kalerkantho


ট্রাম্প থেকে মুক্তি আদৌ মিলবে! কোন পথে?

নিকোলাস ক্রিসটফ

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ট্রাম্প থেকে মুক্তি আদৌ মিলবে! কোন পথে?

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সবে এক মাস গড়িয়েছে এবং এরই মধ্যে অনেকে ভাবতে লেগেছে, এর শেষ কিভাবে করা যায়? পাবলিক পলিসি পোলিংয়ের এক জরিপ দেখিয়েছে যে ৪৬ শতাংশ আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট চায়। বাজির ওয়েবসাইটগুলো এর মধ্যেই বাজিখেলার বিষয় করে ফেলেছে ট্রাম্পকে।

ল্যাডব্রোকস বাজির অফার ছুড়ে দিয়ে বলেছে, ট্রাম্প মেয়াদের আগেই পদত্যাগ করবেন, অথবা অফিস ছাড়বেন। স্কাই বেট আরো বহুদূর এগিয়েছে! সাইটটির বাজি হচ্ছে, এই জুলাইয়ের মধ্যে ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ছেন; পক্ষে-বিপক্ষে ডলার ধরুন। গবেষণা সাইট নেক্সিস বলছে, গেল সপ্তাহে গণমাধ্যমে ট্রাম্প প্রসঙ্গের সঙ্গে ‘ওয়াটারগেট’ কথাটি এসেছে সহস্রাধিকবার। সিবিএস টেলিভিশনের সাবেক উপস্থাপক ড্যান র‌্যাদার, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঘটনা কভার করেছিলেন, তাঁর মত হচ্ছে, ট্রাম্পের রাশিয়া কেলেঙ্কারি এ মুহূর্তে ওয়াটারগেটে কেলেঙ্কারির সমান পর্যায়ে নেই, তবে সেই পর্যায়ে চলে যেতেও পারে।

এমনও হতে পারে এই ঝড় থেমে যাবে। কিন্তু উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রশাসন যেমন অকার্যকর এই সময় পর্যন্ত অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, নির্বাচনে কারচুপি করার লক্ষ্যে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর গাঁটছড়া বেঁধে থাকার সন্দেহটা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দাগ টেনে বললে ট্রাম্প দুই বিচারে বিপজ্জনক। প্রথমত, তিনি প্রেসিডেন্ট দপ্তরের জন্য অযোগ্য; দ্বিতীয়ত, তিনি বিপজ্জনক পর্যায়ের অস্থির চরিত্রের মানুষ। সেদিন বহির্বিশ্বের এক দেশের নেতার সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল; তিনি রীতিমতো একটা খিস্তি ব্যবহার করে বলেন, তোমাদের দেশে এসব কী হচ্ছে!

এখন কথা হচ্ছে, এ থেকে মুক্তির পথ কি আদৌ আছে?

ট্রাম্পের পক্ষে এখনো যথেষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন রয়ে গেছে।

সবচেয়ে পরিষ্কার ও দ্রুত উপায়ে কোনো প্রেসিডেন্টকে হটানোর উপায় হচ্ছে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর চতুর্থ সেকশনকে ব্যবহার করা; যা কখনোই অতীতে করা হয়নি। এর আওতায় মন্ত্রিপরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে একজন প্রেসিডেন্টের হাত থেকে তাত্ক্ষণিক সব ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে; এবং দায়িত্ব তুলে দিতে পারে ভাইস প্রেসিডেন্টের কাঁধে। এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিয়ে প্রতিবাদ করার অধিকার অবশ্য রাখেন। এই অচলাবস্থা দেখা দিলে সমাধান হচ্ছে কংগ্রেসের দুই চেম্বারেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে হটানোর সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করিয়ে নেবে; কিংবা প্রেসিডেন্ট নিজে পদত্যাগ করবেন।

সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে এই বিধান রাখার উদ্দেশ্য হচ্ছে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ব পালনে ‘অক্ষম’ হলে একটা কার্যকর সমাধানে উত্তরণ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন বিষয়ের অধ্যাপক লরেন্স ট্রাইবের কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম, এখানে ‘অক্ষম’ (আনএবল) বলতে দৈহিক অক্ষমতার সঙ্গে মানসিক অক্ষমতাও বোঝায় কি না; কিংবা নির্বাচন চুরি করার জন্য রাশিয়া বা আর কোনো দেশের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করলে অক্ষমতার অভিযোগ আনা যায় কি না। ট্রাইব জানালেন, এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের সেকশন ৪ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ট্রাইবের সন্দেহ হচ্ছে, ট্রাম্পের অদ্ভুতুড়ে মন্ত্রিপরিষদের মেরুদণ্ড কখনোই এতটা শক্ত নয়; যদিও এজাতীয় কোনো উদ্যোগের পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট হটাও আন্দোলনে ট্রাম্পের ভোটারদেরও সায় দেওয়ার কথা।

সমাধানের ভালো উপায়টি হচ্ছে ইমপিচমেন্ট। সমস্যা হচ্ছে এ মুহূর্তে হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দেবেন কিংবা সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ এজাতীয় পদক্ষেপে হ্যাঁ বলবেন, এ আমরা আশা করতে পারি না। এ ছাড়া ইমপিচমেন্ট ও সিনেটের ট্রায়াল শুরু হওয়া মানেই হচ্ছে তা কয়েক মাস ধরে চলবে; তখন মার্কিন প্রশাসন যেমন অচল হয়ে পড়বে; ট্রাম্পের এক আঙুল চলে যেতে পারে পরমাণু বোমার বোতামে।

অনেকেরই বিশ্বাস, ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনগুলো রিপাবলিকান দলের জন্য এত শোচনীয় পরাজয় ডেকে আনবে যে ট্রাম্প প্রসঙ্গে তাঁর দলেই আওয়াজ উঠবে, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। তবে এ নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। রাজনৈতিক মানচিত্র যদি দেখি, সিনেটে ২০১৮ সালের হিসাব-নিকাশ ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে নেই। মাত্র আটটি সিনেট আসনে রিপাবলিকানরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, ২৫টায় করবেন ডেমোক্র্যাটরা। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা রাগে-ক্ষোভে যতই দাঁত কিড়মিড় করুন, বল থাকবে রিপাবলিকানদেরই পায়ে, শুধু তাঁরাই চাইলে ট্রাম্পকে মাঠ থেকে হটাতে পারবেন। যতক্ষণ না দল ধ্বংসের মুখে পড়ছে ও জাতীয় বিপর্যয় নেমে আসছে—মনে হয় না রিপাবলিকানরা এই পথে হাঁটবে।

ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যারি সাবাটো আমাকে বলেছেন, রিপাবলিকানরা ক্যাবিনেটকে সঙ্গে নিয়ে কিংবা বাদ দিয়ে একটি কাজ করতে পারেন, যা তাঁরা করেছিলেন ১৯৭৪ সালে নিক্সনকে পদত্যাগে বাধ্য করতে।

ট্রাম্পেরও এমন একটা দুর্বলতা রয়েছে যার বিচারে তাঁকে নিক্সনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ওই সময় কংগ্রেসে থাকা রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে সরাতে আগ্রহী ছিলেন অনেকটা এ কারণে যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে তাঁরা দায়িত্বে দেখতে চাইছিলেন। বর্তমান সময়ের কংগ্রেসীয় রিপাবলিকানরাও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে বেশি পছন্দ করছেন।

বাজি ধরতে বাধ্য হলে আমি ট্রাম্পের চার বছর ক্ষমতায় থাকার পক্ষেই টিকিট নেব। সমস্যা হচ্ছে, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে অনেক হিসাবই শেষ পর্যন্ত মেলে না।

 

লেখক : খ্যাতিমান মার্কিন সাংবাদিক এই লেখাটি ছেপেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস


মন্তব্য