kalerkantho


মনের কোণে হীরে-মুক্তো

ভয়ংকর অপরাধীর সুরক্ষণে বয়সের ঢাল ও তার ঢালাও ব্যবহার

ড. সা’দত হুসাইন

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ভয়ংকর অপরাধীর সুরক্ষণে বয়সের ঢাল ও তার ঢালাও ব্যবহার

শিশু-কিশোররা আমাদের জীবনের আনন্দঘন সময়ের এক বিরাট অংশ দখল করে আছে। অনেকে শিশু-কিশোরকে ভবিষ্যতের সম্পদ, তাই বর্তমানের বিনিয়োগ মনে করে। আমি অবশ্য তাদের সেভাবে দেখতে চাই না। শিশু-কিশোররা আমাদের বর্তমানের সম্পদ, আমাদের আনন্দ-সুখের অক্ষয়-অমেয় উৎস। অর্থনীতিবিদরা শিশুর লালনপালনের বর্তমান খরচের বিপরীতে ভবিষ্যতে আয়ের বাট্টাকৃত (Discounted)  অংশের পরিমাণ তুলনা করে নানা রূপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারেন। সেটি তাঁদের পেশাগত অনুশীলনের ব্যাপার হতে পারে। আমরা এ সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে আমার পরিচিত লোকজনকে শিশু-কিশোরের ভবিষ্যৎ আয়ের হিসাব কষতে দেখিনি। বাড়িতে শিশুদের ধীরলয়ে হেঁটে বেড়ানো, আধো আধো বুলি, অনিন্দ্য সুন্দর হাসি, নির্দোষ হৈচৈ, মাঝেমধ্যে কান্নাকাটি মা-বাবা ও নিকটাত্মীয়দের মনে যে আনন্দসুধা ঢেলে দেয় তা তুলনাহীন অমূল্য সম্পদ। সাধারণত ঘরদোর অগোছালো, এলোমেলো করা অনেকেই পছন্দ করে না, কারো কারো কাছে তা সত্যি বিরক্তিকর। ব্যতিক্রম হচ্ছে শিশুর দুরন্তপনায় ঘর এলোমেলো হওয়া; বলা হয় শিশু যখন ঘর এলোমেলো করে দেয়, এমনকি কিছু জিনিস ভেঙে ফেলে বীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, অভিভাবকরা তখনো এক ধরনের আনন্দ অনুভব করেন।

শিশুর ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠা দেখতে যেমন আনন্দ লাগে, এর প্রক্রিয়া থেকে জ্ঞানাস্বাদন করার সুযোগও একটি বিরাট আকর্ষণ নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। এ সময় শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে গড়ে ওঠে। নিশ্চল, প্রায় অসহায় শিশুটি ধীরে ধীরে এপাশ-ওপাশ করতে শেখে। এরপর বসতে শেখে, হামাগুড়ি দেয়, দাঁড়াতে শেখে, এক পা, দুই পা করে হেঁটে বেড়ায়। একই সঙ্গে অনুভব-অনুভূতির শিশুসুলভ প্রকাশ ঘটতে শুরু করে। আনন্দ হলে সে হাসে, কষ্ট পেলে কাঁদে। কখনো হাত-পা নেড়ে, কখনো কেঁদেকেটে সে তার চাহিদার জানান দেয়। চৈতন্যের হালকা উন্মেষ (Cognitive Development) ঘটতে থাকে এ সময়। একই সঙ্গে মুখে ফুটতে থাকে বুলি। যত দিন যায় ততই Cognitive Development দৃশ্যমান হতে পারে। একসময় হাতেখড়ি হয়। সে অল্প অল্প পড়াশোনা, নিজের চেষ্টায় কোনো সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারে। ছোটখাটো প্রয়োজন নিজেই মেটাতে পারে। এ সময় শারীরিক সক্ষমতার একটি নেতিবাচক দিক লক্ষ করা যায়। হাঁটাচলা করার পাশাপাশি সে হাত-পা ছোড়ার অভ্যাস রপ্ত করে ফেলে। জিনিসপত্র ছুড়ে মারে, এমনকি সজোরে হাত-পা ছুড়ে আশপাশের লোককে আঘাত করে বসে। এককথায় শারীরিক আক্রমণ বা হালকা সন্ত্রাসের সামর্থ্য সে অর্জন করে। এ সময় আনুষ্ঠানিকভাবে পড়াশোনার জন্য সে স্কুলে যায়।

মানবশিশু ও গৃহপালিত অন্য প্রাণীর শিশুর (শাবকের) বড় হওয়ার মধ্যে একটি বিশাল পার্থক্য রয়েছে। পালিত প্রাণী বড় হলে সম্পদে পরিণত হবে। এতে ব্যতিক্রম ঘটার আশঙ্কা খুবই নগণ্য। প্রাণীর নিজস্ব বুদ্ধি এবং সিদ্ধান্তে একের পর এক অঘটন ঘটানো সম্ভব নয় বলেই চলে। একটি-দুটি খারাপ ঘটনা ঘটলে মালিক যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রাণীটিকে শায়েস্তা করবে। তাকে নিশ্চল করে দেওয়া হবে। এ কারণে প্রাণী বড় হলে, মোটা-তাজা হলে সব দিক থেকে গৃহস্থের লাভ। এ ক্ষেত্রে গৃহস্থের জন্য কোনোরূপ ঝুঁকির ব্যাপার নেই। মানবশিশুর বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। শিশু-কিশোর সুন্দরভাবে, যথাযথভাবে গড়ে উঠলে সে অভিভাবক তথা পরিবারের জন্য মহাসম্পদে পরিণত হয়। তার কর্মকাণ্ড, তার কৃতিত্ব পরিবারের আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে। সে যদি উপার্জনকারী সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে আরো ভালো। কিন্তু যদি তার সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় বড় রকমের ত্রুটি থাকে, যদি হিংস্রতা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়, তবে এই কিশোর পরিবারের জন্য বিরাট দায় (Liability) হয়ে দাঁড়ায়। তার কারণে মা-বাবা, ভাই-বোন, নিকটাত্মীয়স্বজন বিপাকে পড়ে। তাদের জীবন যন্ত্রণায় ভরে যায়। হিংস্রতার কারণে পাড়া-মহল্লায় তাকে লোকজন হয়তো ভয় করে, তার প্রভাব-প্রতিপত্তি দৃশ্যমান হতে পারে, হাতে কিছু কাঁচা পয়সা আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত তার জীবনে বিপত্তি ঘটার আশঙ্কা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। তার কর্মকাণ্ড দেখে এবং এর পরিণতির কথা ভেবে আপনজনরা আতঙ্কিত থাকে। কখনো কখনো অবস্থা এমন পর্যায়ে যায়, মা-বাবা, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়রাও তাকে ভয় পায়। সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে তাকে ফেরানো যায় না। এমনকি ফেরানোর পরামর্শ দেওয়া বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় ঢাকা শহরে এ ধরনের কিশোরদের নানা কাহিনি ঘটা করে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের তথ্য মতে একমাত্র উত্তরা এলাকায় সন্ত্রাসী কিশোরদের ৩০টি গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। এলাকার বাসিন্দা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজের মুরব্বিরা একে ভয়ানক বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই কিশোররা সচ্ছল পরিবারের সন্তান। স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র। এরা বেশির ভাগ সময় দল বেঁধে, কখনো একা হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র বহন, মাদক ব্যবসা, বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো অপরাধ করে থাকে। গাজীপুরের টঙ্গী এবং যশোরের পুলেরহাট কিশোর (বালক) উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ৫৯৭টি কিশোর বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে এসব কেন্দ্রে এসেছে। মামলাগুলো হলো : (১) নারী ও শিশু নির্যাতন ১৪২, (২) খুন ১২০, (৩) চুরি  ৮৯, (৪) মাদকসংক্রান্ত ৬৬, (৫) অস্ত্রসংক্রান্ত ২০, (৬) অন্যান্য ১৪৪। চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাটি ঘটে উত্তরায়। কিশোরদের দুটি দলের বিরোধের ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে খুন হয় নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবির। এর ১২ দিনের মাথায় তেজকুনীপাড়ায় ‘কে বড়, কে ছোট’ এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হয় আবদুল আজিজ নামে এক কিশোর। বছরওয়ারি পরিবেশিত তথ্য থেকে দেখা যায়, অন্যান্য অপরাধের সংখ্যা বাড়লে-কমলেও হত্যা ও নারী নির্যাতনের অপরাধ ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। অর্থাৎ কিশোর অপরাধীরা পর্যায়ক্রমে জঘন্য অপরাধের (Heinous Crime)দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ প্রবণতা বিপজ্জনক, সন্দেহ নেই।

দেখা যাচ্ছে, উত্তরা এলাকার কিশোররা তাদের অপরাধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেষ্টা করছে। তারা নিজ দলের একটা নাম দিচ্ছে। যেমন, সেভেন স্টার গ্রুপ, নাইন স্টার গ্রুপ, ভিক্টর গ্রুপ ইত্যাদি। তারা দল বেঁধে বিভিন্ন বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবি করে। পাড়ার কিশোরদের দলে যোগ দিতে চাপ দেয়। প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, মাঝেমধ্যে তাদের আক্রমণ করে বসে। টার্গেট করে দু-একজনকে ধরে নিয়ে যায়, গুম করে, এমনকি হত্যা করতেও দ্বিধা বোধ করে না। বিদ্যালয়গামী ছাত্রীদের কুৎসিত ইঙ্গিত করে, অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়, প্রয়োজনে হুমকি-ধমকি দেয়। ফেসবুক, মোবাইল ফোনে বিরক্ত করা, দল বেঁধে পর্নো দেখা তো রয়েছেই। এ ছাড়া বিশ্রী প্রতিযোগিতা দিয়ে বিকট শব্দ করে মোটরসাইকেল চালানো, সাইলেন্সার খুলে রাতের বেলায় বিপজ্জনক গতিতে গাড়ি চালানো, হোটেলে বা পাড়ার ক্লাবে ডিসকো নামে উন্মত্ত নৃত্য করাকে তারা শক্তি প্রদর্শনের মহড়া হিসেবে বিবেচনা করে। কেউ প্রতিবাদ করলে দলেবলে তাকে অপমান করে, নিগৃহীত করে, বয়স কম হলে তাকে পিটিয়ে আহত করে। এককথায় তারা পাড়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

বিভিন্ন দেশে শিশু-কিশোরর বয়সভিত্তিক সংজ্ঞা নির্ধারণে কিছু পার্থক্য থাকলেও মোটাদাগে ১৮ বছরকে শিশুর সর্বোচ্চ বয়স ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১৮ বছর বয়সে শারীরিক ও মানসিক গড়নের দিক থেকে শিশু পূর্ণতা লাভ করে। এ সময় থেকে একজন ব্যক্তিকে তার কাজের জন্য রাষ্ট্র বা সমাজ কর্তৃক দায়িত্ব নেওয়ার অনুশাসন দেওয়া হলে তা অযৌক্তিক হবে না। তবে ১৮ বছরের নিচের সব শিশু-কিশোরকে সমরূপ মনে করা যায় না। এ জন্য এ বয়সের শিশুদের বিশেষজ্ঞরা বয়সভেদে তিন-চার ভাগে শ্রেণিভুক্ত করেছেন। এগুলো হচ্ছে এক থেকে তিন বছর, তিন থেকে ছয় বছর, ছয় থেকে ১২ বছর এবং ১২ থেকে ১৮ বছর। প্রতি শ্রেণিভুক্ত শিশুর শক্তির শক্তি-সামর্থ্য আলাদা। আমরা সাধারণভাবে যাদের শিশু বলে মনে করি তাদের বয়স ১২ বছরের নিচে। তাদের শক্তি-সামর্থ্য সীমিত, যদিও চার-পাঁচ বছরের শিশু মানুষকে আঘাত করতে পারে। এ আঘাতে বড়রা রীতিমতো আহত হতে পারেন। ১২ বছরের ঊর্ধ্বের বালকরা আজকাল বড় রকমের কাজকর্ম যেমন সম্পাদন করতে পারে, তেমনি বড় অপরাধ করার সামর্থ্যও রাখে। যাদের শারীরিক কাঠামো ও প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক তাদের কাউকে কাউকে নিজেদের বুদ্ধিমতে নানা রূপে অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হতে দেখা যায়। তারা ‘গ্যাং’-এর সদস্য হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত হয়। যাদের বয়স ১৫-১৬ বছরের বেশি, তাদের দু-একজনকে দেখলে পূর্ণবয়স্ক যুবক মনে হয়। সম্প্রতি উত্তরা থেকে র্যাব যাদের ‘গ্যাং’ সদস্য হিসেবে আটক করেছে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বেশ বড় বড় মনে হয়েছে। শরীরের গড়নে তাদের সঙ্গে ২০-২১ বছরের যুবকের কোনো পার্থক্য আছে বলে মনে হয়নি। তারা খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই করার সামর্থ্যবান, শক্তি প্রয়োগ করে অন্যান্য অপরাধও করতে পারে। মানসিক দিক থেকেও হয়তো তারা একেবারে অপরিপক্ব নয়। প্রযুক্তির বহুল ব্যবহারের বদৌলতে তারা আইটিকেন্দ্রিক নানা অপরাধ সংঘটনে পারদর্শী হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোন, ট্যাব এবং ল্যাপটপ ব্যবহার করে তারা নানা ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে শিশু ও নারী নির্যাতনমূলক অপরাধ চালিয়ে যায়। এ বয়সের এক বালক দামি মোটরসাইকেল না পেয়ে নিজেদের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তার বাবা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বহু কিশোর, এমনকি কিশোরী তাদের মা-বাবাকে হত্যা বা মারাত্মকভাবে আহত করেছে। নানা রকম পারিবারিক অপরাধে তারা পরিবারকে জর্জরিত ও পরিবারের সদস্যদের জীবন দুর্বিষহ করে ফেলছে। অভিভাবক ও নিকটাত্মীয়রা বাধ্য হয়ে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিচ্ছে।  

১৮ বছরের কম বয়সের সব শিশু-কিশোরকে সব অপরাধের জন্য ঢালাওভাবে সমরূপ নমনীয়তা দেখানো সমীচীন হবে কি না তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। হত্যা, ধর্ষণ, গুম, ডাকাতি, অগ্নিসংযোগের মতো জঘন্য অপরাধে যারা লিপ্ত হয়, তাদের বয়স সাধারণত ১২ কিংবা তদূর্ধ্ব বছর হবে বলে সমাজে অনুমান করা যায়। অতি ব্যতিক্রমী কেসে দু-একজন ৯ থেকে ১২ বছরের মধ্যে হতে পারে। ১২ বছরের ঊর্ধ্বের যেসব শিশু-কিশোরের স্বভাব-চরিত্র, আচার-আচরণ অশোভনীয় ও সন্দেহজনক, পাড়া-মহল্লার মুরব্বিদের তাদের প্রতি কঠোর সতর্ক দৃষ্টি রাখা আবশ্যকীয়। যদি কারো সম্পর্কে খুব খারাপ অভিযোগ আসতে থাকে, তবে অভিভাবকের মাধ্যমে তাকে সাবধান করে দিতে হবে। সে না শোধরালে মহল্লার কয়েকজন নেতৃস্থানীয় মুরব্বি কর্তৃক বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনতে হবে। বয়সের দোহাই দিয়ে তাদের রেহাই দেওয়া যাবে না। উঠতি বয়সের কিশোররা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভয় করে। এ বাহিনীগুলো থেকে সাবধানবাণী সহযোগে অনুশাসন দেওয়া হলে শিশু-কিশোররা সহিংস কাজে জড়াতে সাহস করবে না। এ ব্যাপারে পাড়ার অভিভাবকদের মধ্যে একটি অলিখিত সমঝোতা থাকতে হবে, এক পরিবারের কিশোরকে প্রয়োজনবোধে অন্য পরিবারের মুরব্বি অপ্রীতিকর, অবাঞ্ছিত কাজ থেকে নিবৃত্ত করার লক্ষ্যে তাত্ক্ষণিকভাবে উপদেশ বা অনুশাসন দিতে পারবেন। আমরা নোয়াখালী শহরের যে পাড়ায় (ল ইয়ার্স কলোনি) বাস করতাম, সেখানে এরূপ একটি ব্যবস্থা চালু ছিল। সন্ধ্যার পর পাড়ার রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখলে আশপাশের মুরব্বিরা আমাদের নানারূপ প্রশ্ন করতেন। উত্তর সন্তোষজনক না হলে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিতেন। এ ধরনের যৌথ অভিভাবকত্ব চালু ছিল বলে আমাদের সময়ে পাড়ার প্রতিটি কিশোর সুন্দরভাবে ছাত্রজীবন শেষ করে জাতীয় পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শিশু-কিশোরকে সুপথে পরিচালিত করার মূল দায়িত্ব বহন করতে হয় পরিবারকে। পরিবারের যথাযথ সোহাগ-শাসন শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষণ হিসেবে কাজ করে। কথায় আছে, ‘যে ছেলেকে মা-বাবা শাসন করেন না, সেই ছেলেকে পরবর্তীকালে রাস্তার লোক শাসন করে। ’ তাঁদের ছেলের যেন এমন পরিণতি না হয় সেদিকে মা-বাবাকে নিরন্তর সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।  

 

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান


মন্তব্য