kalerkantho


তৃতীয় সপ্তাহে ট্রাম্পের যত মিথ্যাচার

সারা গৌদা

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তৃতীয় সপ্তাহে ট্রাম্পের যত মিথ্যাচার

গত এক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর দল আমেরিকার মানুষের উদ্দেশে যেসব মিথ্যাচার করেছে সেগুলোয় নজর বোলানোর সময় এসেছে। সন্ত্রাসবাদ থেকে শুরু করে খুনখারাবির হার ও মিথ্যাচারিতার তালিকায় অনেক কিছুই আছে।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির তৃতীয় সপ্তাহের ঠিকুজি :

এক. সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মিথ্যা : সাত দেশের মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা নিষিদ্ধ করার আদেশের স্থগিতাদেশ নবম আপিল আদালত বৃহস্পতিবার বহাল রাখে। তার আগে কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প ও তাঁর দল আদেশটির সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে গিয়ে গণমাধ্যমকেও ছাড়েনি। তাঁরা হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সিন স্পাইসারকে বলেন, গণমাধ্যম সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাগুলোর খবর দেয় না, তাদের অসৎ মতলব রয়েছে। আটলান্টায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে—এমন বানোয়াট খবর তৈরিরও চেষ্টা ছিল।

সোমবার ট্রাম্প ফ্লোরিডার টাম্পায় ম্যাকডিল বিমান ঘাঁটির ভাষণে বলেন, ‘বিষয়টি এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে, ঘটনার খবর পর্যন্ত দেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই খুব, খুবই অসৎ গণমাধ্যম সন্ত্রাসী হামলার খবর দিতে অনাগ্রহী থাকে। ‘চরমপন্থী ইসলামী সন্ত্রাসীদের’ প্রবেশ নিষিদ্ধের আদেশ সমর্থনে তিনি  সান বেরনারডিনো, বোস্টন ও অরলান্ডো হামলার কথা উল্লেখ করেন। অথচ ট্রাম্প যে সাত দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন সেগুলোর কোনো নাগরিক উল্লিখিত স্থানগুলোর হামলায় জড়িত ছিল না। এরপর হোয়াইট হাউস ৭৮টি হামলার একটি তালিকা দিয়ে বলে, এগুলো আইএস আদর্শের অনুসারীদেরই কাজ; কিন্তু গণমাধ্যম সঠিক তথ্য মানুষকে জানতে দেয়নি।

সমস্যা কোথায়! হামলাগুলোর খবর সাংবাদিকরা তো দিয়েছিলেন! পলিটিফ্যাক্ট অনুসন্ধান করে দেখেছে, ট্রাম্পের তালিকাভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি মাত্র খবর গণমাধ্যমে আসেনি। ঘটনাটি মিসরের।

ট্রাম্পের টুইটে কত কিছুই থাকে, ছিল না কানাডার কুইবেকের মসজিদে সাম্প্রতিক হামলার কোনো উল্লেখ। অথচ ওই হামলায় ছয়জনের প্রাণহানিও ঘটে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থা লফেয়ারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এফবিআই ট্রাম্পের তালিকার সাত দেশের যত মানুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে, তার চেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয় অভিবাসীবিরোধী মার্কিন নাগরিক, যারা যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল।

তথ্যমন্ত্রীও কী কম যান! স্পাইসার ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নীতির সমর্থন করতে গিয়ে বলেন, সর্বশেষ তিনটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাস্থলের একটি হচ্ছে আটলান্টা। অথচ আটলান্টায় সর্বশেষ যে সন্ত্রাসী হামলার তথ্য আমাদের কাছে আছে, তা চালিয়েছিল ফ্লোরিডায় জন্ম নেওয়া শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক এরিক রবার্ট রুডলফ।

এ ছাড়া ট্রাম্পের শীর্ষ উপদেষ্টাদের একজন কেলিয়ান কনওয়ে সিএনএন সাংবাদিক জেক ট্যাপারের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ট্রাম্প যা বলেছেন কোথাও কোনো মিথ্যা নেই; বরং গণমাধ্যমই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ে হলুদ সাংবাদিকতা করছে।

দু্ই. ট্রাম্প খুনের সংখ্যা নিয়েও মিথ্যা বলেছেন। ‘গত ৪৭ বছরে যা ছিল তার চেয়ে এখন আমাদের দেশে খুনের হার বেশি, ঠিক আছে? আপনারা কি তা জানেন? ৪৭ বছর। আমি বক্তৃতায় বারবার এ তথ্য দিচ্ছি। শুধু গণমাধ্যমই এ কথা কখনো আপনাদের বলবে না। ’ ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার কাউন্সি শেরিফসের সঙ্গে রাউন্ড টেবিল আলোচনাকালে এ কথা বলেন।

প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ১৯৯৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের হার কমেছে, যদিও এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আর এই তথ্য আমাদের দিচ্ছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিটিফ্যাক্ট।

তিন. প্রেস ও পোলস নিয়ে ট্রাম্পীয় মিথ্যাচার :  ট্রাম্প গত সপ্তাহে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টের দর্শক-শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আপনারা আরনল্ড সোয়ার্জেনেগারের ‘এপরেনটিস’ র‌্যাটিং নিয়ে প্রার্থনা করুন। এরপর তিনি সোমবার সকালে টুইট করে বলেন, যেকোনো নেতিবাচক জরিপই আসলে ‘ফেইক নিউজ’। অথচ জনমত জরিপগুলো আমাদের ভিন্ন কথা বলছে। সিবিএস, সিএনএন/ওআরসি, গ্যালপ ও কুইনিপিয়াক দেখিয়েছে যে বেশির ভাগ আমেরিকানই ট্রাম্পের ট্রাভেল ব্যান নীতির বিরোধী।

ট্রাম্প সামাজিক গণমাধ্যমে এই সপ্তাহে আমাদের আরো একবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে তিনিই ঠিক বলছেন, মিথ্যাচার করছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। আমরা গত সপ্তাহের এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছি যে নিউ ইয়র্ক টাইমস স্মরণকালের সেরা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাটা এখন করছে।

চার. আরো কিছু গর্হিত অসত্য : চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প টুইটে লেখেন যে ইয়েমেনে তাঁর প্রথম অভিযানে, একজন নেভি সিল ও আট বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক খুন হয়, একটি সফল মিশন ছিল। স্পাইসারও অভিযানটিকে সফল বলে দাবি করেন। এরপর শুক্রবার এনপিআর এক ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে বলে, প্রেসিডেন্ট সফল বলে যতই দাবি করুন, সাফল্য-ব্যর্থতা প্রমাণ করার মতো তথ্য এখনো আমাদের হাতে আসেনি।

 

লেখক : শিকাগোনিবাসী মার্কিন তরুণ লেখিকা নিবন্ধসূত্র : টিনভোগডটকম


মন্তব্য