kalerkantho


মিয়ানমার : ‘দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথায় ভুলিও না’

মোফাজ্জল করিম

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমার : ‘দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথায় ভুলিও না’

যে মুহূর্তে মিয়ানমারের মন্ত্রী ঢাকায় আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পজিটিভ বার্তা দিচ্ছেন, জানাচ্ছেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাঁরা মিয়ানমারে, অর্থাৎ তাদের জন্মভূমিতে ফিরিয়ে নিতে রাজি আছেন, সেই মুহূর্তেও হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে পালিয়ে আসছে বাংলাদেশে। কী নির্লজ্জ দ্বিচারিতা! শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী মাদাম অংসান সুচি তাঁর দূতকে পাঠিয়েছেন শান্তির ললিতবাণী শোনাতে, আর ওদিকে তিনি ও তাঁর মিলিটারি দোসররা সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছেন রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যেতে। আবারও বলি, কী নির্লজ্জ মিথ্যাচার! ঢাকায় আলাপ-আলোচনা, আমরা দেখলাম, সামান্যই হয়েছে। যেন নিউইয়র্কে মাদাম সুচির প্রতিনিধি ও আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন কী কী কথাবার্তা হবে, পরবর্তী কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা কী হবে, এরপর কারা যাবে, কে আসবে ইত্যাদি। সত্যি, এমন সংক্ষিপ্ত সফরে এত বড় অর্জন! এর সারমর্ম হলো : (ক) রোহিঙ্গারা নিজ ভূমে ফিরে যাবে। (খ) তার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। (গ) সর্বাগ্রে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার যাবেন বাতচিত চালিয়ে যেতে, সেই সঙ্গে তথাকথিত আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি—আরসা যে কী তাণ্ডব চালাচ্ছে, তার সরেজমিন সাজানো নাটক দেখতে!

যত সহজভাবেই পুরো ব্যাপারটা আমাদের কাছে তুলে ধরা হোক না কেন, কাজটা যত জলবৎ তরলংই মনে হোক না কেন, আমরা চোখ বন্ধ করে বলতে পারি, রোহিঙ্গাদের সিন্দবাদের দৈত্য বাংলাদেশের ঘাড় থেকে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নামবে না। যারা একদিকে রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার কথা বলে একই সঙ্গে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ সমানতালে চালিয়ে যেতে পারে তাদের ‘নিয়ত’ সম্বন্ধে সন্দিহান হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এরা বিশ্ববাসীর চাপে পড়ে এবং সম্ভবত তাদের বুদ্ধিদাতা তিন গণেশ চীন, রাশিয়া ও ভারতের পরামর্শে মুখে শেখ ফরিদ বলছে বটে, কিন্তু এদের বগল হাতড়িয়ে দেখুন ওখানে ইট পাবেন ঠিকই। আমি বিস্মিত হলাম, ওই মন্ত্রীপ্রবরটি যখন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবেন বলে ঘোষণা দিলেন, তখন আমাদের পক্ষ থেকে কেন বলা হলো না : এক্সেলেন্সি, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার সদিচ্ছা প্রকাশের জন্য, কিন্তু আপনার কথায় কী করে আস্থা রাখি বলুন, যখন এই মুহূর্তেও রাখাইনে রোহিঙ্গা খেদাও অভিযান চলছে। এখনও প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা আসছে বাংলাদেশে।

এই দূতের দূতিয়ালি কি কারো পরামর্শে পুরোটাই পাতানো খেলা? তোমাদের ‘ক্লিনজিং অপারেশন’ যেভাবে চালাচ্ছ চালিয়ে যাও, নো প্রব্লেম, শুধু অল্পতেই খুশি হয়ে যাওয়া বাঙালি ও হঠাৎ তেতে ওঠা বিশ্বসমাজের উত্তেজনা প্রশমনের জন্য এই ললিপপটা ছুড়ে দাও যে তোমরা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। তারপর দ্যাখো, ন’মণ তেলও হবে না, রাধাও নাচবে না। কত মজলিসি বৈঠক, উঠান বৈঠক, কানাকানি-হানাহানি হবে, তাতে তোমার কী? আমরা আছি না? তুমি মাহমুদালি কেয়ার নট হয়ে থাকবে ভেতরে ভেতরে, আর বাইরে একেবারে বিনয়ে বৈষ্ণব, থুড়ি বৌদ্ধ সেজে বসে থাকবে।

মিয়া মিয়ানমার, শুধু কাঁড়ি কাঁড়ি ধন-সম্পদের মালিক হলেই হবে নাকি, চাণক্য বুদ্ধিও হাসিল করতে হবে না ভবিষ্যতে এই এলাকার মোড়ল হবার জন্য? তোমার শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত তোমাকে পেলে-পুষে বড় করেছি, বিলিয়নস অব ডলার ঢেলেছি তোমার উন্নয়নের জন্য, আর তুমি এই কুল্লে দেড়-দুই মিলিয়ন রোহিঙ্গা সাফ করে রাখাইন অঞ্চলটা আমাদের জন্য মুক্ত করে দেবে না?...ইত্যাকার সলা-পরামর্শ যে হচ্ছে না তা কে বলল? এ সম্বন্ধে একটু খোঁজ-খবর নেওয়া কি জরুরি নয় বাংলাদেশের জন্য?

যারা ‘হাফ অ্যা লউফ ইজ বেটার দ্যান নো ব্রেড’ ‘সামথিং ইজ বেটার দ্যান নাথিং’ ইত্যাদি আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী, তারা এই বর্মী দূতের আশ্বাসবাণীতে হয়ত তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। হ্যাঁ, যেখানে প্রথম থেকে মাদাম সুচি রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন, বলছেন, কেউ তাদের দেশছাড়া করেনি, কেউ তাদের ঘরবাড়ি জ্বালায়নি, তারা মুসলমান, তারা স্বেচ্ছায় ‘হিযরত’ করছে পাশের দেশে, সেখানে রাতারাতি এ ধরনের অনেকটা দোষ স্বীকারমূলক বক্তব্যে পুলকিত হওয়া বিচিত্র নয়। মনে পড়ে সেই ভিক্ষুকের গল্প, যে গাড়িতে বসা এক আরোহী ভদ্রলোকের কাছে বারবার ঘ্যান ঘ্যান করে ভিক্ষা চাচ্ছিল। ভদ্রলোক ‘মাপ করো মাপ করো’ বলে প্রতিবারই তাকে চলে যেতে বলছিলেন, কিন্তু সে নাছোড়বান্দা। তখন ওই মিয়া ‘গেলি’ বলে হাত তুলে মারের ভঙ্গি করলেন। এতে কাজ হলো। ভিক্ষুক সরে যেতে উদ্যত হলো। কিন্তু যাবার সময় একটা মোক্ষম খোঁচা দিল, বলল, যাউক, তবুও তো স্যারের আতটা (হাতটা) উঠছে। ...অনুপ্রবেশ শুরু হওয়ার মাস দেড়েক পর ‘ফেরত নিয়ে যাব’ বলায় ‘হাতটা’ অন্তত উঠেছে বলা যায়।

যে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে একটা তালা-বন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে মন্ত্রীর এই সফরে বরফ পুরোপরি না গললেও একটু একটু পানির আস্তরণ সৃষ্টি হয়েছে অবশ্যই বলা যায়। আর এ ধরনের এক সফরে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়ে যাবে, তা মনে করার কোনো কারণ নেই। বলা যায়, এটা কেবলমাত্র প্রথম পদক্ষেপ।

দুই.

এবার আসুন, কী পেলাম তার হিসেব মেলাতে চেষ্টা করি। আগেই বলেছি, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মতি প্রকাশ একটি সদিচ্ছা প্রকাশ মাত্র। সেটাও কতটুকু আন্তরিকতাপূর্ণ, তা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ একে তো এখনও ওই দেশ থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়ন চলছে, তদুপরি এ বিষয়ে মিয়ানমারের অতীতের পারফরম্যান্সও ভালো নয়। তারা ফেরত নেবে বলে আগেও কয়েকবার কথাখেলাপী হয়েছে। এটা যে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত, তা তারা থোড়াই কেয়ার করে। দ্বিতীয়ত, বলা হয়েছে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে দুই দেশের মনোনীত প্রতিনিধি নিয়ে। ধরে নিলাম, তা যথাসম্ভব দ্রুতই করা হবে। কিন্তু সেই গ্রুপের কার্যপরিধি বা টার্মস অব রেফারেন্স কী হবে, কত দিনের মধ্যে তাদের কাজ শেষ হবে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে—এই নানাবিধ বিষয় কবে নাগাদ চূড়ান্ত হবে, তা এই মুহূর্তে বলা অসম্ভব। তবে কোনো পক্ষ চাইলে আলোচনায় নানা প্রকার ফ্যাকড়া তুলে কালক্ষেপণ করতে পারে। ততদিনে আমাদের মেহমানরা যথেষ্ট স্মার্ট হয়ে উঠবে এবং বাংলাদেশের নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। অনেকে আবার এদেশী টাউট-বাটপাড় ও অসাধু সরকারি কর্মচারীর সহায়তায় বাঙালি সেজে বিদেশেও পাড়ি জমাতে পারে।

এদিকে মিয়ানমার আবার আরেক শর্ত জুড়ে দিয়েছে : তারা ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাই করে এসব উদ্বাস্তুকে ফেরত নেবে। নিজেদের দেশে যেখানে তারা এই মানুষগুলোকে নাগরিকত্বই দেয়নি, জমি-জিরাত, সহায়-সম্পত্তি কোনো কিছুতেই নেই যাদের আইনগত মালিকানা, পালিয়ে আসার সময় যেখানে শুধু জানটা নিয়ে এসেছে, ওই দেশের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ দেওয়ার মত কোনো সবুতই যেখানে তাদের নেই, সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের নামে যা হবে, তা অহেতুক হয়রানি। আর নানা ছুতোয় প্রত্যাবাসন হবে প্রলম্বিত। এমনিতেই তারা বলে রেখেছে, তারা শুধু এবারের শরণার্থীদের নেবে, অতীতে যারা এসেছে তাদের নেবে না। তাই যদি হয়, তবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে, তা আরও ত্বরান্বিত করতে হবে এবং নিবন্ধিত ব্যক্তি সম্বন্ধে যাতে কোনো ওজর-আপত্তি না ওঠে সে শর্ত থাকতে হবে। মোট কথা, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ পদ্ধতি ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পুরো বিষয়টিকে যে ঝুলিয়ে দেবে না তার নিশ্চয়তা নেই।

আমার মনে হয়, এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এটা ভাবা হবে বোকামি। ওদের মন্ত্রী এসে প্রস্তাব দিয়েছেন, এতে উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। এটাকে আমাদের কূটনৈতিক সাফল্য মনে করারও কিছু নেই। আগেই বলেছি, বিশ্বজনমতের চাপে পড়ে তারা এই লোক দেখানো পদক্ষেপ নিয়েছে। আর বিশ্বজনমতও কারো কূটনীতির কারণে নয়, ওটা উথলে উঠেছে বিপন্ন মানবতার দৃশ্যাবলি মিডিয়ার কল্যাণে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়াতে। কূটনৈতিক সাফল্য বরং ওদের। তারা সাময়িকভাবে হলেও সমস্যার উত্তপ্ত উনুনে কিছুটা ঠাণ্ডা পানি ছিটাতে সমর্থ হয়েছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলকেও এই বাণী দিয়ে দিল : তোমাদের আসার দরকার নেই, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যকার সমস্যা’ আমরাই সমাধান করার উদ্যোগ নিচ্ছি।

বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনায় সম্মত হয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই। এ ধরনের সমস্যার উদ্ভব হলে কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টাকে পাশ কাটানোর কোনো সুযোগ নেই। অতএব, এটা ঠিক আছে। তবে সঙ্গে সঙ্গে এটাও বলতে চাই, আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ দেশটি মিয়ানমার, যারা যেকোনো ছুতোয় অতীতের মত ব্যাক আউট করতে পারে। তারা বাংলাদেশকে কেয়ার করবে না—করার বাহ্যত কোনো কারণও নেই—তবে ইউরোপ-আমেরিকা বা জাতিসংঘের সঙ্গে বেশিক্ষণ ঘাড় ত্যাড়ামি করতে পারবে বলে মনে হয় না।

মিয়ানমার শুরু থেকেই ২৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনাবলিকে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড—অর্থাৎ ইনসারজেন্সি বলে চালাতে চাচ্ছে। এবং তার সঙ্গে ইসলামী স্টেট সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আছে বলে পশ্চিমাবিশ্বকে প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করছে। এটা যে সম্পূর্ণ ভাঁওতাবাজি, সেটা প্রমাণ করতে বাংলাদেশকে তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে। মিয়ানমার চাচ্ছে এটাকে একটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে বিশ্বের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফিরিয়ে দিতে। আমাদের উচিত হবে, এটাকে রোহিঙ্গাদের ফেরত না নেওয়ার একটা অপকৌশল প্রমাণিত করা।

পুরো সমস্যাটার সমাধান আসলে নিহিত আছে কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালায়। রিপোর্টটি সরেজমিনে ঘুরে ঘুরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তৈরী করেছে এই কমিশন। সমগ্র বিশ্ববাসী (মাইনাস চীন-ভারত-রাশিয়া, যারা নিজের স্বার্থ ছাড়া আপাতত কিছু দেখছে না) এই রিপোর্টকে সমর্থন জানিয়েছে। আর জানাবে না কেন? রোহিঙ্গারা যে তাদের চৌদ্দপুরুষের ভিটেমাটি থেকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে উত্খাত হয়েছে, এটা তো প্রতিষ্ঠিত সত্য। কাজেই তাদের নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান, তথা ওই দেশের অন্য সব কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার মধ্যেই রয়েছে সমস্যার স্থায়ী সমাধান। কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মিয়ানমারকে এ কথা মানাতে হবে।

তিন.

মিয়ানমারের মিষ্টি কথায় ভোলা যাবে না—এ কথা বারবারই উচ্চারণ করব। লক্ষ লক্ষ নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ নিরীহ মানুষকে অবলীলাক্রমে হত্যা করতে, পুড়িয়ে মারতে যাদের একটুও হাত কাঁপে না। যারা মানুষগুলোর বিরুদ্ধে সব ধরনের পাপাচার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের মিথ্যাচারের ফাঁদে পা দেওয়া চলবে না কিছুতেই। নিজেদের মতলব হাসিলের উদ্দেশ্যে এরা করতে পারে না এমন কাজ নেই। এরা মিষ্টি মিষ্টি কথায় সব কিছুতেই রাজি হবে, কিন্তু করবে না কিছুই। এদের মিষ্টি কথার ফাঁদে পা দিলে পরে পস্তাতে হবে ঈশপের গল্পের সেই কাকের মত।

ঈশপের সেই গল্পটি এমন। এক ধূর্ত শিয়াল দেখল, গাছের ডালে বসে আছে এক দাঁড়কাক। তার ঠোঁটে এক খণ্ড মাংস। দেখেই শিয়ালের লোভ হলো, ওই মাংসের টুকরো পেতে হবে। কিন্তু অত উঁচুতে তো আর ওঠা যাবে না। শিয়াল তখন এক ফন্দি বের করল। সে খুব ত্যালানো ভঙ্গিতে বলল, কাকভাই কাকভাই, বহুদিন তোমার সুমিষ্ট স্বরের গান শুনি নাই। আজ যদি একটা গান শোনাতে। আহা, কী সুন্দর মনকাড়া তোমার গান। এই পাম্প-পট্টিতে ভজে কাক যেই কা বলে ডেকে উঠল, অমনি তার ঠোঁট থেকে মাংসপিণ্ডটি পড়ে গেল নিচে, আর ধূর্ত শিয়াল ওটা কুড়িয়ে নিয়ে দে চম্পট।

ঈশপ এই গল্পের উপদেশে আমাদের বলেছেন : দুষ্ট লোকের মিষ্ট কথায় ভুলিও না। ...মনে থাকে যেন।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

mkarim06@yahoo.com


মন্তব্য