kalerkantho


তাহলে হোয়াইট হাউস কার থেকে কূটনীতি শিখবে?

অনলাইন থেকে

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রেক্স টিলারসনের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে আমাদের দ্বিধা ছিল। এর পরও টিলারসনকে আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম এই আশায়, নিজ কূটনৈতিক যোগ্যতা বলে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর কিছু প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। সিনেট এর মধ্যেই টিলারসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিশ্চিত করেছে। তাই আমরা আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই যে নতুন মার্কিন প্রশাসনে এমন কাউকে অবশ্যই দরকার যিনি হোয়াইট হাউসকে কূটনীতির গুরুত্বের বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হবেন।

বৈদেশিক দূতিয়ালিই একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান কাজ; আর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পেরও উচিত নিজের নাগরিক, সেই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কূটনীতিকসুলভ আচরণ করা। কেন তা দরকার সাত মুসলিমপ্রধান দেশের শরণার্থী ও ভ্রমণকারীদের নিষিদ্ধ করার ঘটনা থেকেই অনেক যুক্তি দেওয়া যাবে।

প্রথমত, ট্রাম্প তাঁর ক্যাবিনেট ও কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে, যাঁদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান নেতারাও রয়েছেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। শোনা যায়, অভিবাসন নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে রীতিমতো অন্ধকারে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস মাতিস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জন জেলি, ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর বব করকার ও সম্ভবত পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিলারসন নিজেও।

আপনাকে মন্ত্রণা দেওয়ার কাজে যাঁরা নিয়োজিত তাঁদের পরামর্শ যখন আপনি শোনেন জল ঘোলা কম হয়; সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলে ফল ভালো আসে। আরো উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে, ক্যাবিনেট ও কংগ্রেসের অনেকে ট্রাম্পের এই ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার ঘটনাটিকে পাত্তা দিতে চাইছেন না।

আরেকটি উদাহরণ দিই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন পেশাদার কূটনৈতিক কর্মকর্তা অভিবাসনের নয়া নির্বাহী আদেশের সঙ্গে যখন দ্বিমত পোষণ করলেন, ট্রাম্প মুখপাত্র সিন স্পাইসারকে ডেকে পাঠালেন। ট্রাম্প তাঁকে বললেন, ‘গিয়ে বলুন, তারা হয় কর্মসূচির সঙ্গে থাকবে, নয় বিদায় হবে। ’

অথচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেশাদার কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন মহল কোনো ভুল করলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার রাখেন, এ ভূমিকা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। যেসব প্রেসিডেন্ট শুধু ‘হ্যাঁ’ শুনতে প্রস্তুত থাকেন ও ভিন্নমত সহ্য করার ধারণক্ষমতা রাখেন না তাঁরা যেকোনো মহূর্তে বড় ভুল করে ফেলার ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করেন। টিলারসনের অবস্থাটাও বিবেচনা করুন। তাঁর কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের কোনো অভিজ্ঞতা নেই; আবার তিনি এমন এক সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন যখন অনেক কর্মকর্তা চরমভাবে হতাশ। মুখ খুললেই বিপদ নেমে আসতে পারে ভয়ে এ কর্মকর্তারা কুঁকড়ে আছেন। অথচ মার্কিনদের জীবন রক্ষার কাজে তাঁদের সক্রিয় কর্মতত্রতার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাঁদের এমন যোগাযোগ দক্ষতা ও জ্ঞান রয়েছে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে নেওয়ার জন্য যা খুব দরকার।

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্যালি ইয়েটসকে বরখাস্ত করার ঘটনাটি তো আরো ন্যক্কারজনক হয়েছে। আসলে স্যালি যখন বলেই ফেললেন যে ট্রাম্পের নির্দেশটির বৈধতা নেই এবং তিনি এর পক্ষে আদালতে দাঁড়াবেন না, তাঁর বরখাস্ত হওয়াটা অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। একজন অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করার অধিকার প্রেসিডেন্ট যে রাখেন আমরা অস্বীকার করছি না। কাজটি করতে গিয়ে যে প্রজ্ঞা তিনি ব্যবহার করেছেন তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইয়েটস বিচার বিভাগের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমরা বলব, না, ইয়েটস তা করেননি। তিনি বরং তাঁর পেশাগত নীতি মেনে চলার চেষ্টা করছিলেন; আর এ নীতির প্রতি ট্রাম্পের অনুগত থাকা উচিত ছিল ইয়েটসকে বরখাস্ত করার মুহূর্তেও।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেহেতু অকূটনীতিকসুলভ আচরণ করেছেন, এর মধ্য দিয়ে তিনি বামপন্থীদের জন্য একজন নায়ক তৈরি করেছেন; তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতারও অবমূল্যায়ন করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে আগুনে ঘি ঢালছেন আরো অনেক ঘটনা দিয়ে তা প্রমাণ করা যাবে। নেইল গোরসাচ যাতে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ পান তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্প ছেলেখেলার মতো সিনেটকে আদেশ দিলেন, ‘গো নিউক্লিয়ার’ এবং ডেমোক্র্যাটদের অধিকার অস্বীকার করলেন। এমন একটা স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার আগে ট্রাম্প কেন ৬০ শতাংশ ভোট চাওয়ার প্রচলিত পন্থায় এগোননি?

ট্রাম্প যদি দেশে ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ হতে না পারেন, বিদেশে গিয়ে পারবেন—এই আশা আমরা কী করে করি! মেক্সিকো ও অস্ট্রেলিয়ার মতো রাষ্ট্রের সঙ্গে তিনি যে আচরণ করছেন তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ট্রাম্প কি জানেন না অস্ট্রেলিয়া আমাদের ঘনিষ্ঠতম বন্ধুদের একজন এবং ইরাক ও আফগানিস্তানে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি?

কিছু সময় আছে প্রেসিডেন্টকে রূঢ় কথা বলতেই হয়। আবার এমনও সময় আছে রূঢ় কথা বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের রসনা সংযত করতে হবে। অর্থহীন কোনো আগ্রাসন মার্কিনদের প্রাণহানির কারণ হবে—এমন আশঙ্কা আমরা মনেও আনতে চাই না।

প্রশ্ন হচ্ছে, ট্রাম্প কি কখনো কোনো ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার যোগ্যতা আদৌ রাখেন?

 

সূত্র : যুক্তরাষ্ট্রের সান-সেন্টিনেল

পত্রিকার সম্পাদকীয়


মন্তব্য