kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

অবিশ্বাসীদের জন্য সাময়িক অবকাশ

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অবিশ্বাসীদের জন্য সাময়িক অবকাশ

১২১. যারা ইমান আনে না, তাদের বলে দাও, তোমরা যেমন করছ, তেমনই করতে থাকো। আমরাও আমাদের কাজ করছি।

১২২. আর তোমরাও (আজাব ও চূড়ান্ত ফয়সালার) অপেক্ষা করতে থাকো, আমরাও অপেক্ষায় রইলাম। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১২১-১২২)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছে, মুমিনদের শিক্ষার জন্য পবিত্র কোরআনে মানবজাতির অতীত ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। কারণ ইমানদাররা সব সময়ই অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। এই দুই আয়াতে বলা হচ্ছে, হে রাসুল! যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না তাদের বলে দিন, তোমরা তোমাদের খেয়ালখুশি মতো কাজ করতে থাকো। আমার ও আমার নিয়ে আসা ধর্মের বিরুদ্ধে সাধ্যমতো চেষ্টা করতে থাকো। এরই সঙ্গে এর পরিণতির জন্য অপেক্ষা করো। আমরাও আমাদের কাজ করে যাচ্ছি এবং আমাদের কাজের প্রতিদানের জন্য অপেক্ষা করছি।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘তোমরা ধ্বংসের জন্য অপেক্ষা করো। আমরা আজাবের জন্য অপেক্ষা করছি। ’ (তাফসিরে মুনির)

আলোচ্য আয়াতের বক্তব্য অনেকটা শোয়াইব (আ.)-এর বক্তব্যের কাছাকাছি। শোয়াইব (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছেন, ‘হে আমার জাতি! তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় কাজ করে যাও, আমিও আমার কাজ করছি। শিগগিরই তোমরা জানতে পারবে, কার ওপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আর কে মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করছি। ’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ৯৩)

আল্লাহ সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। মুহূর্তের মধ্যে তিনি প্রতিশ্রুত আজাব অবতীর্ণ করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহ মানুষের ওপর বড়ই মেহেরবান। মানুষের প্রতি তিনি দ্রুত দয়া ও করুণা বর্ষণ করেন। তিনি পাপ কাজ করার দরুন তাদের দ্রুত পাকড়াও করেন না। মানুষ যতই অবাধ্যতা ও বিদ্রোহ করুক না কেন, আল্লাহ তাদের সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দেন। এর পরও অনেকে পাপাচারের মধ্যে ডুবে থাকে। দেখা যায়, যারা বিজ্ঞ ও জ্ঞানী, তারা দূরদর্শী হন। ভবিষ্যতের সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য তারা বর্তমান সময়ে কষ্ট স্বীকার করেন। কিন্তু যারা অজ্ঞ, অপরিণামদর্শী তারা বর্তমান নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ক্ষণস্থায়ী আরাম-আয়েশের পেছনে নিজেদের নিয়োজিত রাখে। ঠিক তেমনি যারা পরকালের সুখ-শান্তিতে বিশ্বাস করে না, তারা ওই অপরিণামদর্শী লোকদের মতোই। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবন নিয়েই তারা ব্যস্ত। পরকালের সুখ-শান্তির জন্য ইহকালে তারা সামান্য কষ্ট স্বীকার করতে রাজি নয়। তারা সাময়িক সুখের পেছনে ছুটে বেড়ায়। তাদের একদলের একসময় বোধোদয় হয়। ফলে তারা সঠিক পথে ফিরে আসে। আর একদল পরকালে বিশ্বাস করে না। কিন্তু পরম করুণাময় আল্লাহ তাদের ধ্বংস না করে অবকাশ দেন, যাতে তারা ভবিষ্যতে অনুতাপ করার সুযোগ পায়। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ যদি মানুষের শাস্তির ব্যাপারে তড়িঘড়ি করতেন, যেভাবে তারা পার্থিব কল্যাণ লাভের জন্য তড়িঘড়ি করে, তাহলে তাদের মৃত্যু ঘটত। সুতরাং যারা (কিয়ামতের দিন) আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ (ভয়) করে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় ছেড়ে দিই, যেন (তারা) উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ায়। ’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১১)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য