kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

কোরআনের বক্তব্য ও বিধান সুস্পষ্ট

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কোরআনের বক্তব্য ও বিধান সুস্পষ্ট

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

১. আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুস্পষ্ট গ্রন্থের আয়াত।

[সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : এখান থেকে সুরা ইউসুফ শুরু হচ্ছে। চারটি আয়াত ছাড়া গোটা সুরা ইউসুফ মহানবী (সা.)-এর মক্কিজীবন তথা হিজরতের আগে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে মোট ১১১ আয়াত ও ১২ রুকু রয়েছে। এই সুরায় হজরত ইউসুফ (আ.)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে। এতে চমৎকারভাবে ইউসুফ (আ.)-এর জীবনকাহিনী উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর জীবনের ইতিহাস পবিত্র কোরআনের শুধু এই সুরায়ই স্থান পেয়েছে, অন্য কোথাও পুনরাবৃত্তি হয়নি। অন্য অনেক নবী-রাসুলের ঘটনা পবিত্র কোরআনে খণ্ড খণ্ড করে বারবার আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা এক স্থানে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সুরা ইউসুফের মাধ্যমে আল্লাহপাক কোরআনের পাঠকদের ইউসুফ (আ.)-এর জীবনের ভাঙাগড়া থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন।

আগের সুরার সঙ্গে এই সুরার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আগের সুরা ছিল সুরা হুদ। সে সুরায় কয়েকজন নবী-রাসুলের জীবনের খণ্ড খণ্ড অংশ বর্ণিত হয়েছিল। এই সুরায় হজরত ইউসুফ (আ.)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সুরার নাম ‘সুরা ইউসুফ’ রাখার কারণও স্পষ্ট। সুরাটির উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে হজরত ইউসুফ (আ.) সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। তাঁর জীবনের উত্থান ছিল বড় বিস্ময়কর। এ সুরা তিনটি অক্ষর—আলিফ-লাম-রা দিয়ে শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআনের পরিভাষায় এগুলোকে বলা হয় হুরুফে মুকাত্তাআত বা বিচ্ছিন্ন হরফসমূহ। পবিত্র কোরআনের ১১৪ সুরার মধ্যে ২৯টি সুরার শুরুতে এ ধরনের হরফ ব্যবহৃত হয়েছে। কোরআনের যেসব রহস্য উন্মোচন করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি, এ হরফগুলো তারই অন্তর্ভুক্ত। রহস্যাবৃত ও তাৎপর্যমণ্ডিত এই হরফগুলোর মর্ম মহান আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

কোরআনের বক্তব্য ও বিধান সুস্পষ্ট

আলোচ্য আয়াতে পবিত্র কোরআনের জন্য প্রশংসাসূচক শব্দ ‘মুবীন’ ব্যবহৃত হয়েছে। ‘মুবীন’ শব্দের অর্থ স্পষ্ট, যুক্তিপূর্ণ ও দ্ব্যর্থহীন। এর মাধ্যমে মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পবিত্র কোরআনের সব আয়াত ও বিধিবিধান স্পষ্ট ও অকাট্য।

‘আয়াত’ শব্দের শাব্দিক অর্থ আল্লাহর নিদর্শন। আল-কোরআনের পঙিক্ত বা চরণ বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহৃত হয়। কোরআনের আয়াত অন্তহীন জ্ঞানের ভাণ্ডার। এর প্রতিটি চরণ হীরকখণ্ডতুল্য। এই সুরার প্রারম্ভিক বাক্যে একটি সূক্ষ্ম সতর্কবার্তা রয়েছে। অজ্ঞ লোকেরা মনে করেছিল, মহানবী (সা.) কোরআনের নামে যে বাণী শোনাচ্ছেন তা নিছক ভাষার তেলেসমাতি, কবিসুলভ কল্পনা কিংবা গণক ও জ্যোতিষীদের মতো ঊর্ধ্বজগৎ সম্পর্কিত আলোচনার সমষ্টি মাত্র! সুরার গোড়াতেই তাদের এ মর্মে সতর্ক করা হয়েছে যে তোমাদের ধারণা অজ্ঞতা ও বিদ্বেষপ্রসূত। প্রকৃতপক্ষে এগুলো স্পষ্ট, জ্ঞানময় ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত। এর প্রতি মনোযোগী না হলে তোমরা জ্ঞানের শিকড় থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বঞ্চিত থেকে যাবে অফুরন্ত জ্ঞান থেকে। কেননা কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে সব জ্ঞানের আধার বিশ্ব প্রতিপালকের পক্ষ থেকে। আল্লাহ বলেন, ‘এই কিতাব প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে অবতারিত হয়েছে। এর আয়াতসমূহ সুস্পষ্ট, সুবিন্যস্ত ও বিশদভাবে বিবৃত। ’ (সুরা হুদ, আয়াত : ১)

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য