kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

জিন ও মানুষ দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করা হবে

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জিন ও মানুষ দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করা হবে

১১৯. তোমার পালনকর্তা যাদের ওপর রহমত করেছেন, তারা ছাড়া (সবাই মতভেদ করতে থাকবে)। এ জন্যই আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন।

‘আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ দ্বারা জাহান্নামকে পরিপূর্ণ করব’—তোমার প্রতিপালকের এ কথা পূর্ণ হবেই। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৯ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, আল্লাহ তাআলা ইমান আনার জন্য কাউকে বাধ্য করেন না। তিনি সত্য ও মিথ্যা বোঝার জন্য মানুষকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়েছেন। নিজের চলার পথ বেছে নেওয়ার জন্য চিন্তার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই যে সত্য পথ গ্রহণ করবে, তার জন্য পুরস্কার আছে। আর যে অসৎ পথে চলবে, তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতের মূলকথা হলো, আল্লাহ এ পৃথিবীকে নিজ অনুগ্রহে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের ওপর তাঁর অনুগ্রহ সবচেয়ে বেশি। তার পরও বেশির ভাগ মানুষ আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে না। তবে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অবশ্যই সঠিক পথে চলে। জিন ও মানুষের মধ্যে যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে, ইহজগতে আল্লাহ তাদের দয়া ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করেননি, বরং তারা দুনিয়ায় কোনো ভালো কাজ করলে তার প্রতিদান দুনিয়ায় দান করে দেন। আল্লাহ কারো ওপর জুলুম করেন না। কিন্তু তাদের জন্য পরকালে কঠোর শাস্তি প্রস্তুত আছে। জাহান্নাম হবে তাদের স্থায়ী ঠিকানা। জাহান্নাম অপূর্ণ থাকবে না। পাপাচারী জিন ও মানুষ দিয়ে আল্লাহ জাহান্নামকে পূর্ণ করে দেবেন।

এ আয়াতে আরেকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মানুষের অস্তিত্ব লাভ করাটাও আল্লাহর অনুগ্রহের ফল। আল্লাহ অনুগ্রহ করে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাদের সুপথে পরিচালিত করার জন্য নবী-রাসুল ও আসমানি গ্রন্থ প্রেরণ করেছেন। মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদতের জন্য। কাজেই পরকালেও যাতে মানুষ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভ করতে পারে, সে চেষ্টা মানুষের থাকা উচিত। আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিবেক দিয়েছেন। দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। এর পরও মানুষ পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হলে, স্রষ্টার অবাধ্য হলে তাকে যে শাস্তি পেতে হবে, তার জন্য তো দায়ী মানুষ নিজেই।

কোরআন শরিফে বহুবার স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে সব মানুষকে একই দ্বীনের অনুসারী বানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। কারণ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি ও দুনিয়ায় মানুষকে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের পরীক্ষার মুখোমুখি করা। তাই আল্লাহ মানুষকে স্বাধীনভাবে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। তিনি ভালো ও মন্দ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ দিয়েছেন। এর মাধ্যমেই পরীক্ষা হয়ে যায়। আল্লাহর পথে চলে  মানুষ জান্নাতবাসী হতে পারে, আবার শয়তানের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ভ্রান্ত কোনো মতাদর্শের অনুসরণ করতে পারে। নিজেকে জাহান্নামের পথে ঠেলে দিতে পারে। এই পরীক্ষার লক্ষ্যেই আল্লাহ কোনো মানুষকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট পথে পরিচালিত হতে বাধ্য করেননি।

 

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য