kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জনকের হাচু এখন জগৎ-বিস্ময়, শুভ জন্মদিন

আবদুল মান্নান

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জনকের হাচু এখন জগৎ-বিস্ময়, শুভ জন্মদিন

বাবা শেখ মুজিব আদর করে বাড়ির বড় সন্তানকে ডাকতেন কখনো ‘হাচু’ বলে, আবার কখনো ‘হাচিনা’। শুদ্ধ করে ডাকলে হতো ‘হাসিনা’।

আবহমান বাংলার মা-বাবারা সন্তানদের আদর করে ডাকতে অভ্যস্ত। তাই মূল নামটা হয়ে যায় একটু আদুরে। কখনো কখনো মূল নামের সঙ্গে তার মিলও থাকে না। যেমন শেখ মুজিব মা-বাবার কাছে পরিচিত ছিলেন খোকা হিসেবে। সেই শেখ মুজিব একদিন হয়ে গেলেন ‘বঙ্গবন্ধু’, মানে বাংলার বন্ধু। সেই বঙ্গবন্ধু একদিন হয়ে উঠলেন ‘জাতির জনক’। সেই জাতির জনককে সপরিবারে পাকিস্তানিদের বন্ধুরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যা করল। বিদেশে অবস্থানের কারণে বেঁচে গিয়েছিলেন তাঁর দুই কন্যা, তাঁর হাচু আর রেহানা। সেই হাচু বর্তমানে বাংলাদেশের সফলতম প্রধানমন্ত্রী—বিশ্ব তাঁকে চেনে শেখ হাসিনা নামে। দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি জননেত্রী। তিনি যখন বাংলাদেশের বাইরে তাঁর নাম তেমন একটা কেউ জানতেন না। এখন শুধু জানেন না, তাঁকে সম্মান করেন, কথা বললে মনোযোগ দিয়ে শোনেন। নিজেদের বক্তৃতায় তাঁকে উদ্ধৃত করেন। স্বীকার করেন মহিলার হাতে জাদু আছে। বিশ্বে তিনি স্বীকৃত একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন জরিপ করে বলেছে, শেখ হাসিনা বিশ্বের ৪৭তম ক্ষমতাধর নারী। আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন অনেক। অনেকে মনে করেন, শেখ হাসিনার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়াটা এখন সময়ের দাবি। শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার না পেলে তেমন কিছু একটা আসে-যায় না। মহাত্মা গান্ধী একাধিকবার এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। পাননি। হিটলারকেও মনোনীত করা হয়েছিল একবার। বিশ্বশান্তিকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। তিনি কিন্তু এই পদকে ভূষিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রথমবার ক্ষমতায় যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় নোবেলপ্রাপ্ত হয়েছেন এই প্রত্যাশায়—তাঁর শাসনামলে বিশ্বটা একটু শান্ত হবে। ঠিক উল্টোটাই হয়েছিল তাঁর আট বছরের শাসনামলে। রাজনৈতিক নেতা হতে পারাটা অনেক সহজ। রাষ্ট্রনায়ক হতে হলে দূরদৃষ্টি থাকতে হয়। সময়ের দাবিকে সম্মান করে দেশের জন্য ঝুঁকি নিতে হয় কখনো কখনো। শেখ হাসিনা তা অনেকবার নিয়েছেন। দেশের স্বার্থে জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন। তাঁর কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। সেই জননেত্রীর আজ ৭০তম জন্মদিন। এই দিনে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা।

১৯৯৪ সালে জাতীয় শোক দিবসে টুঙ্গিপাড়া গিয়েছিলাম জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। মধুমতী নদীর পাশ দিয়ে আঁকাবাঁকা সরু পথ দিয়ে যেতে হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ তখন মধুমতী। দুই পারে কাশবন। একটি নদী যে এত সুন্দর হতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস হয় না। মধুমতী এখন অযত্ন-অবহেলায় অনেকটা মৃত। সেই মধুমতী নদীর অনতিদূরে দেশভাগের এক মাসের মাথায় টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মেছিলেন মা-বাবার আদরের হাচু, হাচিনা আর আজকের শেখ হাসিনা। যাঁরা শেখ হাসিনার কাছে গিয়েছেন তাঁরা স্বীকার করবেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা আক্ষরিক অর্থে কখনো শহুরে হাইফাই মেয়ে বা মহিলা হতে পারেননি। সিফন শাড়ি পরিহিত, চোখে দামি সানগ্লাস আর পায়ে বিদেশি হাইহিল পরা একজন শেখ হাসিনাকে কল্পনা করা অসম্ভব। কাছে গেলে মনে হবে তিনি বাড়ির বড় বুবু অথবা ছোট ফুফু। এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এক বালিকা তো তাঁকে দাদি বলেই সম্বোধন করল। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিবেশী ছিলেন কবিতা শর্মা, বর্তমানে ড. কবিতা শর্মা, দিল্লির সাউথ এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট (উপাচার্য)। তিনি একবার আমাকে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা সপরিবারে তাঁদের প্রতিবেশী হওয়ার অনেক পরে তাঁরা তাঁদের প্রতিবেশী সম্পর্কে জেনেছিলেন। তিনি শেখ হাসিনাকে কখনো কখনো বাজারে যেতেও দেখেছেন। পরিচয় হয়েছিল অনেক পরে। শেখ হাসিনার অনাড়ম্বর জীবনযাত্রা দেখে তিনি চমত্কৃত হন। কর্মসূত্রে ড. শর্মার সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমার কাছে জানতে চান, কেমন আছেন তাঁদের সেই প্রতিবেশী? বলি, তিনি দিনরাত পরিশ্রম করছেন বাবার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য। ড. শর্মা আমাকে জানান, দিল্লিতে থাকতে তিনি শেখ হাসিনাকে প্রায়ই বিষণ্ন দেখলেও তাঁর চোখে-মুখে একধরনের দৃঢ়তার ছাপ লক্ষ করতেন। তাঁকে বলি, বর্তমানে তাঁর সেই দৃঢ়তা শুধু বাড়েইনি বরং তিনি সেই দৃঢ়তাকে দেশের প্রয়োজনে দুঃসাহসে রূপান্তর করতে পিছপা হননি।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শেখ হাসিনা, তাঁর স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া ও পরিবারকে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন। দেশের সঙ্গে যোগাযোগটা তত সহজ ছিল না। শুধু জানতেন যারা এক রাতেই তাঁর পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল তারাই ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে শাসন করছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার দেশে ফেরা নিষিদ্ধ। যে দলের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেই আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ হয়েছে। দলের কিছু নেতা যাদের বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, তারা ঘাতকদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। দল অনেকটা ছত্রভঙ্গ। বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজনদের কয়েকজন দলকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর রক্তের কোনো উত্তরাধিকার যদি দলের হাল ধরেন তাহলে কাজটা কিছুটা হলেও সহজ হতে পারে। তেমন উত্তরাধিকার আছে তো মাত্র দুজন। তার মধ্যে ছোটজন শেখ রেহানা একেবারেই বালিকা। বাকি বড়জন, শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সেই শেখ হাসিনাকেই সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দলের সিনিয়র নেতারা ছুটলেন দিল্লিতে তাঁদের নতুন সভাপতিকে দেশ ফিরিয়ে আনতে। ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে এক বৃষ্টিস্নাত বিকেলে সব হারানো বঙ্গবন্ধুকন্যা ফিরে আসেন দেশের মাটিতে। সেদিন কত মানুষ তেজগাঁও বিমানবন্দর অথবা ঢাকা শহরের রাস্তায় বঙ্গবন্ধুকন্যাকে একনজর দেখার জন্য সমবেত হয়েছিল, তা শুধু অনুমানের বিষয় হতে পারে। সম্পূর্ণ পরিবার হারানো আক্ষরিক অর্থে একজন নিঃস্ব মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক ভারসাম্য হারানোটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দেশে ফিরে শেখ হাসিনা তাঁর মনের ভেতরের রক্তক্ষরণের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে তাঁর প্রবাদতুল্য দৃঢ়তার স্বাক্ষর হিসেবে হাল ধরেছিলেন দেশের ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন ঘাতকদের সমুচিত জবাব তখনই দেওয়া হবে যখন দলকে পুনর্গঠন করে তাকে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা হবে। সময় ও পরিবেশ-পরিস্থিতির বিচারে তা তখন প্রায় অসম্ভব ছিল। সেই প্রায় অসম্ভব কাজটাকেই শেখ হাসিনা সম্ভব করেছিলেন দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ২১ বছর পর, যা বিশ্বের ইতহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। কেমন ছিল শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরবর্তী সময়, তা বোঝা যায় তাঁকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াতেই। বাড়ির সামনের রাস্তায় বসে তাঁকে পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ পড়তে হয়। অথচ যে জেনারেল জিয়া তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় তাঁকে বঙ্গবন্ধু নিজ সন্তানের মতো স্নেহ করতেন।

এরশাদ পতনের পর এটি স্বাভাবিক ছিল, আওয়ামী লীগেরই একমাত্র সক্ষমতা আছে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় যাওয়ার। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনায় নানা ধরনের ভুল আর অতিমাত্রায় আত্মসন্তুষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বিচলিত হয়েছিলেন সত্য, কিন্তু হাল ছেড়ে দেননি। এমনকি তিনি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগের মতো দুঃসাহসী সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। পিতার মতো কোনো পদ-পদবি তাঁর কাছে কখনো বড় মনে হয়নি। তিনি আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনাই থাকতে চেয়েছিলেন। দলের নেতাকর্মী আর দেশের সাধারণ মানুষের দাবির মুখে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। নতুন করে আবার তিনি দলের হাল ধরেন। তাঁর একাগ্রতা, নিরলস পরিশ্রম, আত্মপ্রত্যয় আর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি দলকে বিজয়ী করে অন্য কয়েকটি দলের সমন্বয়ে মহাজোট সরকার গঠন করেছিলেন। সেই থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যার নতুন পথচলা শুরু। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের মানুষের চাহিদার মাত্রাটা আকাশচুম্বী হয়, যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। যে দলের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়, সেই দলের কাছেই তো মানুষের প্রত্যাশা থাকবে। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা নিয়োগ পেয়েছিল তাদের অন্যতম যোগ্যতা ছিল তারা হয় আওয়ামী লীগবিরোধী হবে অথবা পাকিস্তানপ্রেমী। সেই প্রশাসন দিয়ে দেশ পরিচালনা বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্য বেশ কঠিনই ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেছিলেন। হারিয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে তিনি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন। কিছুটা সফলও হয়েছিলেন। শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার। বিচারিক আদালতে তা শেষ হয়েছিল, যা ২০০১ সালে বেগম জিয়া ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়টা ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল। সেই ধাক্কাও শেখ হাসিনা সামলে উঠতে পেরেছিলেন একমাত্র তাঁর দৃঢ়তার কারণে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা একজন লড়াকু সেনাপতির মতোই সংসদ ও সংসদের বাইরে শত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তাঁকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। তাঁর নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন দিয়ে তাদের নেত্রীকে সেদিন রক্ষা করে। নিজের জীবন দিয়ে একটি দলের প্রধানকে রক্ষা করার নজির বিশ্বের ইতিহাসে তেমন একটা নেই।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত সরকার ক্ষমতা দখল করে শেখ হাসিনাকে গৃহবন্দি করলে তাঁর দলের কর্মীরাই রাজপথে তাঁর মুক্তির দাবিতে আবার নেমে আসে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান (পরে রাষ্ট্রপতি), যিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী আইভি রহমানকে হারিয়েছেন, তাঁর ধূলিমাখা কালো কোটটা গায়ে চাপিয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন, যেখানে বিচারের নামে প্রহসন চলছিল। সেই দৃশ্য যিনিই দেখেছেন তিনি সেদিন অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অনেকটা অবধারিত ছিল; কারণ ২০০১-০৬ সালের বেগম জিয়ার চারদলীয় জোট সরকারের দুঃশাসন আর পাপের বোঝা। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তিনি শুধু হাতই দেননি, সেই বিচারের মহামান্য আদালত কর্তৃক দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করতেও পিছপা হননি। জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক চাপ ছিল বিচার বন্ধ করার অথবা রায় বাস্তবায়ন না করার। আবারও বঙ্গবন্ধুকন্যার দৃঢ়তার বিজয় হয়। এবার বঙ্গবন্ধুকন্যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে দেওয়া পিতার ভাষণের সূত্র ধরে বলেছিলেন, ‘শান্তির প্রতি যে আমাদের পূর্ণ আনুগত্য, তা এই উপলব্ধি থেকে জন্মেছে যে একমাত্র শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই আমরা ক্ষুধা, দারিদ্র্য, রোগ-শোক, অশিক্ষা ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্য আমাদের সব সম্পদ ও শক্তি নিয়োগ করতে সক্ষম হব। ’ বিশ্ব সম্প্রদায়কে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিশ্বায়নের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘একই সঙ্গে এদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী ও প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করতে হবে। ’ আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে যাদের দৃষ্টি আছে তাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না, এসব কথা যুক্তরাষ্ট্রের বেলায় ১০০ ভাগ প্রযোজ্য। তিনি সাহসের সঙ্গে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়েই এই সত্য কথা কটি অকপটে বলেছেন। এটি একজন শেখ হাসিনার পক্ষেই সম্ভব। বিশ্বকে বলেছেন জঙ্গিবাদ দমনে তাঁর সরকারের সাফল্যের কথা।

শেখ হাসিনার মানবিক গুণাবলি প্রবাদতুল্য। একবার বিদেশে যাত্রাকালে তাঁর সফরসঙ্গী মহিলা চেম্বারের এক নেত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেই মহিলার মাথা কোলে নিয়ে সেবা-শুশ্রূষা শুরু করে দেন। কোনো একজন শিল্পী, খেলোয়াড় কিংবা সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক—কেউ অসুস্থ হলে ছুটে যান তাঁর কাছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার খুলে দেন তাঁদের চিকিৎসার জন্য। চতুর্থ শ্রেণির স্কুলপড়ুয়া বালক শীর্ষেন্দু পটুয়াখালী থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখে তাদের গ্রামের পায়রা নদীর ওপর একটা সেতু চেয়ে, কারণ স্কুলে যেতে তাদের কষ্ট হয়। বিদেশে অবস্থান করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষেন্দুকে চিঠি লিখে জানান, তৈরি করে দেবেন তিনি সেই সেতু। এমন একজন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী কোথায় পাওয়া যাবে? বঙ্গবন্ধুকন্যা বিয়েশাদি করে সংসার পেতেছিলেন। হয়তো চিন্তা করেছিলেন, ছেলেমেয়ে মানুষ করেই বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন। কিন্তু ইতিহাস তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে টেনে এনেছে। ১৯৮১ সালের পর তিনি দেশের রাজনীতির ইতিহাসের গতিধারা পাল্টে দিয়েছেন। হয়ে উঠেছেন ইতিহাসের নন্দিত কন্যা। টুঙ্গিপাড়ার হাচু, হাচিনা, শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের একজন স্বীকৃত সফল রাষ্ট্রনায়ক। ইতিহাসকন্যাকে এই দিনে অভিনন্দন। জয়তু শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুকন্যা।

 

লেখক : গবেষক ও বিশ্লেষক
 


মন্তব্য