kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাদাকালো

ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতা চুক্তির রাজনৈতিক তাৎপর্য

আহমদ রফিক

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতা চুক্তির রাজনৈতিক তাৎপর্য

যুগে যুগে সাম্রাজ্য বিস্তারে চাণক্যদের বুদ্ধি, চাতুর্য ও মেধার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করেছে। হোক সে সাম্রাজ্য মধ্যযুগীয় রাজন্যদের বা পরবর্তীকালের ঔপনিবেশিক শক্তির।

অত্যাধুনিককালের অভাবনীয় প্রযুক্তির বিকাশ সত্ত্বেও মেগা-কম্পিউটারকে হার মানায় যে সজীব কম্পিউটার কোষ, তার পরিকল্পনা ও তত্ত্ব নব্য সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য বিস্তারের শক্তিকে কৌশল ও চাতুর্য জোগান দিয়ে থাকে। রাজনীতিবিদের চিন্তায় তাতে শাণ পড়ে।

সবাই জানেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণামে ইঙ্গ-ফরাসি, স্পেনীয়-ডাচ্ উপনিবেশবাদীদের পেছনে ফেলে শক্তির মহড়ায় প্রবল প্রতাপে আবির্ভূত হয় মার্কিন পুঁজিবাদের আধিপত্যবাদী মহাশক্তি। সুকৌশলে তার মহাদেশীয় প্রভাব বিস্তার। বিপরীত মতাদর্শকে কোণঠাসা করতে তার শিবির বিভাজনের নীতি, সামরিক শক্তির সংঘবদ্ধ প্রকাশ আর নানাবিধ সামরিক চুক্তির ধারায় দুর্বল রাষ্ট্রশক্তিকে কবজায় রাখা চিরাচরিত নীতি হয়ে দাঁড়ায়।

ইতিমধ্যে লাল চীনের মতাদর্শিক উদ্ভব, দেশ গড়ার তাগিদে নয়া শক্তির পার্শ্বপরিবর্তন এবং অপেক্ষাকৃত দ্রুতই তার সামরিক ও বাণিজ্যিক শক্তির অভূতপূর্ব বিকাশে প্রতিষ্ঠিত সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির টনক নড়ে। নয়া গণতন্ত্রের আদর্শে নতুন মানুষ ও নয়া বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় বিশ্বজুড়ে যথেষ্ট আকর্ষণ ও প্রভাব সৃষ্টি করে, যা পছন্দ হয়নি সোভিয়েত পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির। ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত এশিয়া-আফ্রিকার কিছু কিছু জাতিরাষ্ট্রের চেষ্টা চলেছে নিজ নিজ শক্তি সংহত করতে।

বিশ্বের রাষ্ট্রশক্তিগুলোর নানা মাত্রিক বিন্যাস যেমন বিভাজন, তেমনি যথেষ্ট জটিলতাও সৃষ্টি করে, শিবির বিভাজন, জোট বিভাজন প্রাধান্য পায়। এর মধ্যে দেখা দেয় উদার গণতন্ত্রীদের দুই শিবিরের বিপরীতে জোটনিরপেক্ষ রাষ্ট্রিক শক্তির সংহত জোট—নেহরু, নাসের, টিটো, সুকর্ণদের নেতৃত্বে, যাঁদের প্রগতিবাদী চরিত্র ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের পছন্দসই ছিল না। এদের সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদের আদর্শিক সংঘাত ছিল এক অবধারিত বাস্তবতা। চীন পরোক্ষে হলেও এদের প্রতি নীতিগত সমর্থন জুগিয়েছে, যদিও পরে নানা টানে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বিশ্ব শাসনে আগ্রহী মার্কিন পরাশক্তি নানাভাবে উঠতি আদর্শিক শক্তিগুলোর বিরোধিতা করেছে। যেমন করেছে সমাজতন্ত্রী শক্তির বিরোধিতা। বিশ্ব প্রভুত্বের টানে জন্ম নিয়েছে নানা বিশ্ববিধান আর সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পতনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমেই শক্তিমান চীনকে ঠেকাতে সভ্যতার সংঘাত বিবেচনায় এসেছে নয়া তত্ত্ব। রাজনীতির ও রাষ্ট্রশক্তির মেরুকরণ ক্রমেই পরিবর্তনমুখী।

দুই.

মোটা দাগের হিসাবে পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ স্থলভাগ ঘিরে রেখেছে এর তিন গুণ আয়তনের বিশাল জলরাশি, বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভূখণ্ড থেকে ভূখণ্ডকে। মানুষ অকুতোভয়। তাই পাড়ি দিয়েছে এই জলরাশি অন্যকে জানতে, কখনো বাণিজ্যিক প্রয়োজনে, কখনো অন্যের ভূখণ্ড দখল করতে। শক্তিমানের উপনিবেশ অধিকাংশ এভাবে অর্জিত। তাই নৌপথের কর্তৃত্ব নিয়ে সংঘাত কম দেখা যায়নি।

সেই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত। সে ক্ষেত্রে প্রভুত্ব কায়েম বড় কথা। অতীত ঐতিহ্য সরিয়ে দিয়ে বলা হয়ে থাকে, বর্তমানে জলপথের প্রভুত্ব তথা নৌ-সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্র নাকি সবার সেরা, সম্প্রতি চীনই সম্ভবত এদিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে—এরপর অন্যরা—রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ইত্যাদি। প্রত্যেকেরই চেষ্টা, জলপথে যথাসম্ভব নিজ নিজ আধিপত্য রক্ষা এবং তার বিস্তার ঘটানো।

পঞ্চাশের দশকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য ও কর্তৃত্ব বিস্তারের লক্ষ্যে সিয়াটো, সেন্টো, বাগদাদ প্যাক্ট নামে অনেক কয়টা সামরিক চুক্তি সম্পাদন করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিয়ে। পরে সেসব ভেস্তে যায়। তখন প্রধান লড়াইটা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। শেষোক্তের সঙ্গে ছিল ইঙ্গ-ফরাসি মিত্ররা।

বেশ কিছুদিন ধরে চীন তার কর্তৃত্ব সংহত করতে সচেতন হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নব্বইয়ের ঘটনাবলির পর একক পরাশক্তি ওয়াশিংটনের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে চীন—অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির বিবেচনায়। অবশ্য সম্প্রতি রাশিয়া তার পূর্ব শক্তি কিছুটা মেরামত করে নিজেকে জানান দিতে শুরু করেছে। চীন-রাশিয়ার অতীত দ্বন্দ্ব এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তবু চীন যে আপন শক্তিমত্তা রক্ষায় সচেতন, নানা ঘটনায় তার প্রমাণ মিলছে। বিশেষ করে সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে তার আধিপত্য রক্ষায় তৎপর চীন।

অন্যদিকে এখন ওয়াশিংটনের বিদেশনীতির প্রধান লক্ষ্য, চীনের প্রতাপ সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখা এবং সেই লক্ষ্যে তাদের তৎপরতা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জোরদার করা। বহুদিনের চেষ্টায় চীনের নিকট-দেশ মিয়ানমারকে কিছুটা কবজায় এনেছে ওয়াশিংটন প্রধানত কথিত গণতন্ত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতায় বসিয়ে। এ অঞ্চলের উঠতি রাজনৈতিক শক্তি ভারত ছিল তাদের পরবর্তী টার্গেট—চীনবিরোধী বলয় সৃষ্টির ক্ষেত্রে।

যে কাজটি সম্পাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয় বছর কয় আগে ভারত-ওয়াশিংটন আণবিক চুক্তির মাধ্যমে। কংগ্রেস সরকার তাদের অতীত জোটনিরপেক্ষতার নীতি ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই প্রাথমিক গাঁটছড়া বাঁধে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও তা সত্য। স্থানীয় বাম রাজনীতির প্রতিবাদ তারা গ্রাহ্য করেনি।

সম্প্রতি অর্থাৎ গত ২৯ আগস্ট (২০১৬) ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে পূর্বোক্ত বন্ধন আরো আঁটসাঁট হলো। এতে অনেক কিছু সহযোগিতার সঙ্গে সামরিক প্রয়োজনে দুই দেশের সেনাবাহিনীকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবার অবশ্য দিল্লির মসনদে হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যাঁকে নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। দৃশ্যত এর ফলে ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতি, বৈশ্বিক নীতির অবসান ঘটল বলা চলে।

ভারত অবশ্য যুক্তিহীনভাবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের মতে, যদিও এর লক্ষ্য ভারতের নিরাপত্তা জোরদার করা। রাজনীতির বিশ্লেষকরা বোঝেন এবং জানেন, চীনকে রুখতেই পেন্টাগনে পূর্বোক্ত চুক্তির বর্ণাঢ্য আয়োজন, যদিও দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরাই এ কাজটি সম্পন্ন করেন। আর ভারত স্বাধীন, জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির অনুসারী হলেও চীনের সঙ্গে তার সম্পর্কটা মসৃণ নয় চীন-ভারত সীমান্তযুদ্ধের পর থেকে। চীনও ভারতকে সুনজরে দেখে না।

স্বভাবতই ভারত তার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক, সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়ায় মহাশক্তি হিসেবে পরিগণিত হতে চাইছে এবং সে সে ক্ষেত্রে নিকটবর্তী সমুদ্রসীমায় চীনের নৌ-সামরিক শক্তি বৃদ্ধি তার রাজনৈতিক-সামরিক স্বার্থের পরিপন্থী। চীনের অন্যতম প্রধান বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠাও যে তার পছন্দের নয়, তা বলাই বাহুল্য। এসব রাজনৈতিক বিবেচনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন। দিল্লি ভেবে দেখেনি যে চীনকে দূরে রাখার মার্কিন নীতির অংশীদার হয়ে তারা বড় শত্রু—অর্থাৎ এক নম্বর সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিকে কাছে টেনে সুবিধাজনক অবস্থানে দাঁড়াতে সাহায্য করছে। তাতে লাভ-লোকসানের পাল্লাটা কোন দিকে ভারী হতে পারে, তা বিবেচনা করে দেখেনি।

উল্লেখ্য, চীন এ চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিরূপতা প্রকাশ করেনি। এটা সম্ভবত চীনা রাজনীতি-কূটনীতির কৌশলী প্রকাশ। বাস্তবে এ চুক্তি চীনের গায়ে লাগবে না—এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন ও দিল্লি দুই-ই চীনের প্রতিপক্ষ, অন্যদিকে পাকিস্তান চীনের মিত্রপক্ষ, যে পাকিস্তান ভারতের চির বৈরী শক্তি হিসেবে পরিচিত।

প্রসঙ্গত, একটি বিষয় বিবেচনার যে ভারতের মিত্র ওয়াশিংটনবিরোধী রাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া কি এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক হবে, বিশেষ করে রাশিয়ার? রাশিয়ার (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সঙ্গে ১৯৭১-এ পাক-ভারত যুদ্ধের আশঙ্কা এবং চীনের সম্ভাব্য ভূমিকার বিবেচনায় তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সামরিক মৈত্রী সম্পাদন করতে হয়েছিল নিতান্তই অবস্থার চাপে। রাশিয়ার সঙ্গে এখনো ভারতের সুসম্পর্ক এবং বর্তমানে চীনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক বৈরিতার নয়। এ চুক্তিকে কী চোখে দেখবে রাশিয়া?

ভারত ভাবছে দক্ষিণ এশিয়ায় তার প্রভাব-প্রভুত্বের কথা, কারো হাত ধরে তাতে যদি শক্তি সঞ্চারিত হয় ক্ষতি কী? তাই বিবেচনা করছে না যে চীনকে ঠেকাতে বা বৃত্তাবদ্ধ করতে। ওয়াশিংটনের নীতি হচ্ছে অনেকটাই কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং তাতে ভারতকে ব্যবহার, যে ভারত বরাবরই সামরিক জোটবদ্ধতার বিরোধী।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিবেচনায় ভারতের স্বাধীন অবস্থান থেকে সরে আসা এবং পার্শ্বপরিবর্তন সন্দেহ নেই যথেষ্ট রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। যে ওয়াশিংটন আপন স্বার্থে মিত্রকে ঝেড়ে ফেলতে দ্বিধা করে না, তার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পাদন ভারতের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে কি না তা ভেবে দেখার মতো। ভারত তার সন্নিহিত অঞ্চলে প্রভাব ও প্রতিপত্তি বাড়াতেই যে এ চুক্তির গাঁটছড়া বেঁধেছে, তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

তিন.

বর্তমান যুগ রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধির, আদর্শের বিষয়টা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। পঞ্চাশের দশক থেকে যে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রাধান্য এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার প্রবলতা লক্ষণীয় ছিল, তা এখন আর তেমন দৃশ্যমান নয়। এমনকি তৎকালীন পূর্ব বাংলার মতো বর্তমান বাংলাদেশেও তা দেখা যাচ্ছে না।

আরো একটি বিষয় স্মরণ করার মতো যে ওই পঞ্চাশ ও সত্তরের দশকেও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল দূর বঙ্গোপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরের কোনো সুবিধাজনক স্থানে মার্কিন নৌ ঘাঁটি স্থাপন, যা স্থানীয় বিরোধিতার কারণে সম্ভব হয়নি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সে আকাঙ্ক্ষা মনে হয় ভবিষ্যতে অপূর্ণ থাকবে না। বর্তমান বিশ্ব মার্কিন স্বার্থনির্ভর শক্তিচালিত এক বগ্গা পথ ধরে চলছে। চীন সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চীনবিরোধিতার প্রশ্নে এ রাজনৈতিক দিকটি বিবেচনার দাবি রাখে। ধর্মীয় নীতিনির্ভর ইরানের কট্টর সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতার বিষয়টিও একই ধারায় কেউ কেউ বিবেচনা করেন। কারণ পুঁজিবাদী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শুদ্ধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও বিশ্বশান্তির প্রবল এক শত্রু। তার আধিপত্যবাদী চরিত্র লক্ষ কোটি লোকের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতাই কাম্য, কোনো প্রকার সহযোগিতা নয়।

বলা বাহুল্য, বর্তমান বিশ্বে রাজনীতির বহুমুখী শক্তির কারণে পরিস্থিতি এত জটিল, এত সংঘাতময় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এখানে শান্তিবাদী বলয় গড়ে তোলা খুবই কঠিন, অসম্ভবই বলা চলে বিশেষ করে নানা স্বার্থের টানাপড়েনের কারণে। এমন এক পরিস্থিতিতে ভারত-মার্কিন সামরিক সহযোগিতা চুক্তি ওয়াশিংটনের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থেরই প্রসার ঘটাবে, ‘এশিয়া ঘেরাও’ পরিকল্পনার মাধ্যমে। তাতে এশিয়ার স্বার্থ বিঘ্নিত হবে, সন্দেহ নেই।

বাংলাদেশ এ ঘেরাটোপের বাইরে থাকতে পারবে বলে মনে হয় না। কারণ একদিকে ভারতের সঙ্গে এখন বাংলাদেশের নিঃস্বার্থ ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে সে মার্কিন করপোরেট পুঁজি ও নানা মাত্রিক রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। সেখান থেকে মুক্ত, স্বাধীন অবস্থান, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান গ্রহণের কোনো প্রকার আলামত দৃশ্যমান নয়। পঞ্চাশের বা সত্তরের বাংলার একি অদ্ভুত পরিণতি!

লেখক : কবি, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী


মন্তব্য