kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের গোশতের বিধান

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের গোশতের বিধান

৮. তোমাদের আরোহণের জন্য ও শোভার জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন অশ্ব, অশ্বতর ও গর্দভ। এবং তিনি সৃষ্টি করবেন এমন অনেক কিছু, যা তোমরা অবগত নও।

[সুরা : নাহল, আয়াত : ৮ (তৃতীয় পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াতে বাহন ও সৌন্দর্যের উপকরণ হিসেবে ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষের কল্যাণে এগুলো সৃষ্টি করেছেন। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফতি শফি (রহ.) লিখেছেন, ‘পবিত্র কোরআনে উট, গরু ও ছাগল ইত্যাদির কথা বিভিন্ন স্থানে এসেছে। এগুলোর উপকারিতার মধ্যে গোশত খাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ আয়াতে ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের কথা বলা হলেও এগুলোর গোশত খাওয়ার কথা বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, এগুলো বাহন ও সৌন্দর্যের উপকরণ। এতে প্রমাণিত হয়, ঘোড়া, গাধা ও খচ্চরের গোশত খাওয়া বৈধ নয়। ’ খচ্চর ও গাধার গোশত হারাম হওয়ার বিষয়ে সব ইসলামী আইনবিদ একমত। কিন্তু ঘোড়ার গোশতের ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়।

মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার কারণ হলো—ঘোড়ার গোশতের ব্যাপারে পরস্পরবিরোধী হাদিস পাওয়া যায়। এক হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) বলেন, ‘খায়বারের যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। ’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫২০)। এ হাদিসের দিকে তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকালে দেখা যায়, মহানবী (সা.) যুদ্ধের সময়ে বিশেষ প্রয়োজনে অর্থাৎ খাবারের রসদ বাড়াতে ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তার মানে আগে এর অনুমতি ছিল না। শুধু যুদ্ধের প্রয়োজনে এই সুযোগ দেওয়া হয়, যদিও তা ছিল নিষিদ্ধ বস্তু। সেই নিষেধাজ্ঞার কথা এসেছে অন্য হাদিসে। হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়ার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। ’ (নাসাঈ শরিফ : ৮/২০৬, আবু দাউদ : ২/৫৩১)। নিষিদ্ধতার মূল সূত্র উল্লিখিত হাদিস।

উল্লিখিত প্রথম হাদিসের দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ ঘোড়ার গোশত খাওয়া বৈধ বলেছেন। আবার দ্বিতীয় হাদিসের দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ তা অবৈধ বলেছেন। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে হাদিসশাস্ত্রের মূলনীতি হলো, যে বিষয়ের বৈধতা ও অবৈধতার ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়, সে বিষয়ে বিধান হিসেবে অবৈধতার দিক গ্রহণ করা হয়। কেননা এটাই সতর্কতা। তা ছাড়া ফিকহশাস্ত্রের কিতাবে ঘোড়ার গোশত খাওয়া মাকরূহ বলা হয়েছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঘোড়া জিহাদের কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই ব্যাপক হারে খাওয়া শুরু করলে জিহাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটবে। বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে যদিও ব্যাপকভাবে ঘোড়ার ব্যবহার হয় না; কিন্তু তা একেবারে বন্ধও হয়ে যায়নি। প্রতিরক্ষা বিভাগগুলোতে ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং নিয়মিত তার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। সুতরাং জিহাদের কাজে ঘোড়ার ব্যবহার একেবারে বন্ধ হয়ে গেলেও তা খাওয়া উপরোক্ত হাদিসের কারণে মাকরূহ থাকবে। (আহকামুল কোরআন লিল জাসসাস : ৩/১৮৩, ১৮৪)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য