kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পবিত্র কোরআনের আলো

জালিমদের প্রতি নমনীয়তা নয়

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জালিমদের প্রতি নমনীয়তা নয়

১১৩. যারা সীমা লঙ্ঘন করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। অন্যথায় (জাহান্নামের) আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে।

এ অবস্থায় আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক থাকবে না। আর তোমাদের সাহায্যও করা হবে না। [সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৩ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে ধর্মীয় বিধানের ওপর অবিচল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ আয়াতে বলা হয়েছে, ইমানদাররা যেন জালিমদের প্রতি ঝুঁকে না পড়ে। তাদের একান্ত বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে। আল্লাহই মুসলমানদের একমাত্র সাহায্যকারী। তাই জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অর্থ হচ্ছে, দুনিয়ায় লাঞ্ছনা ও পরকালের শাস্তি অনিবার্য করে তোলা।

‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’—এ নীতিবাক্যটি সর্বজনবিদিত। পবিত্র কোরআনে বহু স্থানে সত্কর্মপরায়ণদের সঙ্গে চলাফেরা ও বন্ধুত্ব স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো। ’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ১১৯)

সত্কর্মপরায়ণদের সঙ্গে থাকার পাশাপাশি কোরআনে অসৎ সঙ্গ ত্যাগের প্রতিও বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যখন তুমি দেখবে, তারা আমার আয়াত নিয়ে উপহাস করছে, তখন তুমি তাদের কাছ থেকে সরে যাও, যে পর্যন্ত না তারা অন্য প্রসঙ্গে প্রবৃত্ত হয়। শয়তান যদি তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর জালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে বসবে না। তাদের যখন বিচার হবে, তখন পরহেজগারদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু উপদেশ দেওয়া তাদের দায়িত্ব, যাতে তারাও (ধর্মবিদ্বেষীরা) তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে। ’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ৬৮-৬৯)

ইমাম আবু বকর জাস্সাস (রহ.) বলেন, ‘যে মজলিসে শরিয়তবিরোধী কথাবার্তা ও কাজকর্ম হয়, সামর্থ্য থাকলে তা প্রতিহত করবে, অন্যথায় সে মজলিস ত্যাগ করবে। ’ (আহকামুল কোরআন) হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) একবার মদ্যপায়ী কয়েকজনের সঙ্গে অমদ্যপায়ী এক ব্যক্তিকে দেখেন। তাদের সংস্রবে থাকার অপরাধে তিনি তাকেও শাস্তি দিয়েছেন।

আলোচ্য আয়াতে জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। জালিম কে—এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, যে জুলুম করে সে-ই জালিম। তাহলে জুলুমের সংজ্ঞা কী? সাধারণত যেকোনো অন্যায় ও অবিচারকেই জুলুম বলা হয়। আল্লামা ওহবা জুহাইলি (রহ.) লিখেছেন, আলোচ্য আয়াতে জুলুম শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এ জুলুম কুফর, শিরকসহ সব ধরনের পাপাচারকে শামিল করে। এ ব্যাখ্যা অনুযায়ী পাপাচারীরাই জালিম। আয়াতে কাফির, মুশরিক, মুনাফিক, বেদআতি ও পাপীদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। জালিমদের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অর্থ কী? এ প্রসঙ্গে কাতাদা (রহ.) বলেন, ‘পাপীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে না। তাদের কথামতো চলবে না। ’

আবুল আলিয়া (রহ.) বলেন, ‘তাদের কার্যকলাপ ও কথাবার্তা পছন্দ করবে না। ’ (কুরতুবি)

সুদ্দি (রহ.)-এর মতে এর ব্যাখ্যা হলো, ‘জালিমদের অন্যায় কাজে সম্মতি দেবে না ও নীরবতা অবলম্বন করবে না। ’ (মা’আরেফুল কোরআন)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ


মন্তব্য