kalerkantho


মনের কোণে হীরে-মুক্তো

নির্বাচন কমিশন গঠনের আদ্যোপান্ত

ড. সা’দত হুসাইন

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচন কমিশন গঠনের আদ্যোপান্ত

বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটির মাধ্যমে বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা নেই। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান/সদস্য, অডিটর অ্যান্ড কম্পট্রোলার জেনারেল কিংবা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রেও সার্চ/বাছাই কমিটি গঠনের সাংবিধানিক অনুশাসন নেই।

থাকলে ভালো হতো। একটি ছোট বাক্যাংশ সংবিধানে যোগ করে এ ব্যবস্থা করা যেত। এ ধরনের কোনো অনুশাসন না থাকায় সরকারের প্রধানমন্ত্রী মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে (যা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র) যেকোনো লোককে (প্রধান) নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত সে ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ২০১২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মরহুম জিল্লুর রহমান নিজ উদ্যোগে (নিশ্চয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে) নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর তাঁর  অনুমোদনক্রমে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কোনো ধরনের হৈচৈ, শোরগোল ছাড়া সার্চ কমিটির পরামর্শমতে রাষ্ট্রপতি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। এর আগের কমিশনের সদস্য ছিলেন মাত্র তিনজন।

রকিব কমিশনের পারফরম্যান্স নাগরিকদের এক বিশাল অংশের নিকট প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও সুধীজনের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে।

বিভিন্ন মহলে তর্কবিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা, পর্যালোচনার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে অলিখিত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয় যে একটি সার্চ কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন করতে হবে। এখানেই শেষ নয়। আরো ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয় যে এবারের সার্চ কমিটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিভিন্ন মহলের আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে গঠন করা সমীচীন হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলন ও ১৩ দফা দাবি ঐকমত্যকে অধিকতর শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের গঠন কেমন হবে তার একটি অস্পষ্ট রূপরেখা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়। বিএনপির ১৩ দফার প্রতি শাসকদলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক না হলেও মহামান্য রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের গঠন সম্পর্কে আলোচনার জন্য প্রায় ৩০-৩১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনার শেষে রাষ্ট্রপতির সামগ্রিক নির্দেশনায় সরকার ছয় সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করে। সার্চ কমিটির গঠন নিয়ে বিএনপি জোর আপত্তি তোলে। তারা অভিযোগ করে যে গঠিত কমিটির পাঁচজন সদস্য শাসকদলের প্রতি অনুগত; সে কারণে তাঁরা তাঁদের মূল পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মাত্র একজন সদস্য নিজ যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ পদে বহাল রয়েছেন, তবে মতাদর্শের দিক থেকে শাসকদলের প্রতি তাঁর মৃদু ঝোঁক রয়েছে। এতদ্সত্ত্বেও সার্চ কমিটি যখন তাদের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করল ও এক ডজন ব্যক্তিকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাল তখন বিএনপি এ কমিটির কর্মপদ্ধতির প্রতি সায় দিয়ে নিজ দল থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সম্ভাব্য নির্বাচন কমিশনারদের একটি তালিকা সার্চ কমিটির কাছে পেশ করল। কমিটি পরবর্তীকালে আরো পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিককে আমন্ত্রণ জানায়; তাঁদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অর্থসংক্রান্ত মামলা থাকায় তিনি আলোচনায় অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বাকি চারজনের সঙ্গে কমিটি আলোচনা করে।

কমিটির কাছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মোট ১২৮ জন ব্যক্তির নাম পাঠায়। কমিটি অতি দ্রুততার সঙ্গে জানিয়ে দেয় যে তারা ১২৮ জনের মধ্য থেকে ২০ জনকে নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা (Short List) প্রস্তুত করেছে। অর্থাৎ বাকি ১০৮ ব্যক্তিকে সরাসরি বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই হুলস্থূল মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক দল বা সুধীসমাজের কোনো অংশ প্রশ্ন তোলেনি যে কী অযোগ্যতার কারণে ১০৮ ব্যক্তিকে এত দ্রুত সরাসরি বাদ দেওয়া হলো। বিভিন্ন দল যেহেতু তাদের মতো করে বাছাইকৃত ব্যক্তিদের নাম পাঠিয়েছে, সুতরাং তাঁদের অনেকেরই কিছু না কিছু যোগ্যতা রয়েছে। যোগ্যতা-অযোগ্যতার মাপকাঠি (Criteria) স্বচ্ছভাবে প্রকাশ না করে ১০৮ ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ততম সময়ে সংক্ষিপ্ত তালিকা (Short List) প্রস্তুত করা কত দূর যুক্তিসংগত হয়েছে তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। এ পর্যালোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে সব সার্চ কমিটির জন্য ন্যায়ানুগভাবে কর্ম সম্পাদনে বিশেষ সহায়ক হবে। সার্চ কমিটির বিরুদ্ধে অপ্রসিদ্ধ বা অপরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠন করার ব্যাপারে যে অভিযোগ উঠেছে, সুধীসমাজের প্রত্যাশা যেভাবে হতাশায় পরিণত হয়েছে, তার একটি বড় কারণ হচ্ছে কোনো ধরনের যৌক্তিক তথ্য প্রকাশ না করে ১০৮ ব্যক্তিকে, যাঁদের মধ্যে অনেকে নিশ্চয় প্রসিদ্ধ ছিলেন, বাদ দেওয়া।

যেসব বিশ্লেষক সার্চ কমিটিকে ব্যর্থ বলেছেন তাঁদের মূল বক্তব্য হচ্ছে, দেশে এমন অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের ব্যক্তিত্বের উঁচুমান ও দক্ষতা সর্বজনবিদিত। কোনো খোঁড়া অজুহাতে তাঁদের বাদ দিয়ে গড়মানের অখ্যাত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়ার পেছনে গূঢ় রহস্য কিংবা অদৃশ্য শক্তির প্রভাব আছে বলে সমালোচনাকারী বিশ্লেষকরা মনে করেন। সাধারণত জাতীয় পর্যায়ের কোনো পুরস্কারের জন্য যখন প্রার্থী নির্বাচন (Selection) করা  হয় তখন একটি প্রশ্ন প্রায়ই উত্থাপন করা হয়। তা হচ্ছে, যাঁর নাম পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে তাঁকে একডাকে সবাই চেনে কি না। এর অর্থ হচ্ছে, যিনি জাতীয় পুরস্কার পাবেন তাঁর কৃতিত্ব ও পরিচিতি আগেভাগেই দেশের মধ্যে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়া উচিত যে তাঁর নাম পুরস্কারের জন্য ঘোষিত হলে সবাই যেন একে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে। কেউ যাতে বিস্মিত হয়ে বিরূপ সমালোচনা না করে। এসব পুরস্কারের জন্য উঁচুমানের খ্যাতিমান লোকের অভাব হয় না। অখ্যাত, অপরিচিত, শূন্য কিংবা নগণ্য কৃতিত্বের লোককে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হলে নাগরিক সমাজ হতাশ হয়। তারা এর বিরূপ সমালোচনা করে এবং পুরো ব্যাপারটিতে সন্দেহ প্রকাশ করে। একই ব্যাপার ঘটেছে সার্চ কমিটির নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করা হবে কি হবে না সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণরূপে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের। সার্চ কমিটির আঙ্গিক ও কমিটি কাদের নিয়ে গঠিত হবে সে সিদ্ধান্তও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নেবে। একবার কমিটি গঠিত হয়ে গেলে প্রতি পদের জন্য এক বা একাধিক প্রার্থী বাছাই করার দায়িত্ব ও ক্ষমতা সার্চ কমিটির। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সার্চ কমিটি বাছাইকৃত যেসব ব্যক্তির নাম উপস্থাপন করবে, তাদের মধ্য থেকেই কাউকে নিয়োগ দেওয়া নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জন্য নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। কমিটি কর্তৃক বাছাইকৃত ব্যক্তি (বর্গ)কে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিয়োগদান অনৈতিক কাজ হিসেবে বিবেচিত। সাধারণত নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তেমন কাজ করে না। তারা বড়জোর বাছাইকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোত্কৃষ্ট ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নিম্ন ক্রমমানের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়। এটি তাদের রুচি ও কৌশলের ওপর নির্ভর করে। বাছাইকৃত ব্যক্তিবর্গকে বাদ দিয়ে বাইরে থেকে নিজেদের পছন্দমাফিক লোক নিয়োগ করলে নাগরিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পদাসীন ব্যক্তি ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের ওপর জনসাধারণের কোনো আস্থা থাকে না। হতাশা ও ক্ষোভ সময়বিশেষে গণরোষে পরিণত হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের জন্য তা বড় রকমের অস্বস্তি ও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সামান্য কিছু আইনগত সীমাবদ্ধতার (Constraint) মধ্যে কাজ করলেও সার্চ কমিটি সাধারণভাবে তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্তক্রমে বাছাইপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। শুধু বাংলাদেশে নয়, এ রীতি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কমিটি ইচ্ছা করলে সমর্থকদের কাছ থেকে নিয়োগোপযোগী সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নাম আহ্বান করতে পারে, আবার নিবন্ধিত অথবা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তি কিংবা সুপ্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংগঠনের কাছ থেকে নাম সংগ্রহ করতে পারে। বিকল্প ব্যবস্থায় কারো কাছ থেকে নাম সংগ্রহ না করে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করেও পদায়নের জন্য লোক বাছাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। একাধিক কমিটিতে কাজ করে আমার অভিজ্ঞতা হয়েছে যে এত দিন পর্যন্ত সার্চ কমিটিগুলো সর্বশেষ প্রক্রিয়া অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে উদ্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাছাই করেছে। ব্যতিক্রমী দু-একটি কমিটিতে সদস্যদের মধ্য থেকে গালাবদ্ধ খামে নাম সংগ্রহ করে বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বিভিন্ন সংগঠন থেকে নাম সংগ্রহ করে, নাগরিক সমাজকে আংশিক অবহিত করে নিয়োগযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিশনে পাঁচজন ব্যক্তিকে নিয়োগের জন্য যে ১০ জন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, তাঁদের তালিকাও শেষ পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছে। সেদিক থেকে পূর্বতন পদ্ধতি বা অন্যান্য সার্চ কমিটির তুলনায় নির্বাচন কমিশনের জন্য গঠিত সর্বশেষ সার্চ কমিটি অধিকতর অংশগ্রহণকর্মী পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। সংক্ষিপ্ত তালিকা ও চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতির জন্য কমিটি কী মানদণ্ড (Criteria) ব্যবহার করেছে তা প্রকাশ করা হলে প্রক্রিয়াটি যথার্থই স্বচ্ছ ও ন্যায়ানুগ হয়েছে বলা যেত। উল্লেখ্য, সে ক্ষেত্রে অনুসৃত মানদণ্ড যৌক্তিক ও ন্যায়ভিত্তিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে আরো ভালো হতো। একবার ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে সুপারিশমালা কঠোরভাবে সে মানদণ্ডের নিরিখে বিচার্য হবে। ব্যতিক্রম বা বিচ্যুতি রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে শুধু জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হতে পারে।

নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছাধীন (Discretionary) ক্ষমতা প্রয়োগের মধ্যে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া থেকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। এখন পর্যন্ত একমাত্র নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে; যদিও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসব কমিশন গঠন করার দাবি প্রায় সর্বমহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছিল, বিগত সরকারগুলো সংবিধানের অজুহাত দিয়ে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া সম্পূর্ণ রূপে নিজেদের ইচ্ছানুসারে যাকে খুশি তাকে নিয়োগ দিয়ে এসব কমিশন গঠন করেছে। নির্বাচন কমিশন ছাড়া আর সব সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ পদ এখনো সেভাবে পূরণ করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে যে সাংবিধানিক অনুশাসন অতি সাধারণভাবে উল্লেখ করা আছে তা যথোপযুক্ত লোক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারছে না। আইন ও বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে যোগ্যতাগুলো আরো বিশদভাবে বিধৃত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

উচ্চপদে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্বে যে কটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে তা হলো ১. নির্বাচনের মাধ্যমে; ২. উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় লিখিত, মৌখিক ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে; ৩. অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটির মাধ্যমে; ৪. কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়া নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এবং ৫. সংগঠনের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পদোন্নতির মাধ্যমে। যে পদ্ধতিই অনুসরণ করা হোক না কেন, তার প্রক্রিয়া ও মাপকাঠিগুলো যেন যৌক্তিক, ন্যায়ানুগ ও দুর্নীতিমুক্ত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগপদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য আমার কয়েকটি দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল। উন্নত বিশ্বের কর্মকমিশন বা সমমানের সংস্থার পদস্থ ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন যে সরকার বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে লোক নিয়োগ করতে পারে; সে ব্যাপারে কর্মকমিশনের বিশেষ কিছু বলার নেই। তবে কর্মকমিশনকে নিশ্চিত করতে হয় যে নির্ধারিত পদ্ধতির বিকৃতি বা বিচ্যুতি ঘটিয়ে যেন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়। সিদ্ধান্ত তো নয়ই।

বাংলাদেশের জনগণ উচ্চপদে নিয়োগের জন্য গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি প্রণয়ন ও তা অনুসরণের পক্ষে সোচ্চার। অতীতের কোনো সরকার এ দাবি শুনতে আগ্রহী ছিল না। বর্তমান সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আংশিক হলেও এ দাবি মেনে নিয়েছে। শাসকদল একটি পদ্ধতি নির্মাণ করে তাদের পছন্দকে যানবহুল জনাকীর্ণ আঁকাবাঁকা পথে চালিয়ে নিয়ে অবশেষে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিয়েছে। এটি তাদের উন্নততর কৌশল ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার ইঙ্গিত বহন করে। এই সাফল্যের ওপর ভর করে আশা করি, অন্যান্য উচ্চপদে নিয়োগের জন্য তারা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নির্মাণ ও পদ্ধতিগত শুদ্ধতার ওপর যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করবে। নাগরিক সমাজের উচিত হবে এ দাবিতে নিরন্তর সোচ্চার ও তৎপর থাকা।

     

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান


মন্তব্য