kalerkantho


মনের কোণে হীরে-মুক্তো

সেলিব্রিটির সম্মান বনাম স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকার সংগতি

ড. সা’দত হুসাইন

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সেলিব্রিটির সম্মান বনাম স্বচ্ছন্দে বেঁচে থাকার সংগতি

ছোট বয়সে গল্প শুনেছিলাম যে আমাদের পাড়ার এক উকিল মহোদয়ের পরিবার তাঁর স্বর্ণপদকটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছিল। উকিল সাহেবের পরিবারে আর্থিক টানাপড়েন ছিল না।

মোটামুটি সচ্ছল পরিবার ছিল। উকিল সাহেবের স্ত্রী, যাঁকে আমরা খালাম্মা বলে ডাকতাম, শিক্ষিত ছিলেন না। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। আমাদের খুব আদর-স্নেহ করতেন। আশপাশের খালা-চাচিরা খালাম্মাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি নাকি অকপটে বলেছিলেন যে সোনার মেডেল কাপড়ের ভাঁজে লুকিয়ে রেখে লাভ কী। তাঁদের ঘর তো এমন নয় যে একে দৃশ্যমান জায়গায় রেখে ঘরের শোভা বা পরিবারের সম্মান বাড়ানো যাবে। বর্তমান অবস্থায় দৃশ্যমান কোনো জায়গায় রাখলে অচিরেই তা চুরি হয়ে যাবে। তা ছাড়া এ মেডেল তো উকিল সাহেবের জন্য বাড়তি সম্মান আনছে না। তাঁকে একজন উকিল হিসেবেই লোকে চেনে। এ মেডেল কেন পেয়েছিলেন এখন তা বলার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই। তার চেয়ে এটি বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গেছে তা কেনাকাটা, ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-শাদিতে অনেক বেশি কাজে লাগবে।

খালাম্মার বক্তব্য শুনে অনেক সুধীজন আঁতকে উঠবেন। তাঁরা বিপন্ন বিস্ময়ে বলবেন, স্বর্ণপদক আবার কেউ বিক্রি করে নাকি? এ তো পরিবারের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁদের অবগতির জন্য ঢাকার একটি দৈনিকে প্রকাশিত নিচের খবরটি তুলে ধরছি—

১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে তাক লাগিয়ে দেওয়া সোভিয়েত জিমন্যাস্ট ওলগা করবাট তাঁর সাতটি পদক ও ট্রফি নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন। অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই তিনি এসব নিলামে তোলেন। সম্প্রতি এ খবর দেয় বিবিসি। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এক নিলামে করবাটের দুটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্যপদকসহ মোট সাতটি পদক ও ট্রফি নিলামে এক লাখ ৮৩ হাজার ডলারে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে অর্থাৎ ৬৬ হাজার ডলারে বিক্রি হয় মিউনিখ অলিম্পিকে জেতা একটি স্বর্ণপদক। করবাটের জন্ম বেলারুশে, যা তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান অভিবাসী হয়ে। এখন থাকেন আরিজোনায়। রাশিয়ার একটি সংবাদ সাইট গ্যাজেটার খবর অনুযায়ী ওলগা করবাট আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছিলেন। পত্রিকাটির ভাষায়, এ পদকগুলো তাঁকে অনাহার থেকে বাঁচিয়েছে। ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে জিমন্যাস্টিকসে করবাটের চোখ ধাঁধানো সাফল্য তাক লাগিয়ে দিয়েছিল বিশ্বকে। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। তাঁকে ‘মিনস্কের চড়ুই’ নাম দেওয়া হয়েছিল। সেবার তিনি জিমন্যাস্টিকসে তিনটি স্বর্ণপদক ও একটি রৌপ্যপদক জেতেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালের মন্ট্রিয়ল অলিম্পিকে একটি স্বর্ণপদক ও একটি রৌপ্যপদক জেতেন তিনি। একসময়ের সেলিব্রিটি ক্রীড়াবিদ মিউনিখ অলিম্পিকের স্বর্ণজয়ী রাশিয়ান জিমন্যাস্ট ওলগা করবাটের সংসারে অভাব-অনটন অতি প্রসিদ্ধদের জীবন ও অভিজ্ঞতার বিচিত্র দিক তুলে ধরেছে। অতি প্রসিদ্ধ বা সেলিব্রিটি হওয়ার প্রেক্ষাপট যেমন এক নয়, তেমনি সেলিব্রিটিদের সহায়-সম্পদ ও জীবনযাত্রার ধরনও এক রকম হয় না। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অল্প বয়সে দু-একটি ঘটনার মাধ্যমে সেলিব্রিটি হয়ে যান। কৃতিত্বপূর্ণ সে কাজ অনেকবার বা বেশিদিন ধরে রাখতে পারেন না। এমনকি যে অঙ্গনে কৃতিত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি সেলিব্রিটি হয়েছেন, সে অঙ্গনে সাধারণ পেশাজীবী হিসেবে কাজ করারও সুযোগ থাকে না। তাঁর এত বন্ধুবান্ধব, শুভানুধ্যায়ী থাকেন না, যাঁরা তাঁকে একটি সম্মানজনক কাজ জুগিয়ে দেবেন। যাঁরা তাঁদের আবাসস্থল পরিবর্তন করে ফেলেন তাঁদের জন্য এ কথাটি আরো সত্য। আবার দেখা যায়, কেউ অল্প বয়সে সেলিব্রিটি হয়েছেন, তবে তাঁর পেশাটি এমন যে তিনি স্বাভাবিকভাবে সে পেশায় আরো কয়েক বছর বা দীর্ঘ সময় ধরে পারফর্ম করতে পারেন। পরের পারফরম্যান্সগুলো একই রকম ভালো বা আরো উন্নত হলে তাঁর সেলিব্রিটি মর্যাদা সমান বা উন্নততর হতে পারে। সম্মানী, পারিশ্রমিক, রুজি-রোজগারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ভাটার টান দেখা যায় না। ফিল্ম স্টার, কবি-সাহিত্যিক, সংগীতশিল্পী, অঙ্কনশিল্পীকে এ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। ক্রিকেট ও ফুটবল অঙ্গনের সেলিব্রিটি খেলোয়াড়রা ১৫-২০ বছর পর্যন্ত পেশাজীবী হিসেবে চালিয়ে যেতে পারেন। এ সময় যদি তাঁরা পর্যাপ্ত অর্থ-সম্পদ সঞ্চয়ের সুযোগ পান, তবে তা দিয়ে ইচ্ছা করলে তাঁরা সারা জীবন স্বচ্ছন্দে চলতে পারেন।

লেখক, গবেষক, একাডেমিক পেশা, সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ, জাতীয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জড়িত ব্যক্তিরা মধ্য বয়স কিংবা বার্ধক্যে এসে তাঁদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেয়ে সেলিব্রিটির মর্যাদাভুক্ত হন। নিজেদের পেশায় আগে থেকেই তাঁরা পরিচিত, এমনকি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকেন। সেলিব্রিটির স্বীকৃতি ব্যতিরেকেই তাঁরা আর্থিকভাবে মোটামুটি সচ্ছল থাকেন। স্বীকৃতি বা সেলিব্রিটি মর্যাদা তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতাকে একটু বাড়িয়ে দেয় মাত্র। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে স্বীকৃতির সনদের সঙ্গে নগদ পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকে এবং অর্থের পরিমাণ সেলিব্রিটির বাকি জীবনের আর্থিক চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট বলেই বিবেচিত। নোবেল বিজয়ী কোনো সেলিব্রিটির সংসারে আর্থিক টানাপড়েন হয়েছে এমন কথা শোনা যায়নি। আমার হিসাবে, বর্তমান বাজারে কোনো পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ কমপক্ষে দুই কোটি টাকা হলে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁর জীবিত অবস্থায় আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকবেন।

যেসব সেলিব্রিটির সুউচ্চ মানের পারফরম্যান্সের স্থায়িত্ব তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি, তাঁদের কেউ কেউ মূল অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট কোনো উপাঙ্গনে নিজের জন্য অর্থকরী কাজ খুঁজে নেন। খেলোয়াড়রা ক্লাব বা দলের কোচ হয়ে যান। কেউ বা ম্যানেজার অথবা বোর্ডের সদস্য হিসেবে পদাসীন হন। অনেকে বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে ভালোই আয় করেন। এসব কাজে স্পন্সর লাগে। যাঁরা কমেন্ট্রি বা ধারা বর্ণনার কাজে জড়িত হতে চান, তাঁদের আয়োজক সংস্থা ও সিদ্ধান্তদাতাদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করতে হয়। নইলে একদিকে কিছুদিন পরে লোকে তাঁদের ভুলতে বসে; একই সঙ্গে তাঁদের রুজি-রোজগারেও ভাটা পড়ে। ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার হিসেবে ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সেলিব্রিটি ক্রিকেটাররা কাজ করে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন। এ খাতে তাঁদের আয়-উপার্জনও খুব খারাপ নয়। কপিল দেব, আজহার উদ্দিন, শচীন টেন্ডুলকার, সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। আমি একটি মজার কথা শুনেছি। ধনকুবেররা মাঝেমধ্যে তাঁদের অনুষ্ঠানে সেলিব্রিটি ফিল্মস্টার বা খেলায়াড়কে আমন্ত্রণ করেন। আমন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর অনুষ্ঠানের জৌলুস বাড়ানো। অনুষ্ঠানে একজন সেলিব্রিটি উপস্থিত রয়েছেন, এ খবরে নাকি নিমন্ত্রণকারীর সম্মান ও মর্যাদা অনেক বাড়ে। বাড়তি সম্মানকে পরে তিনি বিভিন্নভাবে কাজে লাগান। বিনিময়ে সেলিব্রিটিকে মোটা অঙ্কের সম্মানী দেওয়া হয়। বলা যায়, এখানে সেলিব্রিটি তাঁর উপস্থিতিকে বাজারজাত করেন। রাজনৈতিক ও একাডেমিক সেলিব্রিটিরা বক্তব্য দিয়ে বিপুল অর্থ আয় করেন।

কিছু করপোরেট হাউস, শিল্পগোষ্ঠী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে তাঁদের সংগঠনের পে-রোলে অন্তর্ভুক্ত করতে পছন্দ করেন। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সাধারণ্যে তাঁদের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল রাখা এবং কৌশলে তাঁদের পরিচিতি ব্যবহার করা। তাঁদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো সহজতর হয়। আজকাল বিভিন্ন পণ্যের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’, বিভিন্ন কর্মসূচির ‘প্রগ্রাম অ্যাম্বাসাডর’ পদবি দিয়ে সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করা হয়। এতে পণ্য বা কর্মসূচির ভালো প্রচার হয়। সেলিব্রিটিদের ব্যবহার করা হয়। এতে পণ্য বা কর্মসূচির ভালো প্রচার হয়। সেলিব্রিটিরা এর মাধ্যমে বাড়তি আয়-উপার্জনের সুযোগ পান। সেলিব্রিটির যশ, খ্যাতি, আকর্ষণ যত সহজে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর মর্যাদা বাজারজাতকরণ (Marketing) তত সহজ ব্যাপার নয়। এর জন্য উন্নয়কের (Promoter) প্রয়োজন হয়। উন্নয়করা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সব সেলিব্রিটির দরজায় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন না। যাঁদের প্রসিদ্ধি এবং আকর্ষণ বাজারজাত করে তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল হবে, উন্নয়করা তাঁদের কাছেই ঘন ঘন যান। যেসব সেলিব্রিটির কীর্তি-কাহিনি তাঁদের সহ-পেশাজীবীদের মধ্যে সীমিত, বাইরের লোক দু-একবার তাঁদের নাম শুনলেও সে নাম স্থায়ীভাবে মনে রাখেনি, তাঁদের ব্যাপারে উন্নয়কদের তেমন আগ্রহ নেই। বিস্মৃতির আলোহীন জগতে ধীরে ধীরে তাঁরা হারিয়ে যান।

সেলিব্রিটিদের মধ্যে যাঁদের উচ্চমানের পারফরম্যান্স স্বল্পমেয়াদি তাঁদের সমস্যা অন্যদের চেয়ে জটিল। ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। যেহেতু শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে বিষয়টি জড়িত, তাই দেখা যায় উচ্চতম মানের খেলোয়াড়ও চার-পাঁচ বছর পর ‘সর্বোত্কৃষ্ট ফর্ম’ বজায় রাখতে পারেন না। ক্রীড়াজগতের পরিভাষায় বলা হয়, তার খেলা পড়ে যায়। তিনি যদি কোচ, ধারাভাষ্যকার, ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কাজ না পান অথবা অর্থকরী ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িত না থাকতে পারেন, তবে তাঁকে আর্থিক টানাপড়েনে পড়তে হয়। ওলগা করবাটের ক্ষেত্রে তা-ই ঘটেছে। গতিময় নান্দনিক জিমন্যাস্টিকে চার-পাঁচ বছরের বেশি ‘ফর্ম’ বজায় রাখা প্রায়ই সম্ভব হয় না। করবাট মিউনিখ অলিম্পিকে (১৯৭২) এবং মন্ট্রিয়ল অলিম্পিকে (১৯৭৬) স্বর্ণপদক পেলেও পরে আর নিজের প্রাধান্য ধরে রাখতে পারেননি। এরই মধ্যে আবার জীবনের ধারা বদলিয়ে দেশান্তরি হয়েছেন। আবাসন গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যতিক্রমি অঙ্গরাজ্যে, যাঁর সম্পর্কে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা নেই। এরূপ একটি জায়গায় তাঁর অলিম্পিকের খ্যাতিকে কাজে লাগিয়ে নতুনভাবে একটি অর্থকরী কাজ বা পেশায় জড়িত হওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব ঠেকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। সেই অচল অবস্থায় পড়ে তিনি হয়তো বা হাবুডুবু খেয়েছেন। অবশেষে স্বর্ণপদক বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা আনার প্রয়াস পেয়েছেন। এই প্রয়াসকে গণমাধ্যম নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করেছে।

আমাদের দেশে পরিচিত খেলোয়াড়, ক্রীড়াবিদ, কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রীর মধ্যে তীব্র আর্থিক সংকটের গল্প শোনা যায়। তবে তাঁরা ঠিক সেলিব্রিটি নন। বাংলাদেশে একমাত্র ক্রিকেট ছাড়া অন্য কোনো খেলায় ‘সেলিব্রিটি’ মর্যাদার ব্যক্তি গড়ে ওঠেননি। তাঁদের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স ও আর্থিক সংগতি দেখার সময় এখনো শেষ হয়নি। বাকি পেশায় যাঁরা সেলিব্রিটির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, সুস্থ থাকলে তাঁরা দীর্ঘ সময় নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। যত দূর জানি, নিকট-ভবিষ্যতে তাঁরা আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকবেন।

সেলিব্রিটির পরিবার যাতে আর্থিক টানাপড়েনে না পড়ে সে জন্য সুরক্ষামূলক কিছু সাংগঠনিক কর্মসূচি গ্রহণের আবশ্যকতা রয়েছে। কোনো দেশে বা প্রদেশে জীবিত সেলিব্রিটির সংখ্যা খুব বেশি নয়। এই সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা যেতে পারে। তাঁদের জন্য উপদেশনা অধিবেশন, অভিযোজন অনুশীলন কিংবা সরাসরি প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা সমীচীন হবে। সেলিব্রিটির নতুন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর যে সম্ভাবনা ও সমস্যার উদ্ভব হতে পারে সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করতে বিরাট আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে বিনিয়োগ সম্পর্কে তাঁকে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে, প্রয়োজনবোধে কাছে বসে হাতে-কলমে তাঁকে সমর্থন জোগাতে হবে। অর্থ-সম্পদ বিনিয়োগ এবং খরচের ব্যাপারে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন না করলে পরবর্তীকালে বড় রকমের অসুবিধা হতে পারে—এ কথা তাঁকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে, তাঁর মনে এটি বিদ্ধ করতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন পেশাভিত্তিক শীর্ষ সংগঠনগুলো সেলিব্রিটিদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করলে বিপদগ্রস্ত সেলিব্রিটিদের সেই তহবিল থেকে সাহায্য করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে এ ধরনের তহবিল রয়েছে, যার মাধ্যমে নামিদামি শিল্পী, সাহিত্যিক, খেলোয়াড়দের বিপদাপদে সাহায্য করা হয়ে থাকে।

প্রত্যেক সেলিব্রিটির নিজ অবস্থানে যাওয়ার একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। সে প্রেক্ষাপট তাঁর পেশা এবং বর্তমান অবস্থানের বৈশিষ্ট্য, সেলিব্রিটি হওয়ার আর্থিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক তাত্পর্য, সংশ্লেষ ও সীমাবদ্ধতা সেলিব্রিটিকে ভালোভাবে বুঝতে হবে। সেলিব্রিটি হলে জীবনের সব কিছু হাতের মুঠোয় এসে যাবে, এমনটি মনে করা তাঁর জন্য হতাশা ও বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। যে অবস্থানেই উন্নীত হন না কেন, সেলিব্রিটিও একজন মানুষ। তাঁর আচার-আচরণ ভালো মানুষের মতো হতে হবে। নইলে যত বিপত্তি, অশান্তি।

 

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান।


মন্তব্য