kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

পূর্বপুরুষদের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পূর্বপুরুষদের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়

১১১. পূর্বপুরুষদের কাহিনিতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। এটা (কোরআনের বাণী) মিথ্যা রচনা নয়; বরং তা আগের ধর্মগ্রন্থগুলোর সমর্থক, সব কিছুর বিশদ বিবরণ এবং ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য পথ নির্দেশ ও রহমত। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১১১)

তাফসির : সুরা ইউসুফের শেষভাগে এসে এই আয়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পবিত্র কোরআনে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য শুধু কাহিনি বর্ণনা করা নয়, বরং এর মধ্যে মানবজাতির জন্য অনেক কিছু শেখার রয়েছে। কোরআন গভীরভাবে অধ্যয়ন করলে যেকোনো জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে বোধগম্য হবে যে এটি মানবরচিত কোনো গ্রন্থ নয়, বরং তা আসমানি গ্রন্থগুলোরই ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে মানবজীবনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান দেওয়া হয়েছে। সব বিষয়ে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ কিতাব ঈমানদারদের হেদায়েতের পথে পরিচালিত করে। সঠিক পথের দিশা দেয়। এর মাধ্যমে ঈমানদারদের ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়।

কোনো কোনো তাফসিরবিদের মতে, এই আয়াতে পূর্বপুরুষদের কাহিনি বলতে শুধু ইউসুফ (আ.)-এর কাহিনি বোঝানো হয়েছে।

কিন্তু বেশির ভাগ তাফসিরবিদের অভিমত হলো, আগের সব নবী-রাসুলের কাহিনির কথা এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক নবী-রাসুলের জীবনে সংঘটিত বিভিন্ন কাহিনির যা কিছু কোরআন শরিফে বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে মানবজাতির জন্য শিক্ষাগ্রহণ করার পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে। পূর্বপুরুষদের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয়।

কোরআনের ঘটনা বানানো গল্প নয়, বরং প্রতিটি ঘটনার স্পষ্ট ছাপ এখনো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে রয়েছে। কোরআন শরিফে বারবার সেসব স্থান পরিদর্শন করতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাওরাত ও ইনজিলেও এমন অনেক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

আলোচ্য আয়াত থেকে জানা যায়, কোরআন শরিফ নিছক একটি ধর্মগ্রন্থ নয়। এটি এমন মহাগ্রন্থ, যার পাতায় পাতায় মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজনীয় বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। ব্যক্তিগত, সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিটি স্তরে যেকোনো প্রয়োজনে কোরআন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এমনকি কোরআনের কোনো কোনো আয়াতের ব্যাখ্যাও খোদ কোরআন শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি পবিত্র কোরআনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও মুজিজা।

আয়াতে আরো বলা হয়েছে, ‘কোরআন ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য হেদায়েত ও রহমত। ’

এর ব্যাখ্যা হলো, কোরআন শরিফ থেকে ঈমানদাররাই বেশি উপকৃত হয়ে থাকে। কেননা কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও অনুসরণ তারাই করে থাকে। তবে কাফিরদের জন্যও কোরআন শরিফ হেদায়েতের প্রতীক। তারা চাইলে এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে।

আল্লামা আবু মনসুর (রহ.) বলেন, সুরা ইউসুফ নাজিল করার মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রিয় নবী (সা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া যে তোমাকে যেমন দুঃখ-কষ্ট-লাঞ্ছনা-নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে, একই ধরনের আচরণ ইউসুফ (আ.)ও সহ্য করেছেন। অন্য নবী-রাসুলরাও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের পরিণতি হয়েছে মধুর। তোমাকেও আল্লাহ তাআলা বিজয়ী করবেন।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য