kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো

দারিদ্র্যের কারণে অনেক সময় আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দারিদ্র্যের কারণে অনেক সময় আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়

৮৮. তারা যখন ইউসুফের কাছে উপস্থিত হলো, তখন বলল, হে আজিজ! আমরা ও আমাদের পরিবার-পরিজন বিপন্ন হয়ে পড়েছি এবং আমরা (খাদ্য ক্রয়ের জন্য) সামান্য মূল্য সঙ্গে এনেছি। আপনি আমাদের রসদ পূর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদের দান করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ দাতাদের পুরস্কৃত করে থাকেন। (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৮)

তাফসির : আল্লাহর রহমতের আশা করে ইয়াকুব (আ.) তাঁর পুত্রদের আবার মিসরে পাঠিয়েছেন। তৃতীয়বার মিসরে গিয়ে তারা ইউসুফ (আ.)-কে বলল, হে আজিজে মিসর! আমরা দুর্ভিক্ষের কারণে ভীষণভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছি। খাদ্য ও রসদ কেনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সামান্য কিছু অর্থকড়ি সঙ্গে নিয়ে এসেছি। তারা আবদার করে, প্রথমবার যেমন আমাদের পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল, এবারও যেন অনুগ্রহ করে পুরো বা আংশিক অর্থমূল্য মাফ করে দেওয়া হয়।

অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে অনেক সময় মানুষের আত্মমর্যাদা ও অহংকার চূর্ণ হয়ে যায়। ইউসুফ (আ.)-এর বৈমাত্রেয় ভাইদের ঘটনা তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একসময় তাদের খুব অহংকার ছিল।

তারা দম্ভভরে বলত, আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অর্থ উপার্জনে সক্ষম। কিন্তু দেখা গেল, পরে খাদ্য পাওয়ার জন্য তারা অনুনয়-বিনয় করতে বাধ্য হয়েছে।

ইয়াকুব (আ.)-কে আল্লাহ তাআলা কেন এই অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি করেছিলেন, এর বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে। ইমাম কুরতুবি (রহ.) এ বিষয়ে একটি ঘটনা লিখেছেন—এক রাতে ইয়াকুব (আ.) তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করছিলেন। তাঁর সামনে তখন ঘুমন্ত ছিল শিশুপুত্র ইউসুফ। হঠাৎ সন্তানের নাক ডাকার শব্দ শুনে তাঁর মনোযোগ সেদিকে নিবদ্ধ হয়ে যায়। এভাবে তিনবার একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের ডেকে বলেন, দেখো, আমার নির্বাচিত বান্দা আমার সঙ্গে কথা বলার মাঝখানে অন্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তার এ আচরণ অবশ্যই শাস্তিযোগ্য। আমি তার চোখ দুটি নষ্ট করে দেব, যা দিয়ে সে অন্যের দিকে তাকিয়েছে এবং যে সন্তানের দিকে সে মনোযোগী হয়েছে, আমি তাকে দীর্ঘকালের জন্য বিচ্ছিন্ন করে দেব। তবে হ্যাঁ, এ ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ইয়াকুব (আ.) মিসরের বাদশাহ বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ‘ইয়াকুব শফিউল্লাহ ইবনে ইসহাক জবিহুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম খলিলুল্লাহর পক্ষ থেকে মিসরের আজিজ বরাবর বিনীত আবেদন, বিপদাপদের মাধ্যমে পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়া আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। নমরুদের আগুনে আমার পিতামহ ইবরাহিম খলিলুল্লাহর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পিতা ইসহাকেরও কঠোর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সর্বাধিক প্রিয় এক পুত্রের মাধ্যমে আমারও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তার বিরহ-ব্যথায় আমার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছে। তার এক ছোট ভাই ছিল। সে ছিল সান্ত্বনার একমাত্র সম্বল, যাকে আপনি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছেন। আমরা নবী-রাসুলদের সন্তান। আমরা চোর নই। আমাদের সন্তানদের মধ্যেও কেউ চোর হয়ে জন্ম নেয়নি। ওয়াস সালাম। ’

চিঠি পাঠ করে ইউসুফ (আ.) কেঁপে ওঠেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন। (মা’আরেফুল কোরআন)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য