kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যুক্তরাষ্ট্রে অপশক্তি ঠেকানোর এটাই যথার্থ সময়

গাজীউল হাসান খান

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রে অপশক্তি ঠেকানোর এটাই যথার্থ সময়

উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্ক আর সময়োপযোগী সফল রাষ্ট্র পরিচালনা এক নয়। এ কথা অনস্বীকার্য যে যুক্তরাষ্ট্র আজ মুক্তবিশ্বের নেতৃত্বদানকারী প্রধান শক্তিশালী দেশ।

এ শক্তি শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, অর্থনীতি, বাণিজ্য, রাজনীতি, কূটনীতি এবং শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক থেকেও। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনার জন্য তাই সঠিক ও যোগ্য নেতা নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এত হইচই হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র মূলত অভিবাসী বা বহিরাগতদের একটি দেশ। এতে বহু বর্ণ, সম্প্রদায় ও ভাষাভাষী মানুষের সমাবেশ ঘটেছে। সে কারণেই তাদের দাবিদাওয়া এবং জীবনের চাহিদাও ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিক থেকে এ দেশের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের নির্বাচন করাও সহজ নয়। তদুপরি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একজন শক্তিশালী ও যোগ্য শাসক নির্বাচন করা বহু বিচার-বিবেচনার দাবি রাখে। ৫০টি রাজ্যে বিভক্ত প্রায় ৩২ কোটি মানুষের এবং বিশাল দেশটিতে প্রেসিডেন্ট তখনই সংখ্যাগরিষ্ঠ সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারেন, যখন তিনি হন সৎ, যোগ্য, প্রতিভাবান ও দূরদর্শী। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী যথাক্রমে হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের যোগ্যতা যাচাই উপলক্ষে আয়োজিত প্রথম সরাসরি বিতর্ক নিউ ইয়র্কের হোফসট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভা মঞ্চে ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম প্রভাবশালী নারী প্রার্থী হিসেবে অবশ্যই হিলারি ক্লিনটন যথেষ্ট আলোচনার সূত্রপাত করেছেন। তা ছাড়া শিক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকেও তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে অনেক এগিয়ে। তার পরও এ প্রধান দুই প্রার্থীর প্রতিও বিশাল নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে বহু ভোটারের। ভোটারদের একটি ব্যাপক অংশের মধ্যে এই দুই প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা অত্যন্ত কম। যদিও জনমত যাচাইয়ে সারা দেশের হিসাবে হিলারি ক্লিনটন এখনো ডোনাল্ড  ট্রাম্প থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন, তবুও শ্বেতাঙ্গদের ৫৩ শতাংশ ট্রাম্পকে এবং মাত্র ৩৭  শতাংশ হিলারিকে সমর্থন করছে। তা ছাড়া ৬৯ শতাংশ অশ্বেতাঙ্গ হিলারিকে সমর্থন করে। তবে নারী ভোটারদের ৫৭ শতাংশ হিলারিকে সমর্থন দিয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে এখনো অনেকে প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন মুলুক কী এ মুহূর্তে একজন নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত? যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পশ্চিমা দেশে এ প্রশ্ন অনেকটা অবান্তর হলেও শিক্ষাদীক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারির শারীরিক অবস্থা ও STAMINA (পরিশ্রমাদি সহ্য করার শক্তি) নিয়ে একটি শক্ত প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়স প্রায় ৭০ এবং হিলারি ৬৮, তবুও ট্রাম্প নারী হিসেবে এবং বর্তমান বয়সে প্রেসিডেন্টের মতো দায়িত্বপূর্ণ ও কঠোর পরিশ্রমের একটি কাজ হিলারি নিতে পারবেন কি না তা নিয়ে বিতর্ক সভায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট ওবামা থেকে শুরু করে অনেকেই ট্রাম্পকে Temperamentally (অত্যন্ত উত্তেজনাপ্রবণ, মেজাজী ও মানসিক দিক থেকে অশান্ত) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য অনুপযুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। অবৈধ, বহিরাগত এবং জঙ্গিবাদী মুসলমানদের ঠেকানোর জন্য ট্রাম্প সম্প্রতি অনেক বিতর্কিত ও গরম গরম কথা বলেছেন। তা ছাড়া হুমকি দিয়েছেন মেক্সিকো সীমান্তজুড়ে সুউচ্চ প্রাচীর নির্মাণ করার। তাতে অতি সাধারণ শ্বেতাঙ্গসহ কিছু সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা কিছুটা বেড়ে যায়। হিলারি ক্লিনটন যেখানে তাঁর তুলনায় ১০ থেকে ১২ ভাগ এগিয়েছিলেন, সেখানে সে ব্যবধান ঘুচে ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে যেসব গরম গরম কথা বলেছিলেন, এখন আর তেমনটা বলেন না। তিনি তাঁর অতীত অবস্থান থেকে দলগত চাপে এবং তাঁর পরামর্শদাতাদের অনুরোধে ক্রমে ক্রমে সরে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ে অতীতে ট্রাম্প যা বলেছেন, এখন সেসব কথাবার্তা ঘুরিয়ে ফেলেছেন।

হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারাভিযান মূলত সাধারণ নাগরিকদের জন্য বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আরো  কার্যকরভাবে তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করা নিয়ে। বিশেষ সুবিধাভোগী উচ্চ শ্রেণি বা ধনিক শ্রেণির ওপর কর বৃদ্ধি করাসহ ব্যাংকিং ও বাণিজ্য খাতকে পুনর্বিন্যাস করা হিলারির উদ্দেশ্য। তা ছাড়া সাইবার সংকট ও আইসিস মোকাবিলা ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি বলেছেন, তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় প্রায় ৩৫ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়ে যাবে বলে তাঁর সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন। তা ছাড়া ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন হিলারি। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প তাঁকে অনুসরণ করছেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ধার না ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মনগড়াভাবে যখন যেমন খুশি পশ্চিমা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ন্যাটো থেকে চীনের সঙ্গে বহির্বাণিজ্য কিংবা বিশ্ব আবহাওয়া ও পরিবেশবিষয়ক চুক্তি বা ঘোষণাকে বদলে ফেলতে চান। তিনি বুঝতে পারেন না উল্লিখিত বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক কোটির  বেশি অবৈধ বহিরাগতকে বের করে দেওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সীমান্তজুড়ে প্রায় দুই হাজার মাইলব্যাপী তাঁর একতরফা সুউচ্চ দেয়াল নির্মাণ করার ঘোষণার মতো নয়। তিনি যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে তেমন বিশেষ জ্ঞান রাখেন না, তাও তাঁর জানা নেই। অশিষ্ট আচরণ, গোঁয়ার্তুমি, বর্ণবাদী মনোভাব ও গোঁড়ামি দিয়ে নিম্নমান ও শ্রেণির শ্বেতাঙ্গদের সাময়িকভাবে মন জয় করা গেলেও অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো সমস্যারই সমাধান খুঁজে বের করা যাবে না। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব নিয়ে মুক্তবিশ্বের নেতৃত্বদানকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন কোনোমতেই সম্ভব নয় বলে তথ্যাভিজ্ঞরা মনে করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু ঘোষণা এরই মধ্যে তাঁর দাম্ভিকতা ও মানসিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ও ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এবং নেতৃস্থানীয় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম ‘এনবিসি’ ও ‘সিএনএন’ উল্লিখিত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর চিন্তা-চেতনার অসামঞ্জস্যতা বারবার তুলে ধরেছে। তা ছাড়া তাঁর রিপাবলিকান দলীয় অনেক প্রভাবশালী নেতানেত্রী ও ব্যক্তিত্ব আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বদলে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। শিক্ষিত তরুণ রিপাবলিকানদের কারো কারো মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকটা গায়ের জোরে তাদের দলটিকে ‘হাইজ্যাক’ করেছেন। তা ছাড়া আরো অনেকের মতে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো অভিজ্ঞতা কিংবা যোগ্যতা তাঁর মোটেও নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগে গত সোমবারের বিতর্ক সভাটি আয়োজিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে আরো দুটি বিতর্ক সভা আয়োজন করার কথা রয়েছে। ট্রাম্প এখন তাঁর নিজস্ব ট্যাক্স রিটার্ন ও অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে অতীতে তাঁর দেউলিয়াত্ব, তাঁর সুন্দরী স্ত্রীদের এবং তাঁর নিজস্ব চরিত্র ক্রমেই জনসমক্ষে উদ্ভাসিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ওবামার নাগরিকত্ব নিয়ে এখন আর কথা বলেন না ট্রাম্প। তবে হিলারি যাতে এসব বিষয়ে আর অগ্রসর না হন, সে জন্য তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অবৈধ প্রেম ও বিভিন্ন যৌন সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া রয়েছে হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল গায়েব করা-সংক্রান্ত অতি সংবেদনশীল বিষয়টি। রয়েছে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের জন্য হিলারির অর্থ সংগ্রহ-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিসহ আরো অনেক কিছু। এগুলোই হচ্ছে হিলারির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ অস্ত্র। অথচ দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য গঠনশীল ক্ষেত্রে তাঁর নেই সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা। তিনি নির্বাচিত হলে আইসিসের পতন ঘটাবেন, কিন্তু কিভাবে, তা তিনি এখনো প্রকাশ করেননি। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্প বহু কথা বলেছেন কিন্তু কিভাবে তার পুনর্বিন্যাস করবেন তার কোনো নীলনকশা তিনি এখনো ঘোষণা করেননি। উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি, ইলিনয় (শিকাগো) ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জনসংখ্যাধিক্যের রাজ্যগুলোতে হিলারির ডেমোক্রেটিক পার্টির রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন। সে রাজ্যগুলোতে ইলেকটোরাল কলেজের ভোটও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে একজন প্রার্থীকে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে কমপক্ষে ২৭০টি পেতেই হবে। সে নিশ্চয়তা মোটামুটি হিলারি ক্লিনটনের রয়েছে। জনসংখ্যা অনুপাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের রয়েছে ৫৫টি, টেক্সাসের ৩৮টি, নিউ ইয়র্কের ২৯টি, ফ্লোরিডার ২৯টি, ইলিনয়ের ২০টি এবং প্যানসিলভানিয়ার ২০টি করে ইলেকটোরাল ভোট। হিলারি উল্লিখিত রাজ্যগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলে ইলেকটোরাল কলেজের সবগুলো ভোটই তার পক্ষে যাবে। তা ছাড়া সর্বাধিক ভোট পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থী পরাজিত হতে পারেন, যদি না তিনি কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজের ভোট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনা, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইয়ো এবং ভার্জিনিয়া রাজ্যে প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর ভোটপ্রাপ্তির ব্যাপারে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের মধ্যে বেশ তারতম্য ঘটে থাকে। সে কারণে এ রাজ্যগুলোকে বলে swing states বা দোদুল্যমান ও পরিবর্তনশীল রাজ্য। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ রাজ্যগুলোতে ভোট আদায়ের ব্যাপারে সার্থক হয়েছিলেন বলেই পাস করতে পেরেছেন। এ রাজ্যগুলোর মধ্যে ওহাইয়োতে জিততে না পারলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ থাকবে না। সে কারণেই হিলারির হয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ওহাইয়োসহ উল্লিখিত রাজ্যগুলোতে ঘোরাফেরা শুরু করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারি ক্লিনটনকে বিশ্ব পর্যায়ের একজন মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত করেছেন। বলেছেন, ই-মেইল কেলেঙ্কারি বা জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর জেল হওয়া উচিত। কিন্তু এসব অভিযোগ কিংবা পাল্টা অভিযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত হিলারিকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন। কারণ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে এবং নির্বাচনী জোয়ার যখনই জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রবল হয়ে উঠবে, তখন ভোটাররা দেখবে কে ক্ষমতায় এলে সার্বিকভাবে তাদের লাভ হবে, দেশের মঙ্গল হবে। নব্বইয়ের দশকের গোড়া থেকে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা হিলারি ক্লিনটন অত্যন্ত তীক্ষ্ন বুদ্ধিসম্পন্ন এবং ঠাণ্ডা মাথায় দাবার চাল দেওয়ার মতো মহিলা। নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত প্রথম বিতর্ক সভাতেই হিলারি তাঁর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। ৯০ মিনিট বিতর্কের সময়ের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক হিলারি ট্রাম্পকে সুযোগ দিয়েছেন। তারপর নিজের মর্যাদা রক্ষা করে কণ্ঠস্বর ও চেহারা স্বাভাবিক রেখে ট্রাম্পকে কৌশলগত আক্রমণে কোণঠাসা করেছেন। শুষ্ক কণ্ঠে ট্রাম্প তখন তর্জন-গর্জন ছেড়ে দিয়ে রক্ষণভাগে চলে গিয়েছিলেন পরাজয় ঠেকাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। হিলারি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সংক্ষিপ্ত, যৌক্তিক ও যথাযথ পরিমিতিবোধ নিয়ে, রাষ্ট্রনায়কোচিত বা প্রজ্ঞাবান কূটনীতিকের মতো। জাতীয় নিরাপত্তা, বাণিজ্য কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে হিলারি কোনো উচ্চকণ্ঠ বিতর্কে যাননি। প্রথম বিতর্কের ঠিক অগ্রভাগে ‘দি নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক সম্পাদকীয়তে হিলারি ক্লিনটনের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে আবার বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনায় ট্রাম্পের কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। গোঁড়ামি, চিন্তা-চেতনাহীন গলাবাজি ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বেশি দিন বোকা বানানো যায় না। এখন থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত হিলারির জনসমর্থন ক্রমে ক্রমে অনেক বেড়ে যেতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। হিলারির পাশে রয়েছেন দুজন সফল মার্কিন প্রেসিডেন্ট—একজন তাঁর স্বামী বিল ক্লিনটন ও অন্যজন বারাক ওবামা। তা ছাড়া সাবেক রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশসহ (সিনিয়র) অনেকে বলেছেন, তাঁরা হিলারির পক্ষে ভোট দেবেন। কারণ অনেকের মতে শাসনক্ষমতা, রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনভিজ্ঞ ট্রাম্পের হাতে নিরাপদ নয়। এখন দেখা যাক, বাকি দিনগুলোতে হিলারি কিভাবে এগোন। তাঁর সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনায় এখন অধিক আগ্রহশীল।

লেখক : ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাবেক মিনিস্টার (প্রেস ও তথ্য), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার  সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক

gaziulhkhan@gmail.com

 


মন্তব্য