমিল সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করা যায়।

খাদ্য নিরাপত্তা ও শিশু

ভারতীয় আইনে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বিনা মূল্যে খাদ্য ও প্রসব-পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত বিনা মূল্যে খাদ্য স্থানীয় পর্যায়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রতিজনকে মাতৃভাতা ছয় হাজার রুপি কিস্তিতে প্রদান করা হবে। সরকারি ও সরকারি মালিকানাধীন সংস্থার নারীরা এসব সুবিধা পাবেন না। প্রকাশিত সংবাদে খসড়া আইনে সাধারণভাবে নির্ধারিত হারে বা ভর্তুকি মূল্যে সাহায্যের কথা আছে। তবে বিস্তারিত বিষয় বিধিতে উল্লেখ করা হবে। ভারতীয় আইনের অনুরূপ সরকারি বা সরকারি মালিকানাধীন সংস্থার নারী কর্মীরা সুবিধা পাবেন না। শিশুদের ক্ষেত্রে ১৪ বছর পর্যন্ত পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য দেওয়ার কথা খসড়ায় রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে প্রতিটি বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি ও শৌচাগারের ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে।

খাদ্য কমিশন ও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির প্রতিকার

খাদ্য কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও দুজন সদস্য এবং ন্যূনতম যুগ্ম সচিবকে নিয়ে গঠিত হবে। তবে একজন অবশ্যই নারী হবেন। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিশনের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জেলা পর্যায়ে খাদ্য নিবারণ কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। খসড়া আইন অনুযায়ী প্রতি জেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক কল সেন্টার ও হেল্প লাইন স্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো, অনাহারে জীবন যাপন করছে এমন ব্যক্তির জন্য বিনা মূল্যে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। ভারতীয় আইন এ ধরনের ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রতিটি রাজ্য সরকারকে আইন চূড়ান্ত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অনাহারবিষয়ক প্রটোকল কার্যকর করার বিধান খসড়ায় ছিল। তবে চূড়ান্ত আইনে বলা হয়েছে, এ কাজ স্থানীয় পর্যায়ে করতে হবে। খাদ্য সরবরাহও স্থানীয়ভাবে হবে। ভারতের খসড়া আইনে খাদ্য অধিকার সংক্রান্ত বিধান চূড়ান্ত আইনে বাদ দেওয়া হয়েছে। কল সেন্টার স্থাপন করার বিষয় ভারতের চূড়ান্ত আইনে রয়েছে।

অনুসন্ধান ও দণ্ডের বিধান

ভারতীয় খসড়া আইনে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে বিদ্যমান কর্মকর্তার মধ্যে একজনকে দায়িত্ব অর্পণ করার কথা ছিল। চূড়ান্ত আইনে রাজ্য সরকারকে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ কাঠামোর মাধ্যমে এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে আইন কমিশনের খসড়ায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় নতুনভাবে কর্মকর্তাসহ দপ্তর সৃষ্টির বিধান রাখা হয়েছে। দণ্ডের ক্ষেত্রে আইন কমিশনের খসড়ায় বলা হয়েছে, নিবারণ কর্মকর্তা বা খাদ্য কমিশনের প্রদত্ত আদেশ কোনো সরকারি কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পালনে ব্যর্থ হলে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ভারতের চূড়ান্ত আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।

আইন কমিশনের খসড়া আইন ও ভারতের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনে (২০১১) সব ধরনের বিধান থাকা অস্বাভাবিক নয়। কারণ যেকোনো সরকারি নীতি বা আইন করার সময় এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান অভিজ্ঞতা বা প্রয়োজনীয় তথ্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর। মূল প্রশ্ন হলো, আইন করলেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এটা যেমন সঠিক, আবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই অধিকার আদায় করা তেমন সহজ নয়। এটাই হলো বাংলাদেশসহ অনেক দেশের বাস্তবতা। খাদ্য অধিকার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের তুলনায় ভিন্নতর। ভারতে এ ধরনের আইন প্রণয়নে প্রায় ১২ বছর লেগেছিল। এ ছাড়া ছিল জনস্বার্থবিষয়ক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের অনেক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ চূড়ান্ত আদেশ। খাদ্য অধিকার সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের বিষয়টি নিঃসন্দেহে জটিল। এ ধরনের আইনে যে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, কী ধরনের কর্মসূচি ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং কার বা কাদের জন্য, এসব কর্মসূচি কে বা কারা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন এবং এর জন্য কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃষ্টির প্রয়োজন। সম্ভাব্য সুবিধাভোগীরা প্রতিকার কিভাবে পাবেন। ভারতের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনে এসব বিষয়ের সন্তোষজনক সমাধান হয়নি মর্মে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন। আইন কমিশনের খসড়া একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। এ খসড়াটি আরো পরিমার্জিত করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করা যায়। এ বিষয়ে যদি শুধু সরকারি নীতিনির্ধারকরাই আলোচনা করেন তাহলে হয়তো কার্যকর আইন প্রণয়ন করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন হবে সরকারবহির্ভূত সংশ্লিষ্ট সংস্থার অভিমত গ্রহণ করা।

লেখক : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা



মন্তব্য