kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

ইউসুফ (আ.)-এর ঐতিহাসিক ক্ষমা

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইউসুফ (আ.)-এর ঐতিহাসিক ক্ষমা

৯১. তারা [ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা] বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ নিশ্চয়ই তোমাকে আমাদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এবং আমরা নিশ্চয়ই অপরাধী ছিলাম।

৯২. সে [ইউসুফ (আ.)] বলল, আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন এবং তিনি শ্রেষ্ঠতম দয়ালু। [সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৯১-৯২)

তাফসির : হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সৌহার্দ্যপূর্ণ বক্তব্য শুনে বৈমাত্রেয় ভাইয়েরা যারপরনাই লজ্জিত হলো। তারা নিজেদের অপরাধী স্বীকার করে নেয়। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়া এবং তাঁকে সম্মান প্রদর্শন না করারও কোনো বিকল্প উপায় ছিল না। ফলে একযোগে ভাইয়েরা বলে উঠল, আল্লাহর কসম, তিনিই তোমাকে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দিয়েছেন। ঈর্ষণীয় এই মর্যাদা ও রাষ্ট্রের শীর্ষ অবস্থানে তোমাকেই মানায়, তুমি এরই যোগ্য ছিলে। আমরা তোমার সঙ্গে অপরাধ করেছি। এ নিয়ে আমরা লজ্জিত। আমাদের কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

ভাইদের মুখে এমন কথাবার্তা শুনে ইউসুফ (আ.) নবুয়তি গাম্ভীর্যের সঙ্গে বলেন, তোমাদের কৃত অত্যাচারের প্রতিশোধ নেওয়া দূরে থাকুক, এ ধরনের কল্পনাও আমার মধ্যে নেই। তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। এ কথা বলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভাইদের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ, তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। তুমিই সবচেয়ে বড় দয়ালু।

এর আগে ইউসুফ (আ.) তাঁর ভাইদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, তোমরা আমার সঙ্গে যে অত্যাচার করেছিলে, তা করার সময় তোমরা মূর্খ ছিলে। এ কথা তখন তিনি কেন বলেছেন, এ বিষয়ে আলেমদের অভিমত হলো, মানুষ পাপ করে মূর্খতার কারণে। অন্তত গুনাহের কাজটি সম্পন্ন করার সময় সংশ্লিষ্ট গুনাহগার প্রকৃত অর্থেই মূর্খ বনে যায়। আলেমরা প্রমাণ হিসেবে ইউসুফ (আ.)-এর এ বক্তব্য এবং কোরআন ও হাদিসের আরো অনেক উদ্ধৃতি উল্লেখ করে থাকেন। ইউসুফ (আ.) শৈশবে অত্যাচারিত হওয়ার সময় থেকেই ভাইদের এই মূর্খতার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই কখনো তিনি ভাইদের বিরুদ্ধে কোনো বদদোয়া করেননি। তাদের সঙ্গে প্রতিশোধমূলক আচরণ করেননি। আসলে আল্লাহ তাআলা যাঁকে নবী হিসেবে কবুল করেছেন, অসংখ্য পথহারা মানুষের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, সেই মহান নবী এমনই সুন্দর ও উজ্জ্বল চরিত্রের ব্যক্তিত্ব হবেন—সেটাই স্বাভাবিক।

এটাই নবী-রাসুলদের শিক্ষা। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও মক্কা বিজয়ের দিনকে শান্তি ও রহমতের দিন আখ্যায়িত করে সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। বর্ণিত হয়েছে, মহানবী (সা.) সেদিন বলেছেন, ‘হে কোরাইশরা, তোমাদের কী ধারণা, আমি তোমাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করব? তারা সবাই বলল, আপনি আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন—এটাই আমাদের ধারণা। আপনি দয়ালু। দয়ালু ভাইয়ের পুত্র। এরপর তিনি বলেন, তাহলে আমি তোমাদের সেই কথাই বলছি, যে কথা হজরত ইউসুফ (আ.) তাঁর ভাইদের বলেছিলেন—লা তাছরিবা আলাইকুমুল ইয়াওমা—আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত। ’ (আর রহিকুল মাখতুম)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য