kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের আবার মিসর গমন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের আবার মিসর গমন

৮৭. [ইয়াকুব (আ.) বললেন] হে আমার পুত্ররা, তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহোদরের অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না। কারণ অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমত থেকে কেউ নিরাশ হয় না। [সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮৭ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, বিনিয়ামিনকে মিসরে আটক রাখার খবর হজরত ইয়াকুব (আ.)-কে অত্যন্ত দুঃখিত ও ভারাক্রান্ত করে তোলে। ভগ্নহৃদয়ে তিনি আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করেন। এ পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার হওয়ার জন্য তিনি আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।

ইয়াকুব (আ.) বিশ্বাস করতেন, মহান আল্লাহ ইউসুফকে এ পৃথিবীতেই একজন সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। এ জন্য তিনি পুত্রদের নির্দেশ দেন, তোমরা আবার মিসরে যাও এবং সেখানে ইউসুফকে অনুসন্ধান করো। পাশাপাশি বিনিয়ামিনের মুক্তির জন্য চেষ্টা করো। এরপর দুজনকে নিয়ে তোমরা আবার আমার কাছে ফিরে এসো। তিনি পুত্রদের এ কাজে উৎসাহিত করার জন্য আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামত ও রহমতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে কখনো হতাশ হতে নেই।

কারণ হতাশা ও নিরাশা কুফরের নিদর্শন। নবী-রাসুল ও অলি-আউলিয়া সব সময় মানুষকে আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী করতেন। পথভ্রষ্ট কাফের-মুশরিকরাই মানুষকে হতাশায় নিমজ্জিত করে। তাই যেকোনো কাজের ব্যাপারে মানুষকে উদ্যোগী হতে হবে, কর্ম ও চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই আল্লাহর সাহায্য পাওয়া যাবে।

হজরত ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর নবী ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, ইউসুফ কোথাও না কোথাও আছে। তার মৃত্যু হয়নি। হারানো সন্তান বা আপনজনের ক্ষেত্রে যে কেউ এমন ধারণা বা বিশ্বাস করতেই পারে। কিন্তু ইয়াকুব (আ.)-এর বিশ্বাসটি ছিল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের এবং তা কেবল নবী হওয়ার কারণেই। অন্যদিকে বিনিয়ামিন মিসরে আটক থাকার বিষয়টি তো নিশ্চিতই তিনি জানতেন। ফলে তিনি সন্তানদের নির্দেশ দেন, তোমরা গিয়ে ইউসুফ ও বিনিয়ামিনের সন্ধান করো। তালাশ করলে তোমরা তাদের সংবাদ পাবে। আল্লাহর রহমত অফুরন্ত। তাঁর রহমতের ক্ষেত্রে নিরাশ হওয়া মুসলমানের কাজ নয়।

প্রশ্ন হলো, দীর্ঘকাল ইয়াকুব (আ.) ইউসুফের সন্ধানে সন্তানদের কোনো নির্দেশ না দিয়ে হঠাৎ তিনি এ নির্দেশ কেন দিলেন? দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ নির্দেশ দিলে অনেক বেশি সম্ভাবনা ছিল যে তাকে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু তিনি তো তা করেননি। এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন তাফসিরের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিনিয়ামিন মিসরে আটক থাকার বিষয়টি ইয়াকুব (আ.) জানলেও ইউসুফের বিষয়টি একদম জানতেন না। তাই মিসরে গিয়ে ইউসুফকে খোঁজ করার বাহ্যিক কোনো কারণ ছিল না। এর পরও এ নির্দেশদানের প্রকৃত কারণ ছিল, মিসরের আজিজের যে ধরনের গুণাবলি তিনি সন্তানদের কাছ থেকে শুনেছিলেন, তাতে ইয়াকুব (আ.) মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে পড়েছিলেন, এমন গুণাবলিসম্পন্ন মানুষটিই হয়তো আমার সন্তান ইউসুফ!

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 


মন্তব্য