kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিলারি, ট্রাম্প দুজনই হতাশ করেছেন

লিজ পিক

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হিলারি, ট্রাম্প দুজনই হতাশ করেছেন

দ্বিতীয় এই বিতর্ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ছিল ‘মারো অথবা মরো’ পর্ব। গাড্ডায় পড়ার ঝুঁকি খুবই ছিল, তবে শেষতক আরো একটি বিতর্কে অংশ নেওয়ার জন্যই যেন তিনি বেঁচে গেছেন।

দুই প্রার্থী যখন হাজির হন, সৌজন্য প্রদর্শনের বালাই ছিল না। সবেমাত্র ফাঁস হয়েছে ট্রাম্পের একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যায় ট্রাম্প নারীদের নিপীড়ন করতে পারার কথা সদর্পেই বলছেন। তাই বিতর্কের আগে দৃশ্যত দাম্ভিক হিলারি ট্রাম্পের সঙ্গে করমর্দন করতেও অস্বীকার করলেন। তিনি ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য অযোগ্য আখ্যা দেন, বেশ কয়েকবার মিথ্যবাদী সাব্যস্ত করেন।

ইটের জবাবে পাটকেল ছোড়েন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ট্রাম্প। বলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে হিলারির ঠিকানা হবে কারাগার। ট্রাম্পের হুমকিটি ছিল এ রকম, ‘আপনি অনেক মিথ্যা বলেছেন, আপনার মধ্যে অনেক প্রতারণা আছে। (আমি যদি জিতি) আইনজীবী আপনার ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করবে এবং এ জন্য আপনাকে কারাগারে যেতে হবে। ’

আগের দুদিন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনেক বিষোদ্গার করেছেন হিলারি। তাই সামনে পেয়ে ট্রাম্প প্রতিপক্ষকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দিতে সক্ষম হন, আর নিজেও পায়ের তলায় খানিক মাটি খুঁজে পান। হিলারি শুরুতেই বলেছিলেন, ট্রাম্প যে প্রেসিডেন্ট ও সর্বাধিনায়ক পদের জন্য যোগ্য নন, তা আরো একবার প্রমাণিত হলো। শুক্রবার ফাঁস হওয়া টেপ থেকে জানা গেল, তিনি নারীদের সম্পর্কে কী ভাবেন, নারীদের সঙ্গে কী করেন। কিন্তু ট্রাম্প যেন অদম্য। নারীবিদ্বেষ থাকার কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়ে তিনি বললেন, এ জন্য তিনি বিব্রত হয়েছিলেন, ক্ষমাও চেয়েছেন। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে ট্রাম্প পাল্টা আঘাত হেনে বলেন, হিলারির দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যা আছে, অতীত রেকর্ড অনেক খারাপ। হিলারির ই-মেইল স্ক্যান্ডাল, বেনগাজিতে নিহত রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভানসের ৬০০ আবেদন অগ্রাহ্য করা, সিরিয়ার শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে গ্রহণের পক্ষে হিলারির সমর্থন, তাঁর গোপনে এককথা, প্রকাশ্যে আরেক কথা বলার টেপ ফাঁস, ওবামাকেয়ারের ব্যর্থতা—এককথায় একের পর এক অভিযোগের বান ছুড়েছেন ট্রাম্প। যেন প্রথম বিতর্কে বলতে না পারা কথাগুলোই এবার তিনি মোক্ষম অস্ত্র করেছেন।

ট্রাম্পের নারী নির্যাতনের স্বীকারোক্তির ভিডিও হিলারিকে হয়তো আশাবাদী করেছিল যে দর্শক সমর্থন তাঁর পক্ষেই থাকবে। তা হয়নি। মডারেটরদের নিষেধাজ্ঞা হাততালি ঠেকাতে পারেনি, আর তা পড়ে ট্রাম্পেরই আক্রমণের পর, যখন তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই সেই হিলারি, যিনি তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর অভিযোগকারী নারীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। আসলে ট্রাম্প আটঘাট বেঁধেই এসেছিলেন। বিতর্কের আগেই তিন ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী নারীদের মধ্য থেকে চারজনকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সত্যি বলতে কী, তখনই বোঝা গিয়েছিল যে ট্রাম্প অস্ত্র শানাচ্ছেন। যখন বিতর্কে তিনি ক্লিনটন-হিলারি দম্পতির দুজনকেই ভণ্ড প্রমাণ করার চেষ্টা করেন উপস্থিত দর্শকদের কেউ কেউ নিশ্চয়ই তা সমর্থন করেছেন। তার পররাষ্ট্রনীতি যে দুর্বল, বিপজ্জনক তা আরো একবার ধরা পড়ল এই বিতর্কে। সিরিয়ার আলেপ্পোয় মানবিক বিপর্যয় ইস্যুতে কী করা উচিত—এ প্রশ্নে থতমত খেয়ে ট্রাম্প নড়বড়ে উত্তর দেন। আর হিলারি আইএস-আল-কায়েদা ইস্যুতে কঠোর নীতি গ্রহণের কথা পুনরুচ্চারণ করে বলেন, প্রেসিডেন্ট হতে পারলে তিনি আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদিকে খুঁজে বের করার মাধ্যমে সমস্যার মূলে আঘাত হানবেন। তিনি নারী ও শিশুদের জন্য আজীবন লড়াই করার ইতিহাসটিও আরো একবার তুলে ধরেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কাকে করবেন—এ প্রশ্নের ভালো উত্তরটিও হিলারির কাছ থেকে আসে। অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হিলারি রাজনীতি থেকে কালো ডলার খেদানোর কথা বলে নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনেন। কারণ হিলারি নিজেও ডার্ক মানির বড় কারিগর, তহবিলের নামে পুঁজির পাহাড় গড়েছেন। সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এ বিতর্কে ট্রাম্প জিতেছেন, হিলারি হেরেছেন কিংবা ট্রাম্প হেরেছেন, হিলারি জিতেছেন এমন যেকোনো মূল্যায়ন দর্শক-শ্রোতা করতে পারেন। কেউ ট্রাম্পের পক্ষে বলবেন, কেউ বিপক্ষে। সিএনএন পরিচালিত তাত্ক্ষণিক জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। সিএনএন এমন ৫৩৭ জন নিবন্ধিত ভোটারের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা বিতর্কটি দেখেছে। তাদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ভোটার হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে এবং ৩৪ শতাংশ বলেছে ট্রাম্পের পক্ষে। প্রথম বিতর্কে ৬২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি। তবে এই বিতর্কের মাধ্যমে কোনো প্রার্থীই নিজেকে মহান বা আকর্ষণীয় প্রমাণ করতে পারেননি। ট্রাম্পের সমর্থকদের জন্য সান্ত্বনা হচ্ছে, ধরাশায়ী হওয়ার বদলে ট্রাম্প উঠে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। তবে শেষ কথা হচ্ছে, পরিস্থিতি ঘোলাটে। অবস্থাটা এমন, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য কাকে ভোট দেবেন, এই প্রশ্নের চেয়েও কাজের প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কার সঙ্গে বিয়ার পান করতে আগ্রহী। তখন অন্তত অ্যালকোহলবিরোধী আন্দোলন ‘টেমপেরান্স মুভমেন্ট’টা দ্বিতীয় জীবন পেতে পারে!

লেখক : ফক্স নিউজ ডটকম ও ফিসক্যাল টাইমসের কলামিস্ট। নিবন্ধটি প্রকাশ

করেছে ফক্স নিউজ


মন্তব্য