kalerkantho

সাদাসিধে কথা

বই লেখার গল্প

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বই লেখার গল্প

আমাদের বইমেলাটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ ব্যাপার। পৃথিবীর অন্যান্য বইমেলায় শুধু বই বেচাকেনা হয়।

একুশের বইমেলা দেখলে মনে হয়, এখানে বই বেচাকেনাটি বুঝি মূল লক্ষ্য নয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে উৎসব! বইমেলার কোনো একটা কোনায় গালে হাত দিয়ে বসে মেলায় আসা মানুষগুলোকে দেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেওয়া যায়।

বইমেলায় কত রকম স্টল, আর তার ভেতর কত রকম বই। যারা বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখে তারা হয়তো কখনো কল্পনাও করতে পারে না যে এর প্রতিটি বইয়ের পেছনে লেখকের একটা গল্প আছে। এখন বই ছাপানো খুব সোজা হয়ে গেছে। যে কেউ চাইলেই গ্রন্থকার হতে পারে। যখন বিষয়টি এত সোজা ছিল না তখনো আমাদের পরিবারে গ্রন্থকারের জন্ম হয়েছে। তাই আমরা খুব ভালো করে জানি একটি বইয়ের পেছনে কত রকম গল্প থাকতে পারে।

আমার পরিবারের প্রথম গ্রন্থকার ছিলেন আমার বাবা।

সেই ছোট থেকে দেখে আসছি, সময় পেলেই উবু হয়ে লিখছেন। নানা রকম পত্রপত্রিকায় সেই লেখা ছাপা হতো। পুলিশে চাকরি করতেন, আমার ধারণা, যারা পুলিশে চাকরি করে তারা হয়তো মানবচরিত্রের বিচিত্র উদাহরণগুলো সবচেয়ে বেশি দেখার সুযোগ পায়! তাই আমার বাবার লেখা অনেক গল্প ছিল এই পুলিশজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে। আমার বাবা যখন বগুড়ায় ছিলেন তখন তাঁর ইচ্ছা হলো যে তাঁর লেখা গল্পগুলো নিয়ে একটি বই বের করবেন। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও একটি বই ছাপানো ছিল রীতিমতো একটি চ্যালেঞ্জ! বাবার পরিচিত একজন প্রেস মালিক ছিলেন, তিনি আগ্রহ নিয়ে বই ছাপানোর ব্যবস্থা করলেন। বাসার কাছে পরিচিত একজন শিল্পী বইয়ের কাভার করে দিলেন। বাবা পুলিশে চাকরি করেন, সময়টা পাকিস্তানি আমল। তাই নিজের নামে বই ছাপানো যাবে না, একটা ছদ্মনামে বই ছাপানো হয়! একদিন বাঁধাই হয়ে বই বাসায় এলো, তখন আমাদের কী উত্তেজনা! তারপর কত ঝড়ঝাপটার ভেতর দিয়ে গেছি, পরিবার কতবার কতভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, তার পরও কিভাবে কিভাবে জানি বাবার লেখা বইয়ের দুটি কপি রক্ষা পেয়েছে। একটির বেশির ভাগ উইপোকায় খেয়ে ফেলেছে, অন্যটা মলাটবিহীন অবস্থায় অক্ষত আছে। আমরা সময় পেলে মফস্বলের একটি প্রেসে ভাঙা টাইপে, নিউজপ্রিন্টে চাপানো সেই বইটি সস্নেহে নেড়েচেড়ে দেখি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, মাঝেমধ্যেই নামিদামি প্রকাশকরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাঁরা আমার বাবার বইটি পুনর্মুদ্রণ করতে চান। আমরা কখনো দিইনি, তার কারণ প্রকাশকরা আসলে বইটি আমার বাবার বই হিসেবে ছাপতে চান না, হুমায়ূন আহমেদের বাবার বই হিসেবে ছাপতে চান!

আমার বাবা তাঁর প্রকাশিত বইটি প্রথমবার হাতে নিয়ে কী রকম আনন্দ পেয়েছিলেন সেটি এখন আর আমরা কোনো দিন জানতে পারব না। কিন্তু আমার মায়ের অভিজ্ঞতাটুকু আমি জানি। আমার মা খুব বেশি লেখাপড়ার সুযোগ পাননি; কিন্তু অসম্ভব বই পড়ার নেশা ছিল। আমার বাবার উৎসাহে দু-একবার ছোটখাটো গল্পও লিখেছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রথম সত্যিকারের লেখাটি লিখেছিলেন আমেরিকায় বসে। আমি তখন আমেরিকায় থাকি, আমার মা বেড়াতে এসেছেন। নাতি-নাতনির সঙ্গে সময় কাটানো ছাড়া অন্য কোনো কাজ নেই। আমি তাঁকে কম্পিউটারে বাংলা টাইপ করা শিখিয়ে দিয়েছি। তখনো বাংলায় কম্পিউটারে টাইপ করার প্রচলন হয়নি। তাই আমার মায়ের কম্পিউটারে বাংলা লেখা দেখে দেশে সবাই রীতিমতো বেকুব হয়ে গেল।

তখন একদিন আমার স্ত্রী আমার মাকে বলল তাঁর বিস্ময়কর জীবনের ঘটনাগুলো লিখে রাখতে। আমার মা তখন সত্যি সত্যি লিখতে শুরু করলেন, আমি সেগুলো কম্পিউটারে টাইপ করে দিতাম। দেশে ফিরে আসার সময় আমি আমার মায়ের কাছে পাণ্ডুলিপিটি দিয়ে দিলাম, ইচ্ছা করলে কোনো প্রকাশককে যেন দিতে পারেন। সেই পাণ্ডুলিপি কখনো কোনো প্রকাশককে দেওয়া হয়নি, বই হিসেবেও প্রকাশিত হয়নি।

তারপর বহুকাল কেটে গেছে। আমি দেশে ফিরে এসেছি এবং কয়েক বছর পর হঠাৎ করে আমার মায়ের লেখা সেই পাণ্ডুলিপিটির কথা মনে পড়ল। আমি সেটার খোঁজ করতে লাগলাম এবং শেষ পর্যন্ত সেটা খুঁজে পাওয়া গেল। উইপোকায় বেশ খানিকটা খেয়ে ফেলেছে; কিন্তু তার পরও সেটা পড়া যাচ্ছে। আমি সময় প্রকাশনীর ফরিদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তিনি খুব আগ্রহ নিয়ে বইটি ছাপতে রাজি হলেন।

বইয়ের ছাপার কাজ যখন শেষের দিকে, বইটি বাঁধাই হওয়ার অপেক্ষায় তখন হঠাৎ আমার মায়ের কাছ থেকে আমি একটি ফোন পেলাম। মা খুব অসুস্থ; ভালো করে কথা বলতে পারেন না। ফোন করে আমাকে বললেন, ‘বাবা, তোকে একটা কথা বলার জন্য ফোন করেছি। ’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী কথা? মা বললেন, ‘বাবা, যদি কখনো ভুল করে তোদের মনে কোনো কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে মাফ করে দিস। ’ আমি ভয়ানক চমকে উঠলাম, ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এসব কথা বলছেন কেন? আমার মা প্রশ্নের উত্তর দিলেন না; আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফোন রেখে দিলেন।

আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল! মানুষ মৃত্যুর আগে এই ভাষায় কথা বলে। তাহলে কি আমার মা বুঝতে পেরেছেন, তিনি আর বেঁচে থাকবেন না?

আমি খানিকক্ষণ হতবুদ্ধি হয়ে বসে রইলাম। তারপর সময় প্রকাশনীর ফরিদ আহমেদকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম আমার মায়ের বইটি এখন কোন পর্যায়ে? তিনি বললেন, ছাপাছাপির কাজ শেষ। বই বাঁধাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। আমি বললাম, যেভাবেই হোক এ মুহূর্তে দুটি বই বাঁধাই করে আমার মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। খুবই জরুরি।

ফরিদ আহমেদ আমার অনুরোধটি খুবই গুরুত্ব দিয়ে নিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রথম দুটি বই বাঁধাই করে রীতিমতো ছুটতে ছুটতে আমার মায়ের কাছে গিয়ে বই দুটি তাঁর হাতে তুলে দিলেন। আমার ‘মৃত্যুপথযাত্রী’ মা বই দুটি হাতে নিলেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেন!

ঘটনাটি নিয়ে আমরা সবাই আমার মাকে অসংখ্যবার হাসি-তামাশা করেছি। আমার মা সেই হাসি-তামাশা মেনে নিয়েছেন, না মেনে উপায় কী? একজন নতুন লেখকের প্রথম প্রকাশিত বইয়ের প্রথম কপিটি হাতে নেওয়ার যে তীব্র আনন্দ, সেটি সেই লেখক ছাড়া পৃথিবীর আর কেউই অনুভব করতে পারবে না।

আমাদের পরিবারের সত্যিকারের প্রথম গ্রন্থকার ছিল আমার অগ্রজ হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের কত মানুষ তার কত লেখা কতবার পড়েছে; কিন্তু আমি রীতিমতো অহংকার করে বলতে পারি, তার প্রথম লেখাটি সবার আগে পড়েছিলাম আমি। হুমায়ূন আহমেদ তখন মুহসীন হলে থাকে, আমি থাকি সূর্য সেন হলে (পরে আমি ফজলুল হক হলে চলে গিয়েছিলাম)।

যা-ই হোক, একদিন ভোরে হুমায়ূন আহমেদ আমার হলে এসে আমার কাছে খবর পাঠাল, আমি নিচে নেমে এলাম। সে আমাকে হাতে লেখা কিছু কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘কাল রাতে আমি এটা লিখে শেষ করেছি। পড়ে দেখ। ’

আমি কাগজগুলো নিয়ে ছয় তলায় নিজের রুমে গেলাম। ছোট একটি উপন্যাস কিছুক্ষণের মধ্যে পড়া শেষ হয়ে গেল এবং আমি অনেক ক্ষণ হতভম্ব হয়ে বসে রইলাম। উপন্যাসটির নাম ‘নন্দিত নরকে’ এবং সেটি পড়ে আমি বুঝতে পারলাম, আমাদের পরিবারে একজন অসাধারণ সাহিত্যিকের জন্ম হয়েছে।

আমার ধারণা সত্য প্রমাণিত হলো। আহমেদ ছফা হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসটি বই হিসেবে প্রকাশ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। সেটি ছিল হুমায়ূন আহমেদের প্রথম বই এবং দেখতে দেখতে সে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একজন লেখক হিসেবে পরিচিত হয়ে গেল।

আমার ধারণা, বেশির ভাগ মানুষ জানে না হুমায়ূন আহমেদের প্রথম বই নন্দিত নরকের প্রচ্ছদটি এঁকেছিলাম আমি ও ভাস্কর শামীম শিকদার!

এবার আমি আমার নিজের বইয়ের গল্পগুলোর কথা বলতে পারি। সবাই তো তার প্রকাশিত বইয়ের গল্প বলে, আমি অপ্রকাশিত বইগুলোর গল্প বলি।

আমি প্রথমবার গ্রন্থকার হওয়ার চেষ্টা করি যখন আমি ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ি। একটি কিশোর উপন্যাস লেখা শেষ করে কী করব বুঝতে না পেরে সেটি একটি খামে ভরে একজন ‘লেখক-প্রকাশক’-এর কাছে পাঠিয়ে দিলাম। তাঁর পরিচয় দিলে সবাই চিনবে, তাই সেটা আর বলছি না। আমার পাণ্ডুলিপির প্যাকেট পাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে চিঠি লিখলেন। চিঠিতে তিনি লিখলেন, আমার উপন্যাসটি তাঁর পছন্দ হয়েছে, তবে আমি যদি কাগজের দামটি দিই, তাহলে তিনি বই হিসেবে প্রকাশ করবেন। কাগজের দাম কত সেটিও তিনি লিখে দিলেন, ৩০০ টাকা! টাকার পরিমাণ এখন খুব বেশি মনে না হলেও তখন আমার কাছে সেটি অনেক। কাজেই সেই টাকা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। ফলে আমার সেই কিশোর উপন্যাসটি আর বই হিসেবে প্রকাশিত হলো না। তবে সেটি নিয়ে আমার খুব দুঃখ ছিল না। কারণ সেই লেখক-প্রকাশক চিঠিতে আমাকে একটি ভবিষ্যদ্বাণী লিখে পাঠিয়েছিলেন। বলেছিলেন, আপনি বড় হলে একজন সত্যিকারের শিশুসাহিত্যিক হতে পারবেন। তাঁর সেই ভবিষ্যদ্বাণীতেই আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। চিঠিটি বুক পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই এবং বন্ধুবান্ধবকে দেখাই, তারা হিংসার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের শিশুসাহিত্যিকের দিকে তাকিয়ে থাকে!

মজার ব্যাপার হলো, বেশ কয়েক বছর পর কিভাবে কিভাবে জানি আমার বাবা জানতে পারলেন যে ৩০০ টাকা কাগজের দাম দিলেই আমার একটি বই বের হয়ে যেত। বাবা খুব অবাক হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আমি সেটি কোনো দিন তাঁকে বলিনি কেন? তাহলে বাবা আমাকে সেই টাকা দিতেন।

আমি কোনো সদুত্তর দিতে পারিনি; কিন্তু উত্তরটি আসলে খুব সহজ। যত ছোটই হই না কেন, তবু তো আমি লেখক! লেখক কেন নিজের টাকা দিয়ে বই ছাপাবে?

আমার দ্বিতীয় যে পাণ্ডুলিপিটি কোনো দিন বই হিসেবে তার চেহারা দেখাতে পারেনি, সেটি আমি লিখেছিলাম যখন আমি ইউনিভার্সিটিতে পড়ি। সেটি কী নিয়ে লিখেছিলাম এত দিন পর আমার আর মনে নেই। আমার ভাই-বোনের কোনো একজন সেই পাণ্ডুলিপিটির একটুখানি পড়ে সেটি নিয়ে কোনো একটি মন্তব্য করল! মন্তব্যটি আমার পছন্দ হলো না। তাই আমি একটি ম্যাচ, একটি মোমবাতি ও উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে ছাদে গেলাম। মোমবাতি জ্বালিয়ে উপন্যাসের একটি একটি করে পৃষ্ঠা মোমবাতির শিখায় ধরতে লাগলাম এবং সেটা দাউদাউ করে জ্বলতে লাগল! যত দূর মনে পড়ে, আমার সঙ্গে ছোট আরো একজন ছিল এবং আগুন দিয়ে একটি উপন্যাস জ্বালিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তার উৎসাহের সীমা ছিল না!

তৃতীয় যে বইটি প্রকাশিত হতে পারেনি সেটি খুবই সাম্প্রতিক ঘটনা। বাংলা একাডেমিতে হে ফেস্টিভালে আমন্ত্রণ পেয়ে গেছি; সেখানে একজন ভারতীয় মানুষের সঙ্গে দেখা। তিনি আমাকে খুঁজে বের করে বললেন, আমার কিছু বই ইংরেজিতে অনুবাদ করে কোনো একটি বড় প্রকাশনী থেকে বিদেশি পাঠকের জন্য প্রকাশ করতে চান। আমি আনন্দের সঙ্গে রাজি হলাম; ভদ্রলোক আমার কাছে কোনো একটি বইয়ের নাম জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের ওপর লেখা আমার কিশোর উপন্যাস ‘আমার বন্ধু রাশেদ’-এর নাম বললাম।

কিছুদিনের ভেতরেই সেই বিখ্যাত প্রকাশনী থেকে একজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। অনুবাদটি তাঁরা গ্রহণ করলেন এবং চুক্তিপত্র হিসেবে ছোট ছোট টাইপে লেখা কাগজপত্র পাঠাতে শুরু করলেন।

আন্তর্জাতিক মানের বড় প্রকাশনী থেকে বই বের করতে হলে কত রকম কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হয় তখন সেটা আমি জানতে পারলাম।

যখন আমরা চুক্তির একেবারে শেষ মুহূর্তে পৌঁছেছি তখন সেই বিখ্যাত আন্তর্জাতিক প্রকাশনীর একজন কর্মকর্তা আমাকে ই-মেইল পাঠালেন। তিনি লিখলেন, তাঁরা বইটিতে দুটি পরিবর্তন করতে চান। আমার বন্ধু রাশেদ নামটি খুব সাদামাটা, তাঁরা এর পরিবর্তে আরো জমকালো একটি নাম দিতে চান। এ ছাড়া রাশেদ নামটি খুব প্রচলিত নাম নয়; তাঁরা সেই নামটি পরিবর্তন করে রশীদ করে দিতে চান!

খুবই স্বাভাবিকভাবে আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া হলো সেই আন্তর্জাতিক প্রকাশনীর বড় কর্মকর্তাকে কিলিয়ে ভর্তা করে দিই! সেটি বাস্তব জীবনে করা সম্ভব নয়। তাই আমি পাল্টা ই-মেইলে তাঁদের সঙ্গে আমার চুক্তি বাতিল করে দিয়ে বললাম, আপনাদের আমার বই প্রকাশ করতে হবে না। আমার দেশের ছেলে-মেয়েরা বইটি পড়লেই আমি খুশি। শুধু এটুকু লিখেই অবশ্য আমি তাঁদের ছেড়ে দিইনি, একজন লেখককে কী বলা যায় এবং কী বলা যায় না তার ওপরে অনেক লম্বা লম্বা উপদেশ দিয়েছিলাম!

আমার ই-মেইল পেয়ে তাঁরা নড়েচড়ে বসে ক্ষমা চেয়ে আমার কাছে আরো লম্বা ই-মেইল পাঠিয়ে বইটি ছাপানোর জন্য চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করার জন্য অনেক ঝুলাঝুলি করেছিল। আমি আর রাজি হইনি।

আন্তর্জাতিক প্রকাশনী থেকে বিদেশি ভাষায় অনুবাদ হয়ে আমার বই বিদেশি পাঠকের কাছে পৌঁছাতে হবে কে বলেছে? আমাদের দেশের একটি ছেলে বা মেয়ে আমার লেখা একটি বই পড়লেই আমি খুশি।

একজন মানুষ তার একটি জীবনে এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারে?

 

লেখক : অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট


মন্তব্য