kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো | ধারাবাহিক

বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিশ্বাস একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন

৮২. (আমাদের কথা বিশ্বাস না হলে) যে জনপদে আমরা ছিলাম, তার অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করুন এবং যে যাত্রীদলের সঙ্গে আমরা এসেছি, তাদেরও জিজ্ঞেস করুন। আমরা অবশ্যই সত্য বলছি।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৮২ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : বিনিয়ামিনকে মিসরে রেখেই ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা কেনান নগরীতে চলে আসে। এসে তারা বাবা ইয়াকুব (আ.)-কে বলে, বাবা! আপনার ছেলে বিনিয়ামিন চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে। এ ঘটনাটা সত্য। কিন্তু বাবা কিছুতেই তাদের কথা বিশ্বাস করছেন না। তাই তারা নিজেদের কথার সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে বলেছে, বাবা! আমরা যে জনপদে ছিলাম, তার অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করুন। তাহলেই সত্য-মিথ্যা বেরিয়ে আসবে। তা ছাড়া কেবল আমরা ভাইয়েরাই তো মিসরে যাইনি। আমাদের সঙ্গে কেনান নগরীর আরো অনেকে গিয়েছে। তারা বাদশাহর দরবার থেকে রেশম এনেছে।

স্বল্পমূল্যে খাদ্যদ্রব্য তারাও সংগ্রহ করেছে। তাদের জিজ্ঞেস করলেও আপনি ঘটনার সত্যাসত্য নিরূপণ করতে পারবেন। আমরা অবশ্যই সত্য বলছি। ইউসুফ (আ.)-এর ভাইয়েরা বিনিয়ামিনের ব্যাপারে সত্য কথা বললেও বাবা তাদের কথা বিশ্বাস করেননি। কারণ তারা এর আগে ইউসুফ (আ.)-এর ব্যাপারে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছিল। আর বিশ্বাস এমন একটি জিনিস, একবার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে আনা কঠিন। সত্যবাদিতা ও সততা মানুষের মনে আস্থা ও বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।

মানবসমাজের সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক সম্পর্কই হচ্ছে মানবসমাজের ভিত্তি। এ সম্পর্ক পরস্পর কথা বলার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সত্য কথা মানুষের কাছে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে। সত্যবাদিতা মুমিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে সত্যবাদীদের সঙ্গী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে : ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

সত্যবাদীদের জন্য কিয়ামতের দিবসে সৌভাগ্যের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ বলবেন, এটি সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীরা তাদের সত্যতার জন্য উপকৃত হবে। তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত। আর তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট, তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই তো মহাসাফল্য। ’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ১১৯)

সত্যবাদিতা মানুষকে পুণ্যের পথ দেখায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন : ‘নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা মানুষকে পুণ্যের পথ দেখায় এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ সত্য বলতে বলতে শেষ পর্যন্ত সিদ্দিক (পরম সত্যবাদী) হয়ে যায়। আর মিথ্যা মানুষকে পাপ কাজের পথ দেখায় এবং পাপ কাজ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে জঘন্য মিথ্যাবাদী হিসেবে তার নাম লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৬৫৫)

সত্যবাদী ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীদের আস্থাভাজন হয়ে থাকে। তাঁর প্রতিটি বাক্য তাদের তৃপ্তি দেয়। সত্যবাদী ব্যক্তি তাঁর বিবেকের সামনে সমুন্নত এবং মিথ্যার অশান্তি থেকে মুক্ত। সত্যবাদী তাঁর ওয়াদা পালন করে থাকে এবং আমানত রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য