kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

বেশির ভাগ মানুষ ঈমান আনবে না

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বেশির ভাগ মানুষ ঈমান আনবে না

১০৩. (হে মুহাম্মদ) তুমি যতই চাও, বেশির ভাগ মানুষ ঈমান আনবে না।

১০৪. তুমি তাদের কাছ থেকে তো কোনো বিনিময় চাও না।

এই কোরআন বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৩-১০৪)

তাফসির : আগের আয়াতগুলোতে হজরত ইউসুফ (আ.) সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে নবী করিম (সা.)-কে লক্ষ্য করে ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম সম্পর্কে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, হে নবী! মানুষকে সত্যের দাওয়াত দিতে গিয়ে আপনি তো তাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক দাবি করছেন না। বরং তারা যাতে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে সে জন্য আপনি সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। তার পরও বেশির ভাগ মানুষ ঈমান আনেনি। ভবিষ্যতেও বহু মানুষ ঈমান আনবে না।

নবী-রাসুলদের প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বারবার বলেছেন, তাঁদের দায়িত্ব হলো আল্লাহর পথে মানুষকে আহ্বান করা। এ ক্ষেত্রে উম্মতে মুহাম্মদির আলেমদের নবী-রাসুলদের উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়েছে।

দাওয়াতি কাজে বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করা হয়। অনেক সময় কোনো বিষয়ে দেখা যায় কোনো কৌশলই দৃশ্যত সাফল্য পাচ্ছে না—এমন পরিস্থিতিতে অনেক ধর্মপ্রচারক হতাশ হয়ে পড়েন। এটি ঠিক নয়, বরং তাঁদের কাজ হলো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

দ্বিতীয় আয়াতের মূলকথা হলো, আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার জন্য মহানবী (সা.) কারো কাছে কোনো পারিশ্রমিক নেননি। এমনকি এ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য তৎকালীন কাফের-মুশরিকরা অনেক প্রলোভন দেখিয়েছিল। নির্যাতন করে তাঁকে দেশান্তরিত হতে বাধ্য করেছিল, তার পরও তিনি তাদের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি বলেছেন, আমার এক হাতে চাঁদ এবং আরেক হাতে সূর্য এনে তুলে দিলেও আমি দাওয়াতের কাজ পরিচালনা থেকে নিবৃত্ত হব না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তুমি তো এর জন্য কোনো পারিশ্রমিক দাবি করছ না। এটা (কোরআন) তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়। ’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০৪)

অন্য আয়াতে এসেছে : ‘বলে দাও, এর জন্য আমি তোমাদের কাছে পারিশ্রমিক চাই না। এটা (কোরআন) কেবল বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৯০)

হজরত শুআইব (আ.)ও একই বক্তব্য তাঁর জাতিকে শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তো তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান বিশ্ব প্রতিপালকের কাছে আছে। ’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ১৮০)

মক্কার কাফেররা অর্থের বিনিময়ে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে আপস করতে চেয়েছিল। তারা পৌত্তলিকতা ও ইসলামের মধ্যে কাটছাঁটের মাধ্যমে আপসের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। তাদের প্রস্তাবের জবাব আল্লাহ তাআলা ওহির মাধ্যমে জানিয়ে দেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে মুহাম্মদ) পৌত্তলিকদের বলে দাও, তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম। আমার জন্য আমার ধর্ম। ’ (সুরা : কাফিরুন, আয়াত : ৬)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য