kalerkantho


সাদাকালো

একুশের মাসতামামি ও সীমাহীন উদাসীনতার কথা

আহমদ রফিক

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



একুশের মাসতামামি ও সীমাহীন উদাসীনতার কথা

বাংলাদেশি বাঙালির জন্য দামামা বাজানো একটি মাস ফেব্রুয়ারি। দেশব্যাপী এ বাজনা কতটা বাজে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, যদিও সংস্কৃতিমনস্ক শহরগুলোর কথা আলাদা, তেমনি রাজধানী ঢাকা মহানগর।

ঢাকা একুশের দামামা বাজানোর কাজটা বায়ান্নর ফেব্রুয়ারিতে শুরু করেছিল, তারপর তার বিস্তার দেশের অন্যত্র। ছয় দশক পরও তাই নিয়ে আড়ম্বর সেই ঢাকাতেই।

এ সমারোহের বড় দিকে রয়েছে বাংলা একাডেমিকে ঘিরে ‘মহান একুশের অনুষ্ঠানমালা’; অর্থাৎ প্রবন্ধপাঠ-আলোচনা ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বইমেলা। বই কিনি বা না কিনি বইমেলায় বেড়াতে যাওয়া হয়ে ওঠে বিনোদনের একটি অংশ। পরিবারপ্রধানকে শিশুর হাত ধরে বইমেলায় আসতে দেখা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি সংস্কৃতিমনস্ক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় একুশে উপলক্ষে ভাষাবিষয়ক অনুষ্ঠান, অর্থাৎ আলোচনা সভা, গান ইত্যাদি।

এভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। এটি ঐতিহ্যবিচারে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

কিন্তু বাস্তবে সবটাই কি ইতিবাচক ও সদর্থক? আজই প্রথম এ প্রশ্ন উঠে আসছে এমন নয়। কারণ বছরের ১১ মাস ভাষার প্রসঙ্গে ঘুমে কাটিয়ে আমরা ফেব্রুয়ারি এলেই জেগে উঠি এবং নানামাত্রিক আবেগে ভাষিক প্রেমের প্রকাশ ঘটাই, যার অনেকটাই ওপরস্তরীয়।

ভাষা আন্দোলন, বিশেষত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মর্মবস্তু বা ‘একুশের চেতনা’ নামে পরিচিত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপাদান ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনা, ভাষিক জাতীয়তার চেতনা, প্রগতিশীল সাহিত্য-সংস্কৃতি চেতনা। অবশ্য মূল বিষয়টি ছিল রাজনৈতিক, অর্থাৎ পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি। এ দাবি পাকিস্তান আমলে কাগজে-কলমে পূরণ হয় ১৯৫৬ সালে রচিত প্রথম সংবিধানে, পরে ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে। কিন্তু মূল সমস্যা থেকেই যায়। তাই স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে, বিশেষত উচ্চশিক্ষা থেকে উচ্চ আদালতে যথারীতি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রভাষা ইংরেজিই থেকে যায়। বাংলা শুধু রাষ্ট্রীয় সংবিধানেই তার অধিকার বজায় রাখে। সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, অর্থাৎ এককথায় জীবিকার সঙ্গে রাষ্ট্রভাষা বাংলার কোনো সংযোগ তৈরি হয়নি; তাই বাংলা রাষ্ট্রভাষা সমাজবাস্তবতায় গুরুত্বহীন-মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

শুধু তা-ই নয়, একুশের মূল চেতনা, তার আদর্শিক মূল্যবোধ ব্যক্তি-পরিবার ও সমাজ থেকে ক্রমেই হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। একই অবস্থা সেক্যুলার জাতীয়তাবোধের। সাম্প্রদায়িক চেতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এর সর্বোচ্চ প্রকাশ ধর্মীয় জঙ্গিবাদী সহিংসতায়। এদের কর্মকাণ্ডের তুল্য বর্বরতার ব্যাপক পরিচয় একমাত্র একাত্তরে দেখা গেছে, যা বিদেশের পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে।

 

দুই.

রক্তস্নানে ভূমিষ্ঠ বাংলাদেশ তার লড়াইয়ের যুগে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির প্রতি অবিশ্বাস্য মমতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। লক্ষ্য অর্জনের পর কিছু সময় সে প্রভাব বজায় ছিল। তারপর রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিভাজনের মধ্য দিয়ে বাঙালিসমাজের একাংশ পেছন ফিরে তাকাতে শুরু করেছে। সেই ধারায় একুশের চেতনায়ও পিছুটান ও বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা-উদাসীনতা নিত্যদিনের বিষয় ও নানামাত্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণ ঔপনিবেশিক রাজভাষার আগ্রাসী প্রভাব।

সতর্ক দৃষ্টিতে তাকালে এই নেতিবাচক মানসিকতার আলামত চোখে পড়ে। রাস্তায় বের হয়ে দুদিকে তাকালে চোখে পড়বে সাইনবোর্ডগুলোতে বিস্তর বানান ভুল। বিশ্বরোডের এক মাথায় দেখেছি এক সরণি শব্দের তিন রকম বানানে ভুল। বিজ্ঞাপনে অপেক্ষাকৃত কম, ক্বচিৎ টেলিভিশনের পর্দায় ভুল বানান।

এ ছাড়া রাজপথের দুই ধারে ইংরেজি সাইনবোর্ডের সমারোহ, যা সামান্যই দেখা গেছে ১৯৬৯ সাল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে বছরকয়েক। এর পরই ভোল বদল। বেশ কিছুদিন থেকে দেখা যাচ্ছে বাংলা নামবাচক শব্দ এবার ইংরেজি হরফে লেখা, যেমন rajanigandha, বহু উদাহরণের একটি। একই অবস্থা আবাসনে, তেমনি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে। বাঙালিয়ানার একদা-জোয়ার এখন ভোল পাল্টেছে।

তাই দোকানের নাম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম থেকে শুরু করে বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পর্যন্ত ইদানীং ইংরেজিতে লেখা হচ্ছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এর বসতি উচ্চ-মধ্য শ্রেণি থেকে বিত্তবান শ্রেণিতে। কিন্তু এর প্রভাব পড়ছে অধস্তন শ্রেণিতে, মূলত ব্যবসা সূত্রের নামকরণে। এর একটা উদ্ভট উদাহরণ : ‘দি ঢাকা মুলী বাঁশ এজেন্সি’।

এই ভাষিক দুর্দশার ভিন্নমাত্রিক প্রকাশ টেলিভিশনের টক শোতে, যেখানে বক্তাদের বিতর্কে ইংরেজি-বাংলার মিশ্র বিদঘুটে মুক্তধারার ভাষিক ব্যবহার। এর মর্মান্তিক রূপ বেশ কয়েকটি এফএম বেতারের কর্মকাণ্ডে; অর্থাৎ নানামাত্রিক অনুষ্ঠানের ভাষা ব্যবহারে দেখা গেছে, যা নিয়ে সমালোচনা বিস্তর দেখা যায়, কিন্তু ভবী ভোলে না, সরকারও নড়েচড়ে বসে না। এসব অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন হচ্ছে না, তেমনি এজাতীয় অনাচারের কেন্দ্রগুলোর ওপর কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

বলতে হয়, বাংলা ভাষা ব্যবহারের নানা দিকে একধরনের নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মাতৃভাষা ঘরের ভাষা ও মুখের ভাষা বলেই কি এর প্রতি এত অবহেলা? সেখানে ভালোভাবে শেখা, বলা, লেখা—কোনোটাই গুরুত্ব পায় না, অগ্রাধিকার তো দূরের কথা। অবশ্য শিক্ষা ক্ষেত্রে অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ইংরেজিও যে ভালোভাবে শেখা হচ্ছে তা নয়। সৃজনশীলতার টানে শিক্ষাব্যবস্থাও অদ্ভুত রকম বেহাল। এর প্রভাব পড়ছে বাংলার ওপরও।

তিন.

ভাষাবিষয়ক এমন এক সার্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুকাল থেকে মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে অনেককেই উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে, লেখালেখিও চলছে। কিন্তু তাতে কোনো ধরনের সুফল মিলছে না। বরং অবস্থার অবনতিই ঘটছে বলা যায়। এ বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের একুশে নিয়ে ও ভাষার নির্ভুল ব্যবহারের বিষয় নিয়ে একাধিকজনের লেখায় উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ও শঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।

সব লেখাতেই একই সুর। মাতৃভাষা বলে বাংলা তো জানাই আছে। এমন ভুল ধারণার প্রকাশ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও লক্ষণীয়। অথচ স্বদেশি-বিদেশি যে ভাষাই হোক, তা ভালোভাবে শিখতে কিছু পরিমাণে তো বটেই, শিক্ষার সর্বস্তরেই কিছু মাত্রায় মেধা, শ্রম, যত্ন ও সময় ব্যয় করা দরকার, না হলে ভবী মিলবে না। কিন্তু এদিকে মনোযোগের বদলে অবহেলাই প্রকট।

‘রাষ্ট্রভাষার প্রতি অবহেলা’, ‘ইংরেজির দাপটে বাংলার অপব্যবহার’ ইত্যাদি শিরোনামে বেশ কিছুসংখ্যক নিবন্ধ এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি, বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরের প্রতিবাদেরও একই রকম পরিণতি ঘটবে। একুশের মাসতামামিতে আক্ষেপ, ক্ষোভ, প্রতিবাদ—সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তী ১১ মাস এ বিষয়ের দুশ্চিন্তা নিপাট ঘুমে শেষ হয়ে যাবে।

এ তো গেল ভাষা ব্যবহারের অবস্থা নিয়ে পাঁচকাহন। শহীদ দিবসে আমাদের আচরণে অনুরূপ অবস্থায়ই লক্ষ করা যাচ্ছে, বিশেষ করে একুশে উদ্‌যাপনে। তাতে একুশের প্রতি, শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননার প্রকাশ ঘটছে। দৈনিকের শিরোনামে : ‘জুতা পায়ে শহীদ মিনারে! ব্যস্ততা সেলফি ও আড্ডায়। ’ শুধু শহীদ দিবস পালন উপলক্ষেই নয়, অন্য সময়ও দেখা যায় শহীদ মিনারে ও শহীদদের প্রতি একই রকম অবমাননাকর আচরণ। এতে যে মানসিকতার পরিচয়, তা মোটেই ভাষাপ্রীতির নয়। এমন ঘটনা শুধু নারায়ণগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও বা অনুরূপ একাধিক স্থানে দেখা যাচ্ছে তা-ই নয়, অন্যত্র এমনকি খোদ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও চলছে নানামাত্রিক অনাচার। এক দিন সকাল ও সন্ধ্যার অভিজ্ঞতা বুঝিয়ে দিয়েছে শহীদ দিবস ও শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় আমরা কতটা উদাসীন।

ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যথাযথ নিয়মে পবিত্রতা রক্ষার কোনো দায়দায়িত্ব আমাদের কারো নেই। শহীদ মিনারের মূল চত্বরে দেখা যায় কুকুর নির্বিবাদে ঘুমোচ্ছে, কিছু বেকার মানুষ শুয়ে-বসে সেখানে আড্ডা দিচ্ছে। একপাশে বেশ কিছু পরিমাণ ময়লা পানি থই থই করছে। সিঁড়ির নিচে চত্বরে বাদাম ভাজাসহ বিচিত্র রকম বিকিকিনি চলছে। বাদামের খোসা শহীদ মিনার চত্বরের সর্বত্র ছড়ানো। একাধিক প্রতিবেদনে ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় জানা যায়, শহীদ মিনার চত্বরে রাতের অনাচার আরো উত্কট, রীতিমতো আপত্তিকর। ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কেউ নেই, কোনো কর্তৃপক্ষ নেই।

শহীদ মিনারের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য জায়গাটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখার প্রস্তাব একাধিকবার করা হয়েছিল, কিন্তু সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের পরিকল্পনার সুবাদে সে প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। এদিকে শহীদ মিনার একরাশ আবর্জনা বুকে ধরে, মনে হয় বেশ আছে। সহসা এ ন্যক্কারজনক অবস্থার পরিবর্তন বা অবসান ঘটবে বলে মনে হয় না।

শহীদ দিবস ও একুশের ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়টিও একই রকম বেহাল পড়ে আছে। স্মৃতি-ঐতিহ্য সবই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ‘অযত্ন-অবহেলায় ঐতিহাসিক সেই আমতলা’ দৈনিকের এমন শিরোনামেই তা প্রকাশ পায়। আমতলা অনেক দিন থেকেই অদৃশ্য। সেখানে ইমার্জেন্সি হাসপাতালের গায়ে গায়ে ঠাসা ভবন। কোথায় যে আমতলা, কোথায় বেলতলা, কোথায় মধুর ক্যান্টিন, তা শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

আর ঐতিহাসিক একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে ১০ জনের মিছিলে ১৪৪ ধারা ভেঙে প্রতিবাদী ছাত্রদের স্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যাওয়ার ফটকটি এখন বন্ধ। ভেতর দিকে ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদি, বাইরের দিকে ভ্যানগাড়িতে ঠাসা ফলের দোকান ও বিকিকিনির সার্বক্ষণিক ভিড়ে বন্ধ ফটকের কাছে যাওয়ারও উপায় নেই। এমন দুরবস্থা ঐতিহাসিক ঘটনার। সে অবস্থা নিরসনের সচেতনতা কারো নেই। মেডিক্যাল হোস্টেল প্রাঙ্গণে পুলিশের গুলিবর্ষণবিষয়ক স্মৃতিচিহ্ন তো সবই বিলুপ্ত। কেউ বলতে পারবে না ঠিক কোন জায়গাটিতে ঢাকার প্রথম শহীদ মিনার (শহীদ স্মৃতি স্তম্ভটি) তৈরি হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সবাই বিদায় হয়ে গেলে কেউ বলতেও পারবে না কোন কোন জায়গায় রফিক-জব্বার-বরকত গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদৎ বরণ করেছিলেন। একটি করে স্মৃতিফলকও কি সেসব জায়গায় স্থাপন করা যায় না?

না, একুশের ঐতিহ্য রক্ষার এসব কাজে কারো কোনো দায়বদ্ধতা নেই। হাইকোর্টের নির্দেশও কেন জানি এসব ক্ষেত্রে কাজে আসে না। একুশে নিয়ে এমনই অবহেলা এ বছরও যথারীতি চলেছে। প্রশ্নগুলো এ বছর ফেব্রুয়ারিতে একটু বেশি করেই উচ্চারিত হয়েছে। তবে আমার মনে হয়, একুশের জন্য বিপজ্জনক অবস্থা নতুন প্রজন্মে এ সম্পর্কে চরম অজ্ঞতা।

একটি সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ যে ‘দিঘলিয়ার ৫ম শ্রেণির ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী একুশের ছুটির কারণ জানে না। ’ অবস্থা এতটা খারাপ না হলেও দেশের অন্যত্র শিশু-কিশোর অনেকেরই একুশের আন্দোলন, শহীদ দিবস ও শহীদ মিনার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই, ঘটনা জানা তো দূরের কথা। রাজধানী মহানগরের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। বিশেষ করে তরুণ ছাত্রছাত্রীদের অজ্ঞতা দুঃখজনক। সমাজের অভিভাবকরা, শাসকরা এসব বিষয়ে কতটা অবহিত, তা আমাদের জানা নেই।

একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের মাসতামামির কিছু পার্শ্বঘটনা গোটা ফেব্রুয়ারি পরিস্থিতির যথেষ্ট আভাস দেয়। জানিয়ে দেয় আমাদের স্বাধীন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদি প্রেক্ষাপট নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আমাদের অজ্ঞতা, অসচেতনতা, দায়বদ্ধতার অবহেলা-উদাসীনতা কোন পর্যায়ে। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে দায়িত্ববান কেউ কি এগিয়ে আসবেন না? আসবে না সমাজের সচেতন অংশ, বিশেষ করে আদর্শনিষ্ঠ তরুণ প্রজন্ম?

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী


মন্তব্য