kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাল বিতর্কে কে জিতবেন ট্রাম্প না হিলারি?

নিক অ্যালেন

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কাল বিতর্কে কে জিতবেন ট্রাম্প না হিলারি?

প্রথম নির্বাচনী বিতর্ক নিয়ে টান টান উত্তেজনা এখন যুক্তরাষ্ট্রে। সমর্থকরা উদ্বেগে।

কে জিতবেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম বিতর্কে? হিলারি, নাকি ট্রাম্প? আগামীকাল ২৬ সেপ্টেম্বর সোমবার নিউ ইয়র্কের হফস্ট্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই দ্বৈরথ।

অঙ্কের হিসাব বলছে, হিলারি ক্লিনটন প্রতিদ্বন্দ্বীকে তুলাধোনাই করবেন। কারণ তাঁর ঝুলিতে আছে প্রেসিডেন্ট ও সিনেট প্রার্থী হেসেবে ৪০টিরও বেশি বিতর্কে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা। ২০০৮ সালে ডেমোক্রেটিক দলের প্রাইমারি ডিবেটগুলোতে তিনি বারাক ওবামার চেয়েও ধারাবাহিকভাবে ভালো করছিলেন।

চলতি বছর তাঁর ডেমোক্রেটিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে বিতর্কে কাবু করতে পারেননি। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী বিতর্কের পরীক্ষায় পড়েছেন এক বছরও হয়নি। বিভিন্ন অনলাইন জরিপ ট্রাম্পকে এসব বিতর্কে বিজয়ী হিসেবেই দেখিয়েছে। তবে বাস্তবে ট্রাম্প একই কথা ঘুরিয়ে-প্যাঁচিয়ে বলেছেন। নীতিনির্ধারণী অনেক বিষয়ের গভীরে ঢুকতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

তাহলে কি হিলারি সত্যিই ধরাশায়ী করতে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষকে? নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। মিসেস ক্লিনটন অনেককেই বিতর্কে সামাল দিয়েছেন, এ কথা সত্যি। সেই সঙ্গে এও সত্যি, তাঁদের কেউই ‘মিস্টার ট্রাম্প’ ছিলেন না।

বিতর্ককে যদি আমি পরীক্ষা হিসেবে ধরি, হিলারি ‘এ’ পাবেন, এমনকি ‘এ প্লাস’ও পেতে পারেন। কিন্তু ক্লাসের সবচেয়ে চালাক ছাত্রটি সবচেয়ে জনপ্রিয় কি কখনো হয়?

আরেকটি প্রশ্ন। ট্রাম্পের সবচেয়ে কার্যকর কৌশল কী হতে পারে?

আক্রমণ। এ কাজটা তিনি ভালো পারেনও। তিনি ‘লায়ার’, ‘ক্রোকড’—এ-জাতীয় শব্দগুলো হিলারির বিরুদ্ধে বেশি বেশি ব্যবহার করবেন, যাতে প্রতিপক্ষকে অনির্ভরযোগ্য, অনাস্থাভাজন প্রমাণিত করা সহজ হয়।

সাধারণ মানুষ জানে, ট্রাম্প সীমান্তে দেয়াল দেওয়ার পক্ষে। তিনি অবৈধ অভিবাসীদেরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে খেদাতে চান। এ বিষয়গুলো নতুন করে বারবার সামনে আনার দরকার তার নেই। তাঁর চেষ্টা থাকবে এমনভাবে হিলারিকে ছোট করে তোলা, যাতে তাঁর (হিলারি) দিক থেকে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

হিলারির শারীরিক সমস্যা সামনে এনে কনসপিরেসি থিওরির সুবিধা নেওয়ার চেষ্টাও হয়তো করবেন ট্রাম্প। তিনি বলে উঠতে পারেন, ‘আজ রাতে কেমন বোধ করতে যাচ্ছেন হিলারি?’ তাতে বেশি কিছু না হোক, কোনো কোনো দর্শকশ্রোতাকে বিভ্রান্ত করা যেতে পারে।

হেসে মঞ্চ থেকে বিদায় নিতে চাইলে ট্রাম্পকে কী কী বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে? উত্তরটি হচ্ছে বাক্য ব্যবহারে সংযম। যৌনতার ইঙ্গিতবাহী কোনো মন্তব্য করা যাবে না। মারমুখী হওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে।

আর ট্রাম্পের কি বিশেষ কোনো ট্রাম্পকার্ড আছে, তুরুপ মেরে খেলায় জিতে যাবেন?

আছে, আর কার্ডটি ভালোই স্ট্রং। একটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত, বিতর্কের কোনো এক মুহূর্তে ট্রাম্প হিলারি ক্লিনটনের চোখে চোখ রাখবেন এবং এ-জাতীয় কথা বলবেন, ‘হিলারি, আপনি এমনটাই দুর্নীতিগ্রস্ত, আপনাকে আমি আমার বিয়েতে আসার জন্য অর্থ দিয়েছিলাম। ’ আর এমন প্রশ্নের ঠোঁটকাটা জবাব বের করা হিলারির পক্ষে সহজ হবে না।

আমেরিকার তরুণ প্রজন্মের কাছে হিলারি ক্লিনটন একজন রহস্যময় ব্যক্তিত্বের মানুষ। তিনি খোলামেলা কথা বলেন না। তাঁর কাজে স্বচ্ছতা নেই। যদিও মঞ্চে উঠে তিনি হাসেন, বাস্তব জীবনে তাঁর মুখে বেশির ভাগ সময় হাসি থাকে না। অনেকের কাছেই তিনি একজন ঝানু আমলা, মিশুক রাজনীতিবিদের ইমেজ তিনি গড়তে পারেননি।

ট্রাম্পের চরিত্র তাঁর একেবারে উল্টো। কথায় ট্রাম্প খোলামেলা। রাখঢাক নেই। চুলের বিন্যাস থেকে  ভাষায়, আচার-ব্যবহারে তিনি কমেডিয়ান। আর কমেডি মার্কিন জাতি পছন্দও করে।

আরো একটি প্রশ্ন এখন আলোচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিতর্কের দ্বৈরথের জন্য কিভাবে তৈরি হচ্ছেন হিলারি ও ট্রাম্প? ২০০৪ সালের নির্বাচনে জর্জ ডব্লিউ বুশকে বিতর্কে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন ব্রেট ও’ ডোনেল। গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘উপস্থাপনার বিষয়টি এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। হিলারিকে এ নিয়ে চর্চা করতে হবে। ’ জানা যায়, নিউ ইয়র্কের বাড়িতে গত সপ্তাহের বেশি সময় ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের নিয়ে বিতর্কের প্রস্তুতি নিয়েছেন

হিলারি।

এদিকে রিপাবলিকান পার্টির সাবেক সিনেটর জুড গ্রেগ মনে করেন, কেবল তাত্ক্ষণিক ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প এগোচ্ছেন না, তাঁর বড় ধরনের প্রস্তুতি আছে। দলের নেতাদের কথা হচ্ছে, ১৬ জন রিপাবলিকান প্রার্থীকে তাত্ক্ষণিক কথা বলার দক্ষতায় ঘায়েল করেছেন ট্রাম্প। তাই দুরু দুরু বুকে নয়, আত্মবিশ্বাসে ফুটতে ফুটতেই বিতর্কের মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

এই বিতর্ক নিয়ে ভোটারদের মাঝে আরো একটি কারণে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। এবারের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর দুজনই রয়েছেন ইমেজ সংকটে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে হিলারি কিংবা ট্রাম্প কেউই তাঁদের ইমেজ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হননি। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার এবারের নির্বাচনী প্রচারণাকে সাম্প্রতিককালের মধ্যে সর্বাপেক্ষা নেতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন। দেশের অর্ধেকেরও বেশি ভোটার দুই প্রার্থীর প্রতি অনেকটাই আস্থাহীন ও আবেগশূন্য। নিবন্ধিত ভোটারদের অনেকেরই বিশ্বাস, দুই প্রার্থীর কেউই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পরিপূর্ণ অর্থে নিরাপদ নন। শুধু মন্দের ভালো হিসেবে তাঁদের একজনকে বেছে নিতে হবে। আর অবস্থা এখন এমন এক স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, বিতর্কগুলোতে যিনি ভালো করবেন, শেষ হাসিটি তাঁরই হবে।

 

লেখক : ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার ওয়াশিংটন শাখার সম্পাদক। লিখেছেন টেলিগ্রাফে


মন্তব্য