kalerkantho


‘নেভার সাইন অন দ্য ডটেড লাইন’

মোফাজ্জল করিম

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



‘নেভার সাইন অন দ্য ডটেড লাইন’

হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজারসংলগ্ন গোরস্তানে শায়িত আছেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানী। স্বাধীনতার পরপরই প্রায় পৌনে তিন বছর তাঁর মন্ত্রণালয়ে, তাঁর অধীনে আমি কাজ করেছি। সেই থেকে দেশপ্রেম, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নিয়মনিষ্ঠা প্রভৃতি কিছু ব্যাপারে তাঁকে আমি এবং আমার মতো অনেকেই গুরু মানি। আমি হজরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করে সব সময় কিছুক্ষণের জন্য হলেও জেনারেল সাহেবের মাজার জিয়ারত করি। গতকালও তাই করেছি।

আজ কলাম লিখতে বসে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরের বিষয়টি মাথায় এলো, তখন সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেল ১৯৭৪ সালে আমার প্রথম দিল্লি সফরের কথা। তখন জেনারেল ওসমানী আমাদের বিমান ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, আমাদের ‘বস’। আর ‘বস’ বলে ‘বস’। তাঁর শাসনে আমরা সবাই ছিলাম তটস্থ। কোনো কিছুতেই পান থেকে চুন খসার জো ছিল না। তা তাঁর আমলেই দুই-দুবার ভারতের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আলোচনায় বসতে হয় আমাদের।

প্রথমবার ১৯৭৩ সালের আগস্টে ও পরেরবার ১৯৭৪ সালের জুলাই না আগস্ট মাসে ঠিক মনে নেই। আমি ছিলাম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি সেক্রেটারি। সেই সুবাদে অন্যান্য দায়িত্বের সঙ্গে বিমান চলাচলসংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় দেখতে হতো আমাকে। স্বাধীনতার পরে পরে সেই আমলে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। একেকজন কর্মকর্তাকে অত্যন্ত স্বল্পসংখ্যক সহকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়ে কাজকর্ম সামাল দিতে হতো। বিমান, সমুদ্র পরিবহন বা এ ধরনের কোনো কোনো বিষয় ছিল আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অচেনা। কারণ পাকিস্তানি আমলে প্রাদেশিক সরকারের ইস্ট পাকিস্তান সেক্রেটারিয়েটে এসব বিষয়ের কোনো বিভাগ বা দপ্তর ছিল না। এগুলো ছিল পুরোপুরি সেন্ট্রাল সাবজেক্ট, যা করাচি-পিন্ডি-ইসলামাবাদে নিষ্পাদন করা হতো। ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত সবকিছু যখন আমাকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেওয়া হলো তখন আমি বা আমার সহকর্মীরা এরোপ্লেনই দেখেছি কয়টা! সেখান থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে যাত্রা শুরু আমার ও আমাদের এয়ারলাইনস বাংলাদেশ বিমানের (জন্ম : ৪ জানুয়ারি ১৯৭২। জন্মকালে অধ্যাদেশ জারি করে নামকরণ করা হয়েছিল এয়ারবাংলা ইন্টারন্যাশন্যাল। পরে দ্রুতই নাম পাল্টিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রাখা হয়। ) তখন সচিব (মরহুম) আব্দুস সামাদ (সিএসপি), সচিব (মরহুম) নূরুল কাদের (সিএসপি), সচিব (মরহুম) সুলতান উজ-জামান খান (সিএসপি), যুগ্ম সচিব ড. শেখ মকসুদ আলী (সিএসপি) বা আমার কারোরই বিমান চলাচলসংক্রান্ত জ্ঞান তো দূরের কথা, ধ্যান-ধারণাও স্পষ্ট ছিল না। আমরা বিমান ও সিভিল এভিয়েশনের আমাদের সহকর্মী যাঁরা সবাই পাকিস্তানি আমলে পিআইএ এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল এভিয়েশনে বিভিন্ন পদে চাকরি করেছিলেন সেই সব অভিজ্ঞ কুশলী ও সহৃদয় বন্ধুদের কাছ থেকে বিমান চলাচলের স্বরে অ স্বরে আ শিখে দ্রুত ‘শর্ট কোর্স করে’ কাজ চালানোর মতো বিদ্যা রপ্ত করে ফেললাম। একটা সম্পূর্ণ নতুন বিষয়, যার পুরোটাই রীতিমতো টেকনিক্যাল, শিখতে ওই বয়সে বেশ মজাই লাগত আমার।

জুলাই ১৯৭৩ সালে নেদারল্যান্ডসের একটি দল এসেছিল ওদের দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য। এমন ঝানু, প্রফেশনাল পার্টি আমি চাকরি জীবনে কম দেখেছি। ঝাড়া ১৭ দিন তাঁদের সঙ্গে আমাদের যমে-মানুষে টানাটানির পর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই ১৭ দিন ওরা আমাদের এমন নাকানি-চুবানি খাওয়াল যে আমাদের একেবারে ‘লিভ মি মাদার, লেট মি ক্রাই’  (‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির’ মত্কৃত ইংরেজি অনুবাদ) অবস্থা। তবে হ্যাঁ, ওই কদিন লাভ হলো একটা—আমরা সবাই ওই গুরুমহাশয়দের কাছ থেকে বিমান চলাচল চুক্তির অনেক অন্ধিসন্ধি শিখে নিলাম। এর ঠিক পরপরই এসে হাজির ভারতীয় দল। তাদের নেতা তাদের মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মি. খোসলা।

২.

ভারতের সঙ্গে চুক্তির আগে প্রথমে ১৯৭২ সালে তত্কালীন পূর্ব জার্মানি (জিডিআর), সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বুলগেরিয়া এবং সর্বশেষ ১৯৭৩ সালে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে আমরা মোটামুটি চালু হয়ে গেছি। বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে পরিশ্রমী ছাত্রের মতো ক্লাস করে করে। এবার ভারতীয় দল যতই শক্তিশালী হোক না কেন, সে দলের শচীন টেন্ডুলকার বা বিরাট কোহলি যতই ছক্কা-চৌকা হাঁকাক না কেন, আমরা মোটেই ভীত ছিলাম না। তারা অবশ্য ভেবেছিল এই আনাড়ি দলের সঙ্গে দুদিনেই ‘টেস্ট’ জিতে যাবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল, তার জন্য তারা কেন তাদের কোচ, তাদের বোর্ড কেউই বোধ হয় প্রস্তুত ছিল না।

ভারতীয় দল আসছে এই প্রোগ্রাম পেয়েই ড. শেখ মকসুদ আলী ও আমি শুরু করে দিলাম হোমওয়ার্ক। প্রত্যেক দিন অফিস ছুটির (তখন ১০টা-৫টা ছিল অফিস) আগে আমরা বিমান, সিভিল এভিয়েশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ইত্যাদি সবাইকে নিয়ে বসতাম মিটিংয়ে। তারপর শুরু হতো প্রত্যেক বিষয় নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা ও চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ। কোনো কোনো দিন সে আলোচনা শেষ হতে হতে রাত ৮টা-৯টা বেজে যেত। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে পরদিন আলোচনা করতাম। তখন সচিব সুলতান উজ-জামান সাহেবও থাকতেন। এভাবে আমাদের ‘ব্রিফ’ তৈরি হয়ে গেল। মন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা : নেভার গো ফর অ্যা রাইড। লেট দেম নট ফিল দ্যাট ইউ আর গোয়িং টু সাইন অন দে ডটেড লাইন। আমি হয়তো কোনো বিষয়ে মিন মিন করে বললাম, স্যার, ওরা যদি এটা একদম না মানে, তখন কী করব? তিনি তাঁর ব্যাঘ্রচক্ষু বস্ফািরিত ও প্রজ্বলিত করে দাঁত কিড়মিড় করে বলতেন : ইফ দে ডোন্ট এগ্রি দেন লেট দেম গেট...। শেষ শব্দটি ছয় অক্ষরের একটা শ্লীলতাবর্জিত ইংরেজি স্ল্যাং, যা জেনারেল সাহেব রেগে গেলে কখনো কখনো উচ্চারণ করতেন। আমরা জানতাম, এরপর দুনিয়া উল্টে গেলেও জেনারেল তাঁর মত পাল্টাবেন না।

তারপর শুরু হলো উভয় পক্ষের আলোচনা। প্রাথমিক পর্যায়ে পরস্পর পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, উষ্ণ অভ্যর্থনা জ্ঞাপন, গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ইত্যাদি। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধ কী করে উভয় দেশকে বন্ধুত্বের চিরস্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ করেছে, এসব নান্দিপাঠের পর শুরু হলো খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা। তারপর যখন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছাড় দেওয়ার প্রশ্ন উঠল, তখন দেখা গেল উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে সম্পূর্ণ অনড়। ফলে একেকটি অনুচ্ছেদ, এমন কি কখনো একেকটি বাক্যের ফয়সালা হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যাচ্ছে। আমার কাজ ছিল, মাঝে মাঝে নানা ছুতায় আলোচনার টেবিল ছেড়ে মন্ত্রী মহোদয়ের কামরায় গিয়ে তাঁকে ব্রিফ করা এবং তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা। মন্ত্রী বিমান তথা দেশের স্বার্থে কোনো বিষয়েই একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নন। এভাবে এক দিন, দুদিন করে প্রায় এক সপ্তাহ পার হয়ে গেল। আলোচনায় অগ্রগতি নেই বললেই চলে। আমরা বুঝলাম, ভারতীয় পক্ষ এটা মোটেই প্রত্যাশা করেনি যে তাদের এত বড় বন্ধু বাংলাদেশ এমন ত্যাড়ামি করবে ‘সামান্য একটা বিমান চলাচল চুক্তি’ নিয়ে। যেখানে অন্যান্য কত বিষয়ে হরহামেশা দুই দেশের মধ্যে চুক্তি, সমঝোতা স্মারক, স্মরণপত্র ইত্যাদি সই হচ্ছে। মি. খোসলা তো বলেই বসলেন যে তাঁরা নাকি ধারণা করেছিলেন দুই-তিন দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করে তাঁরা দেশে ফিরে যেতে পারবেন। এবং তাঁদের সরকারও নাকি সেই মতো তাঁদের সফরের সরকারি আদেশপত্র (জিও) ইস্যু করেছেন।

সাত দিনের দিন একটি কাণ্ড ঘটে গেল। মি. খোসলা দিনের শুরুতে জানিয়ে দিলেন, আজ চুক্তি স্বাক্ষর না হলে তাঁরা ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনসের সন্ধ্যার ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাবেন। হ্যাঁ, শূন্য হাতে।

আবার চলল ‘টাগ-অব-ওয়ার’। কিন্তু না বরফ গলল না। এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে সত্যিই ভারতীয় দল আমাদের চমকে দিয়ে হঠাৎই বেরিয়ে গেল আলোচনা কক্ষ থেকে। আমি ও আমার পেছনে পেছনে ড. আলী এবং অন্যরা গাড়িতে করে ছুটতে ছুটতে তখনকার তেজগাঁ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে মি. খোসলা ও তাঁর দলকে ফেরাতে অনেক চেষ্টা করলাম। কিন্তু লাভ হলো না। তাঁরা চলেই গেলেন। তাঁরা যাওয়ার আগে বিমানবন্দর থেকে আমি ফোন করে মন্ত্রী মহোদয়কে বিষয়টি জানালাম। তাঁর ওই একই উক্তি : লেট দেম গেট...।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো নেগোসিয়েশন ফেল করল। আমরা তো রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। ‘সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ’ সব শুনে আমাদের চাকরিই না ‘নট’ করে দেন। কিন্তু না, কিছুই হলো না। আমি নিশ্চিত, জাতীয় স্বার্থে ওই কর্তৃপক্ষও ছিলেন অনমনীয়।

৩.

পরের বছর উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগে ভারতীয়দের আমন্ত্রণে আমরা গেলাম দিল্লি। এবার তাঁদের দলপতি স্বয়ং তাঁদের সচিব মি. সায়গল, আইসিএস। আর আমাদের দলে কোনো পরিবর্তন নেই, নেতা সেই ড. শেখ মকসুদ আলী, যুগ্ম সচিব। আবার তীব্র দর-কষাকষি। তিন দিন পর আবার আলোচনা ভেঙে গেল। অশোকা হোটেলের ঘড়িতে তখন রাত প্রায় ২টা বাজে। ওই অবস্থায় কী আর করা, চারটা খেতে তো হবে। মুখে কাষ্ঠ হাসি ঝুলিয়ে সবাই বসলাম খেতে। কিন্তু আমার গলা দিয়ে আর খাবার নামে না। এ কী হলো? এবারও ফেল?

আমি ওই দলের এক সিনিয়র অফিসারকে খাওয়া শেষ হতে না হতে ডেকে নিয়ে গেলাম এক কোণে। ভদ্রলোক ছিলেন বাঙালি, মি. সরকার না কি যেন নাম। তিনি ছিলেন তাঁদের সিভিল এভিয়েশন ডিপার্টমেন্টের বড় কর্তা। ‘দাদা, এটা কী হলো, আমরা সবাই থাকতে এটা এবারও ভেঙে যাবে?’ আমি বললাম। তারপর দুই বাঙালি কিছুক্ষণ ফিসফাস করে একটা মধ্যপন্থা বের করলাম। অন্যরা তখন কেউ চা-কফি খাচ্ছেন, কেউ চুটকি শোনাচ্ছেন। দুজন গেলাম যার যার দলপতির কাছে। যে বিষটাতে গিট্টু লেগেছিল সেটা খুলতে আমাদের সমাধান দেখলাম দুজনেই মানলেন। রাত ৩টার দিকে আবার টেবিল জোড়া দিয়ে, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সেরে তক্ষুনি টাইপ করা হলো চুক্তি। তারপর ফাইনাল কপি সই হয়ে গেল। আমি এক দৌড়ে চলে গেলাম বন্ধু ও দিল্লিতে আমাদের প্রথম সচিব জিয়াউস শামস ওরফে শোয়েবের বাসায়। ওখানেই থাকতাম আমি ও আমার স্ত্রী। ভদ্রমহিলাকে বগলদাবা করে সোজা এয়ারপোর্ট। যখন কলকাতার উদ্দেশে প্লেন ছাড়ল, তখন সকাল সাড়ে ৬টা। প্লেনে উঠতেই আমার দুই চোখ ভরে রাজ্যের ঘুম নামল। মনে তখন দারুণ প্রশান্তি : আমরা ‘ডটেড লাইনে’ স্বাক্ষর করিনি। অলসো, ‘দে কুড নট টেক আস্ ফর অ্যা রাইড’, দুই-দুবার চেষ্টা করেও।

৪.

পাদটীকা : আজকের লেখাটি বিশেষভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফর স্মরণ করে লেখা। উড়ু উড়ু শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নাকি চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এই নিয়ে বিভিন্ন মহলে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। স্বাভাবিক। দেশের মানুষ, এমন কি জাতীয় সংসদও জানে না কী চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। কাজেই অনুরোধ, দেখবেন বন্ধুরা যেন আমাদের না আবার ‘ডটেড লাইনে’ সাইন করিয়ে নেয়।

 

লেখক : সাবেক সচিব, কবি

mkarim06@yahoo.com


মন্তব্য