kalerkantho


সাদাকালো

ভাবমূর্তির সংকট ট্রাম্পশাসিত যুক্তরাষ্ট্রের

আহমদ রফিক

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভাবমূর্তির সংকট ট্রাম্পশাসিত যুক্তরাষ্ট্রের

‘আমেরিকা মহান, আমেরিকা বিশ্বসেরা নম্বর ওয়ান’—এসব আপ্তবাক্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় শতক আগেকার উপনিবেশবাদী আভিজাত্যিক উচ্চারণ : ‘রুল ব্রিটানিয়া, রুল’। ব্রিটেনের সূর্যাস্তবিহীন শক্তির মহিমা আটলান্টিকেই নয়, আসলে টেমস নদীতেই ভেসে গেছে। প্রধানত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রবল ধাক্কা, মূলত অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে পারেনি গ্রেট ব্রিটেন। তার মহত্ত্ব (গ্র্রেটনেস) সাম্রাজ্যবাদী চক্করে হারিয়ে গেছে, ধীরগতিতে সেই সময় থেকেই।

কিছু ‘গ্রেটনেস’ তথা মহিমা তো তার ছিলই। সারা পৃথিবী থেকে আহরিত ধনরত্ন মহিমা তাদের সামাজিক গরিমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পবিপ্লবের যে মননশীলতা, নতুন উদ্ভাবনের তীব্র আশঙ্কা ও তার সাফল্য তাদের অর্থনৈতিক ‘গ্রেটনেসে’র বীজতলা তৈরি করেছিল। তবে তাতে ছিল আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের দূষণ, যার রাজনৈতিক নাম উপনিবেশবাদ। এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা সর্বত্র তার কালো হাতে (বাস্তবে সাদা হাতে) নিপীড়নের রক্তছাপ।

প্রায় বছর পাঁচেকের রক্তক্ষয়ী  বিশ্বযুদ্ধ এতটাই রক্তক্ষরণ যে জয় সত্ত্বেও ‘গ্রেটনেসে’র লেজ কাটা গেল। বিশ্বঝাপটানো লাঙলবিহীন ব্রিটেন তার ইউনাইটেড কিংডমের মহিমা ও আভিজাত্য রক্ষায় ডানা ঝাপটাচ্ছে। সেই সঙ্গে উপনিবেশ হারানোর অর্থনৈতিক যন্ত্রণা ও আভিজাত্যিক বেদনা দূর করতে চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাজ্যের ক্ষুদ্র অঙ্গগুলো ধরে রাখতে।

আসলে ‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’ ভারতের নয়, ছিল ব্রিটেনেরই জপমন্ত্র। আর সেই অদম্য স্পৃহায় অর্থনৈতিক ‘গ্রেটনেস’ স্বদেশবাসীর জন্য, মূলত মধ্য থেকে উচ্চ শ্রেণির জন্য নানা খাতে সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেছিল। তারা সেসবের ফল ভোগ করেছে। তবে ওই যে পূর্বকথিত কিছু ‘গ্রেটনেস’ তার সর্বোত্তম অবদান সম্ভবত ভাষিক  সৃজনশীলতায়। অর্থাৎ সাহিত্য-সংস্কৃতি-সংগীতের অনন্যতায় এবং সেই সূত্রে গোটা বিশ্বে তার ভাষাগত প্রাধান্য ও মহিমার সুবাস ধরে রেখেছে।

কিন্তু আবারও বলি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ব্রিটেনের শরীর থেকে রক্তমোক্ষণ এতটাই ক্ষয় সৃষ্টি করে যে সে সময় নতুন অর্থনৈতিক তারকা যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভুত্ব ও মহত্ত্ব দুই-ই নিঃশব্দে কেড়ে নেয়।  তবে ব্রিটেন ওই দুটি পদবিই ধরে রাখার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী তাঁবেদারি করে। ষড়যন্ত্রে-চাতুর্যে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী ব্রিটিশ রাজনীতি তাদের আর্থ-রাষ্ট্রনৈতিক দুর্বলতা সত্ত্বেও মার্কিনি রাজনীতি রাষ্ট্রনীতিতে বুদ্ধিবৃত্তিক সাহায্য জোগান দিয়েছে স্বেচ্ছায়। সে জন্যই কি শ্রমিক দলের হয়েও প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার হ্রস্ব-মস্তিষ্ক জুনিয়র বুশকে ইরাক দখলে বুদ্ধিবৃত্তিক চাতুর্যের সহায়তা দিয়েছেন অন্যায়ভাবে ইরাকের সুবিশাল ভূগর্ভস্থ তেল-জ্বালানি ভাণ্ডার দখল নিতে? এই অপকর্মের ফসল থেকে কিছু পুরস্কার হাতিয়েছে ব্রিটেন। তাদের রাজনৈতিক চাতুর্যেই তো মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র-শেখতন্ত্রগুলোর মাথায় হাত বুলিয়ে জ্বালানি রাজস্ব ভোগ সম্ভব হয়েছে। পূর্ব অর্জিত জ্ঞান ও নব্য উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এখনো  সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর প্রধান চালিকাশক্তি।

দুই.

মার্কিনি প্রভুত্বকামী পরাশক্তি একইভাবে বিজ্ঞান প্রযুক্তি সমৃদ্ধির জোরে বিশ্বমোড়ল হয়ে বিশ্ব শাসন করছে। ব্যতিক্রম কিছু শক্তিমান রাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ শাসনের প্রভাবমুক্ত হয়ে এবং তার আগে স্থানীয় আদিবাসীদের  তাড়িয়ে ও একটি মহাদেশ জবরদখল করে যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করে, সেই সঙ্গে ইতিহাসের সহায়তায় জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তিচর্চায় এক নম্বর আসনটি দখল করে, তার আভিজাত্যের প্রতীক নয়া ‘গ্রেটনেসে’র মুকুট, বিশ্বের এক নম্বর সমরশক্তি হওয়ার মহিমা। তদুপরি তার সঙ্গী চতুর ইহুদি মেধা।

গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে ক্রমে ক্রমে বিশ্বমোড়ল হয়ে ওঠার শক্তি ও খ্যাতি অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজনমতের তোয়াক্কা করে না যুক্তরাষ্ট্রের শাসকশ্রেণি। তাই  একদা বিশ্বজনমতের প্রবল প্রতিবাদ অবজ্ঞায় ঠেলে ফেলে বিজ্ঞানী রোজেনবার্গ দম্পতিকে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে হত্যা করতে বাধেনি। যুক্তরাষ্ট্র সব প্রতিবাদ অগ্রাহ্য করে এক দশক পর ভিয়েতনামে গণহত্যা চালিয়েছে। তেমনি পূর্বোক্ত ইরাক দখল। অন্যদিকে অর্থনৈতিক হাত বাড়িয়ে বিশ্ব শাসন।

কিন্তু ইতিহাস অতি উচ্চতার অনাচার বেশিদিন সহ্য করে না। প্রমাণ গ্রেট ব্রিটেন ও সমৃদ্ধ ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো। না করার কারণ রাষ্ট্রগুলোর অমিতাচার। পরিমিতি একটি প্রাকৃতিক সত্য, যা সমাজ-রাজনীতি ক্ষেত্রেও সত্য হয়ে ওঠে অন্তর্নিহিত স্ববিরোধিতার কারণে, বেহিসাবি আচরণের চাপে। যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা মনে হয় তেমন পথ ধরে চলতে শুরু করেছে। এর পরিণাম শুভ নয়। যেমন গর্বাচেভ একদা উদাহরণ তৈরি করেছিলেন অবশ্য ভিন্ন পথে, ভিন্ন লক্ষ্যে।

প্রতিটি রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন ঘটাতে একজন ক্ষমতাসীন খলনায়কের প্রয়োজন হয়। গর্বাচেভ সোভিয়েত রাষ্ট্রব্যবস্থা পতনের সেই খলনায়ক, ভেতরে যদিও আরো অনেক কারণ ক্ষয়ের পরিস্থিতি তৈরি করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন থেকেই ওই ভিত ক্ষয়ের পথ ধরে চলছে। মাঝেমধ্যে দু-একজন শাসক কিছুটা নমনীয় আদর্শ অনুসরণ করেছেন, তাই রক্ষে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থা এমন জটিল, এতটা আদর্শঘাতী যে এর ফলে কখনো কখনো অযোগ্য প্রার্থীর জয় ঘটে যায় প্রকৃত জনমত উড়িয়ে দিয়ে। যেমন জুনিয়র বুশের বিজয়। সেখানে অবশ্য কিছু ছলনাও কাজ করেছিল। এবার সেই ধারাতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের একজন রাজনৈতিক উন্মাদ, যার কথা ও কাজে কোনো সামঞ্জস্য নেই। অথবা যা আছে তা হলো ধ্বংসশক্তির পক্ষে।

শিল্প-বাণিজ্যে সফল একজন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুসুলভ বিশৃঙ্খলার পরিচয় দিয়ে চলেছেন একের পর এক ঘটনায়। বিশ্বকে নিয়ে এক সংঘাতমূলক খেলায় মেতেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সত্যটা তাঁর অজানা নয় যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অর্থ হচ্ছে পারমাণবিক যুদ্ধ এবং তাতে মানবসভ্যতা ও অস্তিত্বের নিশ্চিত বিনাশ। তা সত্ত্বেও তার হাত পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরক বোতামের ওপর। যেমন—উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দুজনেরই হুমকি পাল্টা-হুমকি আসলে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।

কিন্তু ট্রাম্প আসলেই রাজনীতি ক্ষেত্রে একজন অপরিণত বুদ্ধি ও অপরিণামদর্শী ব্যক্তিত্ব। তাই তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া বিশ্বকে ক্রমেই মার্কিনবিরোধী করে তুলছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রবণতাই অবশ্য সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করে আপন স্বার্থসিদ্ধি নিশ্চিত করা। সেটাই উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ—এযাবৎ করে এসেছে। কিন্তু তাতে যখন অপরিণামদর্শী আতিশয্য দেখা দেয়, তখন ধীরগতির হলেও তাতে ঘটে আত্মঘাতী পরিণাম।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে শুরু থেকেই দেখা দিয়েছে এবং দিচ্ছে বিশ্বপরিসরে সমালোচনা আর সমালোচনা, বিচার-বিশ্লেষণে তাঁকে অস্বাভাবিক মানসিকতাপুষ্ট হিসেবে বিবেচনা। এ বিষয়ে মাইকেল উলেফর সম্প্রতি প্রকাশিত বই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ ভিন্ন কথা বলেনি। বিষয়টি পরে বিবেচ্য।

তার আগে ট্রাম্প সম্পর্কে কিছু কথা উল্লেখ করা দরকার, যা এরই মধ্যে বিশ্ববাসী জেনে ফেলেছেন। নির্বাচনকালীন ট্রাম্পবিরোধীদের বড় হাতিয়ার ছিল এমন সত্য যে ট্রাম্প বর্ণবাদী, ট্রাম্প উগ্র জাতীয়তাবাদী, ট্রাম্প মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। তাঁর তৎকালীন কথায় বিশ্ববাসীর এমন প্রত্যয়। আমেরিকার অভিশাপ বর্ণবাদী উগ্রতা, কে-কে-কে ইত্যাদির সমর্থন নিয়ে ট্রাম্পের বিজয় মেনে নিতে পারেনি বৃহত্তর মার্কিন সমাজ। খোঁজ নেওয়া দরকার জার্মান বংশোদ্ভূত ট্রাম্পের শরীরে নািস রক্ত তথা জিন কতটা উপস্থিত।

তাঁকে নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতার ঘটনা অজানা নয় ট্রাম্পের। তবুও তিনি প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হয়েই তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামার জনবান্ধব কর্মসূচি একে একে বাতিল করেছেন। বিশ্বশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে ওবামার কিউবা নীতিও তাঁর ঘোর অপছন্দ। বাতিল করেছেন ওবামার বাণিজ্যচুক্তি টিপিপি। শেষ পর্যন্ত জেরুজালেমের অধিকার নিয়ে ইসরায়েল তোষণ ট্রাম্পবিরোধী মহলে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের ঘোষণা: ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করা হবে। এ নিয়ে অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য, অশান্ত বিশ্ব। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছেন ট্রাম্প। তৈরি হতে চলেছে বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আবহাওয়া। সমালোচনা কারো নরম সুরে, কারো চড়া সুরে। জেরুজালেম-নীতি নিয়ে এখন তোপের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যখন জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে সব কয়টি সদস্য দেশ ভোট দেয়, তখন আমেরিকা ভেটো দিয়ে তা ঠেকায়। কিন্তু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তো ভেটো দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই। তাই সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিপুল ভোট ট্রাম্পের ও ইসরায়েলের জেরুজালেম বিষয় নীতির বিপক্ষেই যায়। ‘শতাব্দীর সেরা সিদ্ধান্ত’ এভাবে বাতিল ঘোষণা জাতিসংঘে।

ট্রাম্পের আমেরিকা এভাবে বিশ্ববিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে; বিচ্ছিন্নতা তার পিছু নিয়েছে যেমন একজন ব্যক্তির কারণে তেমনি তাঁর প্রশাসন ও সহায়ক গোষ্ঠীর কারণে। মার্কিনি ভাবমূর্তিতে ক্রমেই কালো রেখা দেখা দিচ্ছে। আগেও যে দেখা দেয়নি, তা নয়। উদাহরণ টেনেছেন কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট গারফিল্ড বা নিক্সন প্রসঙ্গ তুলে।

কিন্তু ট্রাম্পের ব্যাপারটি একেবারেই ভিন্ন। তাঁর নির্বাচন প্রচারকালে তাঁর নিজ দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর। এবং তা গোপনে নয়, সে খবর সংবাদপত্রেও প্রকাশ পেয়েছে। একই পরিস্থিতি তাঁর প্রেসিডেন্ট পদে অভিষিক্ত হওয়ার পরও। সমালোচনা তার পিছু ছাড়ছে না। যেমন নিজ দল, তেমনি বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল থেকে। সর্বোপরি সমালোচনা বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ও জাতিসংঘে।

যেহেতু তিনি দেশটির শাসক, তাই তাঁর কর্মবিষয়ক সমালোচনা ও বিরোধিতা দেশটির বিরুদ্ধেই যায়। অভ্যন্তরীণ সমালোচনারও একই তাৎপর্য। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শাসক হিসেবে অযোগ্য। এ তকমা অবশ্য এই প্রথম নয়। এর সূচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর আত্মপ্রকাশ থেকে। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো তাঁর অযোগ্যতার আলোচনা সূত্র এরই মধ্যে ইমপিচমেন্ট অর্থাৎ তাঁকে পদচ্যুত করার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে। দুর্নীতি নয়, অযোগ্যতার কারণে পদচ্যুতির ভাবনা সম্ভবত এই প্রথম। তবে তাঁকে নিয়ে দুর্নীতির প্রশ্নও উঠছে।

কিন্তু উদ্ধত ট্রাম্প, আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প সহজে তাঁর গদি ছাড়বেন না এটাও সত্য। আর মার্কিনি শাসনব্যবস্থার চরিত্র এমনই, অতি সহিংসতার যে তারা জাতীয় অসম্মানের বিষয়টি সম্ভবত অযোগ্যতা থেকে বড় করে দেখে, যে জন্য আমার ধারণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সহজে গদিচ্যুত হতে হবে না।

যদি তা-ই হয়, সে ক্ষেত্রে কথিত ‘গ্রেট’ বা মহান আমেরিকার মুখাবয়ব থেকে মহত্ত্বের পলেস্তারা ক্রমেই খসে পড়তে থাকবে, বিশ্বসভা থেকে তার বিচ্ছিন্নতা ক্রমেই বাড়বে, বিশ্ব শাসনের ক্ষমতাও সেই সঙ্গে কমতে থাকবে। এরই মধ্যে আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে নব্য চীন। একসময় সমরশক্তির বিচারে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। বর্তমান রাশিয়া কিছুটা হলেও তা ধরে রেখেছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে থাকবেন, বিশ্ব মার্কিন বিরোধিতায় আলোড়িত হতে থাকবে, আমেরিকার রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি রাজনৈতিক বিচারে ক্ষুণ্ন হতে থাকবে এবং বিশ্ব শাসনের যোগ্যতা সে ক্রমেই হারাতে থাকবে। অবস্থাদৃষ্টে অকুপাই ওয়াল স্ট্রিটের মতো আন্দোলন কি তৈরি হবে আমেরিকার রাষ্ট্রিক চরিত্রবদল ঘটাতে? নাকি নতুন কোনো যোগ্য প্রেসিডেন্ট হাল ধরে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখবে। সময় এসব প্রশ্নের জবাব দেবে।

 

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী



মন্তব্য